নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে অভিনেতা ফারুক আহমেদের সম্পর্ক ছিল শুধু সহকর্মীর নয়, ছিল গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার। প্রয়াত এই লেখকের প্রয়াণ দিবসে সেই স্মৃতিই নতুন করে সামনে আনলেন জনপ্রিয় অভিনেতা।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ফারুক আহমেদ। সেখানে তিনি শিরোনাম লেখেন, ‘আমার বেদনার নাম হুমায়ূন আহমেদ।’
পোস্টে ফারুক জানান, অনেকদিন পর বুকভরা কষ্ট নিয়ে তিনি নুহাশপল্লীতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে হুমায়ূন আহমেদের ঘরের দিকে ছুটে যান। মুহূর্তের জন্য তার মনে হয়েছিল, ড্রয়িংরুমে বসে হয়তো হুমায়ূন আহমেদ নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখছেন। কিন্তু বাস্তবে অপেক্ষা করছিল নিঃসঙ্গতা।
ফারুক লেখেন, আমি ড্রাইভারকে নিয়ে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশে রওয়ান দিলাম। গাড়ি যথা সময়ে নুহাশ পল্লীর গেটের সামনে এসে থামলো। আমি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে হুমায়ূন ভাইয়ের রুমের দিকে গেলাম। আমার মনে হলো হুমায়ূন ভাই ড্রয়িং রুমে বসে নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখছেন। কিন্তু না শূন্য রুম। হুমায়ূন ভাই নেই। হিমু, মিসির আলির কালজয়ী লেখক সেখানে নেই। বিষণ্ণ মনে হাঁটত হাঁটতে দিঘি লীলাবতীর ঘাটে গেলোম। শান বাঁধানো ঘাট, আগের মতই আছে। পুকুরে নিস্তরঙ্গ পানি। হাঁসেরা খেলা করছে। হুমায়ূন ভাই নেই।
স্মৃতিচারণায় উঠে আসে অভিনয়জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তও। নুহাশপল্লীর কদমগাছের কথা উল্লেখ করে ফারুক জানান, এই গাছেই একসময় উঠে অভিনয় করেছিলেন তিনি। নিচে দাঁড়িয়ে হুমায়ূন আহমেদ তাকে বলেছিলেন, ফারুক, আরও মজা করে ডায়ালগ ডেলিভারি দাও।
ফারুকের ভাষায়, আজ সেই কদমগাছ আরও বড় হয়েছে, ফুলে ভরে গেছে। চারপাশে সবকিছুই প্রায় আগের মতো আছে, শুধু হুমায়ূন আহমেদ আর নেই।
নুহাশপল্লী থেকে ফেরার পথেও স্মৃতির ভার তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। শালবনের ভেতর দিয়ে ঢাকার পথে ফিরতে ফিরতে বুকভরা বেদনায় তার চোখ ভিজে ওঠে। ফারুক আবেগঘন হয়ে লেখেন, আমার দু’চোখ ভিজে গেল নোনা পানিতে। শাল বনের কোন এক বাড়ি থেকে গান বাজছে- নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে, রয়েছো নয়নে নয়নে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। দেশের সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রে তার অবদান আজও সমানভাবে স্মরণীয়। তার লেখা ও পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি কাজ করা অভিনেতাদের একজন ফারুক আহমেদ। কাজের সম্পর্কের বাইরেও দুজনের মধ্যে গড়ে উঠেছিল গভীর সখ্য। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি বইও লিখেছেন এই অভিনেতা।
ডিএ
