বিজ্ঞাপন

বন্ধুত্বের অপূর্ব আখ্যান এই ১০ সিনেমায়, দেখেছেন কি?

বন্ধুত্বের অপূর্ব আখ্যান এই ১০ সিনেমায়, দেখেছেন কি?

নির্দিষ্ট কোনো ছকে বা সংজ্ঞায় বন্ধুত্বকে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি এমন এক বন্ধন, এমন এক অনুভূতি, যেটা প্রাকৃতিকভাবেই অনুভূত হয় মানুষের মনে। আর সে অনুভূতি জীবনকে রাঙিয়ে রাখে, এগিয়ে দেয়। আজ সেই বন্ধুত্বেরই দিন।

বন্ধুত্ব নিয়ে অনন্য সব সিনেমা নির্মিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। সেখান থেকে সেরা সিনেমা বাছাই করা মুশকিলই বটে। তবু বন্ধু দিবসে হলিউড ও বলিউডের ১০টি জনপ্রিয় সিনেমার কথা রইল এ আয়োজনে। বন্ধু দিবস উদযাপনে সেগুলো দেখে নিতে পারেন…

বলিউড

১. শোলে : বন্ধুত্বের আরেক নাম জয়-বীরু

বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ উঠলে হিন্দি সিনেমায় যে জুটির নাম সবার আগে আসে, তারা হলো জয় ও ভীরু। রমেশ সিপ্পির ‘শোলে’ (১৯৭৫) ভারতীয় সিনেমার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। সিনেমায় জয় ও বীরু চরিত্রে অমিতাভ বচ্চন ও ধর্মেন্দ্রর অভিনয় যুগের পালাবদলে বন্ধুত্বের কালজয়ী আখ্যান হয়ে উঠেছে। গল্পে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঠাকুর বলদেব সিং ডাকাত গব্বর সিংকে ধরার জন্য দুই অপরাধী জয় ও ভীরুকে ভাড়া করে। কিন্তু প্রতিশোধ, অ্যাকশন ও রোমান্সের এই গল্পের মধ্যেও দর্শকের মনে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলে দুই বন্ধুর সম্পর্ক। সিনেমাটির গান ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বন্ধুত্বের থিম সং হয়ে আছে।

'শোলে' সিনেমার দুই বন্ধু

২. দিল চাহতা হ্যায় : সময় বদলায়, বন্ধুত্ব হারায় না

২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’। একবিংশ শতকে বলিউডের অন্যতম নন্দিত সিনেমা হয়ে উঠেছে এটি। এর মূল কারণ সিনেমার গল্প আর শিল্পীদের অভিনয়। সিনেমায় আমির খান, সাইফ আলী খান ও অক্ষয় খান্না অভিনীত ছবিটির তিন বন্ধু—আকাশ, সমীর ও সিদ্ধার্থ তিন ধরনের মানুষ। তাদের জীবন, প্রেম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাও আলাদা।

কলেজজীবনের উচ্ছ্বাস থেকে তারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশ করে, তখন বন্ধুত্বের সমীকরণেও পরিবর্তন আসে। প্রেম, ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত পছন্দ ও ভুল বোঝাবুঝি তাদের আলাদা করে দেয়। কিন্তু দূরত্ব যতই তৈরি হোক, বন্ধুত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। সেটাই দেখানো হয় সিনেমায়।

'দিল চাহতা হ্যায়' সিনেমার দৃশ্য

৩. থ্রি ইডিয়টস : অল ইজ ওয়েল

জীবনে যত সমস্যাই আসুক, মনে আত্মবিশ্বাস রেখে বলতে হবে, ‘অল ইজ ওয়েল’। একাধিক প্রজন্মকে এ বাক্য শিখিয়ে দিয়েছে রাজকুমার হিরানির ‘থ্রি ইডিয়টস’। ভারতীয় সিনেমায় বন্ধুত্বকে সবচেয়ে সুন্দর এবং প্রভাবশালী রূপে দেখানো হয়েছে এ সিনেমায়। র‍্যাঞ্চো, রাজু ও ফারহান চরিত্রে যথাক্রমে আমির খান, শরমন যোশী ও আর মাধবনকে দর্শক শুধু ভালোই বাসেনি, নিজেদের মধ্যেও ধারণ করে নিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তাদের পড়াশোনা, হাসি-ঠাট্টা, স্বপ্ন, ব্যর্থতা আর সবশেষে সাফল্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে সিনেমাটির গল্প।

'থ্রি ইডিয়টস'-এর তিন তারকা

৪. জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা : বন্ধুত্ব আর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প

২০১১ সালের সিনেমা এটি। বানিয়েছেন জোয়া আখতার। অভিনয়ে হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার ও অভয় দেওল। তারা অভিনয় করেছেন তিন বন্ধু কবীর, ইমরান ও অর্জুন চরিত্রে। এক বন্ধুর ব্যাচেলর পার্টি উদযাপনে শুরু হওয়া এক ভ্রমণ বদলে দেয় তাদের সবার জীবনের গতিপথ আর চিন্তাভাবনা। নানা মত-দ্বিমতের মধ্যেও তারা খুঁজে পায় বন্ধুত্বের আসল মানে। প্রাপ্তবয়সে বন্ধুত্বের রঙ কেমন হয়, কিভাবে সেটার প্রভাব বাকি জীবনেও পড়ে, তারই ছাপ দেখা যায় এই সিনেমায়।

'জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা'র দৃশ্য

৫. ছিছোরে : পরাজয়েই শেষ নয়

বলিউডে বন্ধুত্ব নিয়ে সর্বশেষ সফল ও দর্শকনন্দিত সিনেমা ‘ছিছোরে’। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় নিতেশ তিওয়ারির সিনেমাটি। একঝাঁক তরুণকে ঘিরে সিনেমার গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন সুশান্ত সিং রাজপুত, শ্রদ্ধা কাপুর, বরুণ শর্মা, তাহির রাজ ভাসিন, তুষার পাণ্ডে প্রমুখ। ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টায় বাকরুদ্ধ হয় অনিরুদ্ধ। অতঃপর ছেলেকে শোনায় তার কলেজজীবনের গল্প; যেখানে তাকে ও তার বন্ধুদের ‘লুজার’ বলা হতো। আর সেই পরাজয়ের গ্লানি মুছে তারা জীবনে ঠিকই সফল হয়েছে। এর পেছনে মূল শক্তি ছিল বন্ধুত্ব। হাসি, আবেগ আর স্বপ্নের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে সিনেমাটির গল্পে।

'ছিছোরে' সিনেমার দৃশ্য

হলিউড

১. স্ট্যান্ড বাই মি : শৈশবের বন্ধুত্বের শেষ বিকেল

বন্ধুত্ব নিয়ে নির্মিত হলিউডের সবচেয়ে স্মরণীয় সিনেমাগুলোর একটি ‘স্ট্যান্ড বাই মি’ (১৯৮৬)। রব রেইনার পরিচালিত সিনেমাটি স্টিফেন কিংয়ের নভেলা ‘দ্য বডি’ অবলম্বনে নির্মিত। গল্পে চার বন্ধু গর্ডি, ক্রিস, টেডি ও ভার্ন একটি নিখোঁজ কিশোরের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়। দুই দিনের সেই যাত্রা ক্রমেই হয়ে ওঠে তাদের শৈশবের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চার বন্ধুর প্রত্যেকেরই আলাদা ভয়, পারিবারিক সমস্যা ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা আছে। কিন্তু একসঙ্গে পথ চলতে গিয়ে তারা একে অন্যের ওপর নির্ভর করতে শেখে। ছবিটির আবেগ সবচেয়ে বেশি কাজ করে কারণ দর্শক জানে, এই শৈশব চিরকাল থাকবে না। একদিন সবাই বড় হয়ে যাবে, আলাদা হয়ে যাবে, নিজের নিজের জীবনে চলে যাবে।

'স্ট্যান্ড বাই মি' সিনেমার দৃশ্য

২. দ্য হ্যাংওভার : বন্ধুত্বের পাগলাটে পরীক্ষা

বন্ধুত্বের গল্প সব সময় আবেগপ্রবণ হবে, এমন তো নয়। ভিন্ন স্বাদের সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘দ্য হ্যাংওভার’। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া টড ফিলিপসের এই কমেডি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ব্র্যাডলি কুপার, এড হেলমস, জ্যাক গ্যালিফিয়ানাকিস ও জাস্টিন বার্থা। বন্ধু ডাগের ব্যাচেলর পার্টি উদ্‌যাপন করতে ফিল, স্টু ও অ্যালান লাস ভেগাসে যায়। কিন্তু পরদিন ঘুম থেকে উঠে তারা দেখতে পায়—আগের রাতের কোনো স্মৃতিই তাদের নেই। আরও ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ডাগও নিখোঁজ। এরপর শুরু হয় আগের রাতের ঘটনা একে একে জোড়া লাগানোর চেষ্টা। এ সিনেমায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বন্ধু যতই পাগলামি করুক, তাকে বিপদে ফেলে রাখা যাবে না।

'দ্য হ্যাংওভার'-এর দৃশ্য

৩. টয় স্টোরি : বন্ধু হতে পারে খেলনাও

বন্ধুত্বের গল্পে মানুষই যে সবসময় প্রধান চরিত্র হবে, এমন তো নয়। ১৯৯৫ সালের পিক্সার অ্যানিমেশন ‘টয় স্টোরি’ সেটাই প্রমাণ করেছে। গল্পের কেন্দ্রে কাউবয় খেলনা উডি ও স্পেস রেঞ্জার বাজ লাইটইয়ার। অ্যান্ডির প্রিয় খেলনা হিসেবে উডি নিজের জায়গা নিয়ে নিরাপদ ছিল। কিন্তু জন্মদিনে বাজ এসে হাজির হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথমে উডি ও বাজ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে। কিন্তু অ্যান্ডির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর তাদের একসঙ্গে বাঁচতে হয়। সেই বাধ্যতামূলক জোটই ধীরে ধীরে পরিণত হয় সত্যিকারের বন্ধুত্বে। এই ছবির সৌন্দর্য হলো, বন্ধুত্ব এখানে শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিয়ে। অতঃপর একে-অপরের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে।

'টয় স্টোরি'র দৃশ্য

৪. থেলমা অ্যান্ড লুইস : দুই নারীর বন্ধুত্ব আর এক ব্যতিক্রম যাত্রা

আলাদা করে নারী বন্ধুত্বের গল্পের মধ্যে ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’ অনন্য উদাহরণ। রাইডলি স্কটের এই সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৯১ সালে। এটি সে বছর কান উৎসবেও প্রদর্শিত হয়। আবার ২০২৬-এর কান উৎসবের মূল পোস্টারে ব্যবহৃত হয়েছে এই সিনেমারই দৃশ্য। সিনেমার কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেন জিনা ডেভিস ও সুসান সারান্ডন। গল্পে দেখা যায়, থেলমা ও লুইস একসঙ্গে একটি ছোট ভ্রমণে বের হয়। কিন্তু একটি ভয়াবহ ঘটনার পর তাদের সেই সফর রূপ নেয় পালিয়ে বেড়ানোর অভিযানে। পরিস্থিতি যত কঠিন হয়, তাদের বন্ধুত্বও তত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’ সিনেমার দুই বন্ধু

৫. গুড উইল হান্টিং : দূরে গিয়েও এগিয়ে দেয় বন্ধু

বন্ধুত্বের অন্যতম সুন্দর উপস্থাপনা দেখা গেছে গাস ভ্যান স্যান্টের ‘গুড উইল হান্টিং’-এ। ১৯৯৭ সালের এ সিনেমায় আছেন রবিন উইলিয়ামস; আর দুই বন্ধুর ভূমিকায় ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেক। বলা জরুরি, ম্যাট ও বেন বাস্তব জীবনেও ছোটবেলা থেকে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

মেধাবী তরুণ উইলের প্রতিভা থাকলেও নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় না। বন্ধু চাকী তাকে বোঝে, সে জানে, বর্তমান পরিবেশের বাইরে উইলের জন্য বিশাল জীবন অপেক্ষা করছে। এজন্য চাকি সবসময় উৎসাহ দেয়, উইল যেন তার কাছ থেকে দূরে যায়। এই আলাদা হওয়ার মধ্য দিয়েও যে বন্ধুত্বে অসাধারণ ভূমিকা রাখা যায়, তা দেখা গেছে সিনেমাটিতে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেক। দুজনেই যৌথভাবে এর জন্য সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের অস্কার পেয়েছিলেন।

'গুড উইল হান্টিং'-এর দৃশ্য

কেআই