বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী দুই পরিবার বচ্চন ও কাপুর। এক ছাদের নিচে দুই পরিবারের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছিল অভিষেক বচ্চন ও কারিশমা কাপুরের সম্পর্কের মাধ্যমে। প্রেম থেকে বাগদান সবকিছুই এগোচ্ছিল দারুণ সুবিন্যস্তভাবে। তবে ২০০৩ সালের গোড়াতেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত সেই অঘটন। হুট করেই ভেঙে যায় বলিউডের সবচেয়ে চর্চিত এই রাজকীয় বিয়ে।
এত বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ভক্তদের মনে প্রশ্ন সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন ভেঙেছিল অভিষেক-কারিশমার বিয়ে? সম্প্রতি সেই অতীত স্মৃতি ও বিয়ে ভাঙার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত হিন্দি চলচ্চিত্র নির্মাতা সুনিল দর্শন।
অভিষেক ও কারিশমার বাগদান ভেঙে যাওয়ার সেই সংকটময় সময়ে কাপুর পরিবারেই উপস্থিত ছিলেন সুনিল দর্শন। ‘হিন্দি রাশ’-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সেই দিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। সুনিলের মতে, এই বিচ্ছেদ আসলে পরিস্থিতির শিকার এবং এর জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা যায় না।
অভিষেক-কারিশমার প্রেমের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সুনিল বলেন, ‘কারিশমা কাপুর এবং অভিষেক বচ্চনের প্রেম 'বন্ড অফ লাভ' (২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র) এর শুটিং শুরু হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয়েছিল এবং সেটা সময়ের সঙ্গে গভীর হয়ে যায়। 'হাঁ ম্যায়নে ভি প্যায়ার কিয়া হ্যায়' ছবির সময় বিয়ের কথা ভাবেন কারিশা-অভিষেক।এই কাপল ছিল একদম আদর্শ। 'হাঁ ম্যায়নে ভি প্যায়ার কিয়া হ্যায়' ছবির সময় বিয়ের কথা ভাবেন করিশ্মা-অভিষেক। অমিতাভ বচ্চনের ছেলে এবং রাজ কাপুরের নাতনি, একদম আদর্শ জুটি ছিল তাদের।’
সুনিল দর্শনের ভাষ্য, ‘সেদিন আমি সেখানে ছিলাম। সেদিন এমন কিছুই হয়নি যে বিয়ে ভেঙে যাবে। এরপরেই কারিশমা নববর্ষ উদযাপনের জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন, এবং হঠাৎ শুনলাম যে তিনি সঞ্জয়ের সঙ্গে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন হটাত বিয়ে করলেন বুঝতেই পারিনি। এই বিয়ে ভাঙার জন্য কেউ দায়ি নয়। মানুষ বাবিতা জি, জয়া জি, কারিশমা অথবা অভিষেককে দায়ি মনে করে, তবে আমি মনে করি যে এই বিষয়গুলোকে ভাগ্যর ওপর ছেড়ে দিতে হবে। প্রেম বিভিন্ন মানুষের জন্য বিভিন্নভাবে হয়, এবং প্রত্যেক সম্পর্কের ডাইনামিক আলাদা হয়।’
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের ৬০তম জন্মদিনে ধুমধাম করে অভিষেক ও কারিশমার বাগদানের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ সেই বাগদানের মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, ২০০৩ সালের শুরুতেই আকস্মিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। তবে দীর্ঘ সময়েও দুই পরিবারের কোনো পক্ষই এই বিয়ে ভাঙার আসল কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি।
এমআইকে
