পাঁচ দশক আগে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের ফুটবল অঙ্গনের চিত্র কেমন ছিল, তারই চিত্রায়ণ হতে যাচ্ছে। গল্পটা স্বাধীন বাংলার ফুটবল টিম নিয়ে; চলচ্চিত্রটির নাম 'ঠিকানা বাংলাদেশ'। শুটিং শুরু হয়েছিল বছর তিনেক আগে; সরকারি অনুদানের সিনেমা। মাঝে অনেকদিন পেরিয়েছে ঠিকই, অবশেষে শোনা গেল চলচ্চিত্রটি মুক্তির খবর।
শনিবার (২৫ জুলাই) খবর পাওয়া গেল, খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে আসবে 'ঠিকানা বাংলাদেশ'। সেই সঙ্গে দেখা গেল দর্শকমহলে আগ্রহের পারদ। স্পোর্টস ড্রামা ঘরানার এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অনম বিশ্বাস। অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া, রেজওয়ান পারভেজ, ইরফান সাজ্জাদের মতো অভিনেতারা।
সিনেমাটির ফার্স্ট লুক শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে নির্মাতা অনম বিশ্বাস লিখেছেন, অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝার ভেতর দিয়ে “ঠিকানা বাংলাদেশ” প্রায় শেষের পথে। তাই ২৫ জুলাই, ২০২৬ - আমরা দর্শকদের সাথে কথা বলা শুরু করছি। ৭১ এর এই দিনেই এক রক্ত-গরম ফুটবল ম্যাচের ভেতর দিয়ে শুরু হয়েছিলো স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গল্প। প্রথমবারের মতো সেদিন লাল সবুজের পতাকা উড়েছিলো দেশের বাইরে। আমাদের কথোপকথন শুরু হোক এই ঐতিহাসিক দিনে।
এই অ্যানাউন্সমেন্ট এর পর যখন দর্শকদের আগ্রহ দেখা গেল, তখন সিনেমাটি নিয়ে খানিকটা আলাপ হয় এই সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা রেজওয়ান পারভেজ-এর সঙ্গে। ঢাকা পোস্টকে তিনি এই সিনেমা নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন।
রেজওয়ান পারভেজ বললেন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম নিয়ে এই গল্প, তা দিয়ে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে। তবে আমার চরিত্রটি কি হবে, তা এখনই বলতে চাইছি না। পরিচালক অনম বিশ্বাসের সঙ্গে আমি এর আগেও বিজ্ঞাপন ও বেশ কয়েকটা ফিকশনে কাজ করেছি। একটা সিরিজ করেছি। মানে, দাদার সঙ্গে কাজের দিক থেকে আমার বন্ডিংটা খুবই ভালো; কাজের অভিজ্ঞতাও চমৎকার। খুবই ঠাণ্ডা মাথার নির্মাতা, খুব চমৎকার করে চরিত্রটা বুঝিয়ে দিতে পারেন।

এ ধরনের কাজকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে না ধরার পেছনে গুণী নির্মাতাদের কৃতিত্ব বলে মনে করেন এই অভিনেতা। তার কথায়, গুণী নির্মাতাদের সাথে কাজ করার একটা সুবিধা হচ্ছে, ওনারা আর্টিস্টকে স্পেস দেন, তাদের ইমোশনটা বোঝেন। তারা আর্টিস্টের সাইকোলজিও বোঝেন। কাজেই, এমন সমন্বয় থাকায় চ্যালেঞ্জিং ব্যাপারটা আসে না বললেই চলে।
এই সিনেমায় নিজের অভিনয় নিয়ে রেজওয়ান পারভেজ আরও বলেন, এই সিনেমাটা তো আসলে ২০২২ সালে শুটিং হয়েছে। এখন যদি শুটিং হতো হয়তো এক্টিং এর ভাবনাটা একটু অন্যরকম হতে পারতো। তিন বছর আগের অভিনয়ের ভাবনার এখনকার অভিনয়ের ভাবনা তো আমার সেম না। সিনেমাটা শুটিং এখন হলে হয়তো একটু অন্যভাবে ভাবতাম চরিত্রটা নিয়ে। তবে আশা করছি আমার কাজ, চরিত্র আপনাদের ভালো লাগবে। সকলকে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ থাকল।
উল্লেখ্য, ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমার পোস্টারে দেখা গেছে, ফুটবল হাতে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছেন একজন ফুটবলার, যিনি রয়েছেন এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী বীরের অবয়বে। ব্যাকগ্রাউন্ডে যুদ্ধবিধ্বস্ত ১৯৭১ সালের নদীমাতৃক বাংলাদেশের আবহ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে একপাশে সগর্বে উড়ছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। আকাশে চক্কর দিচ্ছে যুদ্ধবিমান এবং দিগন্তে লোকালয় থেকে ভেসে আসছে যুদ্ধের ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সার্বিকভাবে পোস্টারটির এই চিত্রায়ণ দেশের মুক্তিযুদ্ধ, ফুটবল দলের আত্মত্যাগ এবং ঐতিহাসিক সংগ্রামের এক শক্তিশালী ও নাটকীয় আবহ তৈরি করেছে।
ডিএ
