ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন অস্কারজয়ী হলিউড নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। এবার তার নজর কেড়েছেন কিংবদন্তি বাঙালি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়। সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট’-এ গিয়ে সত্যজিৎ রায়ের ‘অপু ট্রিলজি’ সংগ্রহ করেন তিনি। এ সময় ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করে নোলান জানান, ছবিটি তার মন ছুঁয়ে গেছে বা বলতে গেলে মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট হলো ক্রাইটেরিয়ন কালেকশনের একটি পরিচিত স্থান, যেখানে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এক হাজারেরও বেশি ক্লাসিক সিনেমার বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও শিল্পীরা প্রায়ই এখানে আসেন এবং তাদের চলচ্চিত্র ভাবনাকে প্রভাবিত করা সিনেমাগুলো নিয়ে কথা বলেন।
সম্প্রতি ক্রাইটেরিয়ন কালেকশনের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, নোলান তাক থেকে সিনেমা খুঁজছেন এবং একপর্যায়ে তিনি ‘অপু ট্রিলজি’ হাতে নেন। সিনেমাগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের অপু ট্রিলজি। ট্রিলজিটি শুরু হয়েছে ‘পথের পাঁচালী’ দিয়ে, যা একটি একেবারেই অবিশ্বাস্য সিনেমা। এটি রীতিমতো আমার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আমি এখনো ট্রিলজির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব দেখিনি। তাই সিনেমাগুলো সংগ্রহ করে গল্পটি শেষ করার জন্য আমি বেশ রোমাঞ্চিত।
১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পথের পাঁচালী’ হলো ‘অপু ট্রিলজি’র প্রথম সিনেমা। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত বাংলা ভাষার এই সিনেমায় গ্রামীণ বাংলার দরিদ্র পরিবারের জীবন সংগ্রাম ও ছোট্ট অপুর বেড়ে ওঠা তুলে ধরা হয়েছে। সহজ-সরল গল্প বলা, আবেগের গভীরতা ও বাস্তবসম্মত চিত্রায়নের জন্য সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং এটিকে এখনো সর্বকালের অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ট্রিলজির পরের দুই কিস্তি হলো ১৯৫৬ সালের ‘অপরাজিত’ এবং ১৯৫৯ সালের ‘অপুর সংসার’।
উপমহাদেশের সঙ্গে ক্রিস্টোফার নোলানের এই সংযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি নিজের আইম্যাক্স এপিক সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-এর প্রচারণায় তিনি ভারত সফর করেছেন, যা ছিল দেশটিতে তার তৃতীয় আনুষ্ঠানিক সফর।
ডিএ
