বিজ্ঞাপন

কল্পনাও করিনি, এই বিদায়টা এত দীর্ঘ হবে : ডলি সায়ন্তনী

কল্পনাও করিনি, এই বিদায়টা এত দীর্ঘ হবে : ডলি সায়ন্তনী

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। দীর্ঘ দেড় বছর দেশের বাইরে অবস্থান করা এই সংগীতশিল্পী এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিদায়ের সময়টা এত দীর্ঘ হবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। মূলত কন্যাসন্তানের লেখাপড়া ও সুসংহত ভবিষ্যতের টানেই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন তিনি।

প্রবাসজীবনের দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার বিশেষ এই দিনে নিজের জীবনের কঠিন পরীক্ষা, বিশ্বাসভঙ্গ আর দেশের মাটিতে ফেরার ব্যাকুলতা তুলে ধরেছেন ভক্তদের সামনে। ফেসবুকে দেওয়া আবেগঘন পোস্টে ডলি লিখেছেন, “২০২৫ সালের এই দিনটায় যেদিন নিজের প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশের পথে রওনা দিয়েছিলাম। তখন কল্পনাও করিনি, এই বিদায়টা এত দীর্ঘ হবে।’’

‘‘ভাবিনি, বাস্তবতা মানুষকে এত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। তবে আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাকে যেখানেই রেখেছেন, তার অশেষ রহমতে ভালো আছি। মা-বাবার দোয়া, পরিবারের ভালোবাসা আর আপনাদের শুভকামনাই আমাকে প্রতিদিন শক্তি দেয়।”

May be an image of aircraft
ডলি সায়ন্তনী

নিজের দীর্ঘ সংগীত জীবনের অভিজ্ঞতা ও জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের কথা টেনে তিনি আরও লেখেন, “জীবনে কখনো কারও ক্ষতি করার চেষ্টা করিনি। সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। হয়তো অনেক মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেয়েছি, বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়েছি কিন্তু একটা জিনিস কখনো বদলায়নি আল্লাহ কখনো আমাকে নিরাশ করেননি। আজ প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল দেশের বাইরে। আমার এই প্রবাসজীবনের সবচেয়ে বড় কারণ আমার মেয়ের পড়াশোনা, তার ভবিষ্যৎ। আপনাদের সবার কাছে শুধু একটা অনুরোধ ওর জন্য, আমার জন্য দোয়া করবেন।”

দেশের প্রতি টান ও প্রবাসীদের মনের গভীর বেদনার কথা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “জানি না কবে আবার প্রিয় বাংলাদেশে ফিরতে পারব। মাঝে মাঝে দেশের জন্য মনটা এমনভাবে কাঁদে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এখন যখন কেউ বাংলাদেশ থেকে এসে দেখা করে, মনে হয় যেন একটু বাংলাদেশের গন্ধ, একটু বাংলাদেশের মাটি, একটু নিজের মানুষকে ছুঁয়ে দেখলাম।’’ 

শেষে লিখেছেন, ‘‘আমার মতো অসংখ্য প্রবাসী হয়তো এই অনুভূতিটা খুব ভালো করেই বুঝবেন। দূরত্ব যতই হোক, নিজের দেশের জন্য ভালোবাসা কখনো কমে না। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন, নিরাপদ রাখুন। আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আর আমি দোয়া করি, পৃথিবীর সব প্রবাসী একদিন যেন সুস্থ-সুন্দরভাবে তাদের প্রিয় মানুষের কাছে ফিরে যেতে পারেন।”

এমআইকে