দেশের দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর এক সপ্তাহের পসরা সাজিয়েছে মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স। তাদের বিভিন্ন শাখায় শুক্রবার থেকে একযোগে চলবে বিশ্ব কাঁপানো চারটি সিনেমা। হাড় হিম করা অলৌকিক হরর, স্নায়ু-উত্তেজক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, খুদে বিজ্ঞানীদের টাইম-ট্রাভেল অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে জেমস ক্যামেরনের প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বখ্যাত গ্র্যামিজয়ী পপ তারকার ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) লাইভ কনসার্ট ফিল্ম—কী নেই এই তালিকায়!
চার ছবির মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘এভিড ডেড’-এর ষষ্ঠ কিস্তি ‘এভিল ডেড বার্ন’। এটি বক্স অফিসে সফল ‘এভিল ডেড রাইজ’-এর সরাসরি সিক্যুয়েল, পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক এবং প্রযোজনায় স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত এই অলৌকিক থ্রিলারটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে, যে তার স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর মানসিক সান্ত্বনার খোঁজে এক প্রত্যন্ত নির্জন বাড়িতে তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তাদের এই পারিবারিক মিলনমেলা মুহূর্তেই চরম দুঃস্বপ্নে রূপ নেয় যখন ‘বুক অব দ্য ডেড’-এর অভিশপ্ত ডেমোনিক শক্তি জাগ্রত হয় এবং একে একে পরিবারের সবাই রক্তপিপাসু ‘ডেডাইটস’-এ পরিণত হতে শুরু করে। রক্তের বন্যা ও হাড়হিম করা স্পেশাল ইফেক্টস নিয়ে বছরের সবচেয়ে ভয়ংকর সিনেমা হতে যাচ্ছে এটি।
দ্বিতীয় ছবিটি ‘প্যাসেঞ্জার’। আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও। সাইকোলজিক্যাল হরর ও সাসপেন্স থ্রিলারটি এক তরুণ জুটি ম্যাডি এবং টাইলারকে ঘিরে, যারা তাদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ত জীবন ছেড়ে ভ্যান লাইফ রোড ট্রিপ অ্যাডভেঞ্চারে বের হয়। যাত্রাপথে এক নির্জন মহাসড়কে তারা একটি অত্যন্ত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এবং আহত এক আরোহীকে বাঁচানোর চেষ্টা করার পর থেকেই আসল আতঙ্ক শুরু হয়। তারা বুঝতে পারে দুর্ঘটনাস্থল থেকে একা ফিরে আসেনি, বরং ‘প্যাসেঞ্জার’ নামক এক অতিপ্রাকৃত ডেমোনিক সত্তা তাদের পিছু নিয়েছে। গাড়ি কিংবা ভ্যানের ভেতর আটকা পড়া অবস্থায় এক অজানা আতঙ্কের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার এই লড়াই দর্শকদের পুরোটা সময় সিটের কোনায় বসিয়ে রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয় ছবি ‘টাইম হোপার্স : দ্য সিল্ক রোড’। শিশু-কিশোর এবং অ্যানিমেশনপ্রেমী পরিবারের জন্য দারুণ এক সিনেমা। সায়েন্স ফিকশন ও অ্যানিমেটেড ফ্যামিলি অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতের ২০৫০ সালের গল্প নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ছবির কাহিনীতে দেখানো হয় ‘আকলি একাডেমি’র ৪ জন অত্যন্ত প্রতিভাবান শিশু শিক্ষার্থী ভুলবশত একটি উন্নত টাইম-ট্রাভেল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতীতে—প্রাচীন সিল্ক রোডের যুগে (৮২৫ খ্রিস্টাব্দের বাগদাদে) গিয়ে আছড়ে পড়ে। সেখানে ফাসিদ নামের এক দুষ্ট ও ক্ষ্যাপা রসায়নবিদ টাইম-ট্রাভেলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কার মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করলে, আধুনিক বিজ্ঞানকে রক্ষা করতে এবং ইতিহাসে স্থান পাওয়া মহান বিজ্ঞানীদের বাঁচাতে এই চার খুদে ‘টাইম হোপার’ এক দুর্দান্ত অভিযানে নেমে পড়ে।
আর চতুর্থ ছবি হলো তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বিলি আইলিশের কনসার্ট ফিল্ম। নাম ‘বিলি আইলিশ–হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট : দ্য ট্যুর’। এটি বানিয়েছেন ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’ খ্যাত জেমস ক্যামেরন। থ্রিডি ছবিটি পরিবেশন করছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স। অস্কার ও গ্র্যামি জয়ী বিলি আইলিশ এবং ফিনিয়াস ও'কনেলের এই সিনেমাটি মূলত বিশ্ব কাঁপানো ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ ট্যুরের ম্যানচেস্টারের শো-কে কেন্দ্র করে নির্মিত। জেমস ক্যামেরনের অত্যাধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থ্রিডি ক্যামেরা টেকনোলজির মাধ্যমে ধারণ করা এই সিনেমাটি দেখলে দর্শকদের মনে হবে তারা কনসার্টের ভিআইপি জোনে দাঁড়িয়ে সরাসরি লাইভ পারফর্ম্যান্স উপভোগ করছেন।
রোমাঞ্চকর এই আয়োজন নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের দর্শকদের একদম নতুন এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই দিনে রোমাঞ্চ, ভয়, বিজ্ঞান এবং মিউজিকের এই রকম দুর্দান্ত কম্বিনেশন স্টার সিনেপ্লেক্সে আগে কখনো আসেনি। আমরা আশা করি আগামীকাল ২৪ জুলাই থেকে দর্শক তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এক অবিশ্বাস্য সিনেম্যাটিক সপ্তাহ কাটাবেন।’
কেআই
