বিজ্ঞাপন

এতো ভালোবাসা পাচ্ছি, বলে বোঝানো যাবে না : মালাইকা

এতো ভালোবাসা পাচ্ছি, বলে বোঝানো যাবে না : মালাইকা

ছোট পর্দার সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী মালাইকা চৌধুরী। বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে শোবিজে আত্মপ্রকাশের পর নাটকে এসেও নজর কেড়েছেন। শিগগিরই মুক্তি পাবে তার নতুন নাটক ‘আমার রাজ্যে তুমি’, এতে জুটি বেঁধেছেন তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে। এ নাটকের সূত্র ধরে অভিনেত্রীর পথচলার গল্প শুনেছেন ইব্রাহিম জাহিদ

ঢাকা পোস্ট: ‘আমার রাজ্যে তুমি’ নাটকের বিষয়বস্তু কেমন? আর এতে আপনার চরিত্রটি কিরকম?

মালাইকা চৌধুরী : এতে আমার চরিত্রের নাম সাদিয়া জাহান বৃষ্টি। নাম ছাড়া চরিত্র নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে পারছি না, কারণ নাটকটি তো কিছুদিন পরেই রিলিজ হয়ে যাবে। রিলিজের পর সবাই দেখতে পারবেন। তবে এটুকুই বলব, এটি খুব সুন্দর একটি গল্প। গতানুগতিক কোনো প্রেমের গল্প নয়, বেশ গভীরতা আছে। অন্যসব রোমান্টিক গল্পের চেয়ে আলাদা। আশা করি দর্শকরা গল্পটা রিলেট করতে পারবেন। চরিত্রগুলো দেখে উপভোগ করবেন এবং মনে রাখবেন।

ঢাকা পোস্ট: তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে প্রথমবার জুটি বাঁধলেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?

মালাইকা চৌধুরী: ডেফিনেটলি অনেক ভালো। তৌসিফ ভাইয়া অনেক হেল্পফুল। আমি অভিনয়ে নতুন। এত গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগছে। সামনে যেন আরও ভালো কাজ উপহার দিতে পারি এবং সবার সাথেই কাজ করতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে।

‘আমার রাজ্যে তুমি’ নাটকের পোস্টারে তৌসিফ মাহবুব ও মালাইকা চৌধুরী

ঢাকা পোস্ট: শুটিং সেটে তৌসিফের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে? তার কাছ থেকে নতুন কিছু শিখলেন?

মালাইকা চৌধুরী: ভাইয়া আমাকে গল্পটা পড়তে, চরিত্রটা বুঝতে, কীভাবে ডায়লগ ডেলিভারি দিলে সবচেয়ে ভালো হবে বা সুন্দর লাগবে, এসব বিষয়ে সবসময় সাহায্য করেছেন। উনার সাথে কাজ করে খুবই ভালো লেগেছে। তিনি অনেক কো-অপারেটিভ, ফ্রেন্ডলি এবং হেল্পফুল।

ঢাকা পোস্ট: হঠাৎ বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়া, সেখান থেকে নাটকে আসা। দর্শকের সাড়াও পাচ্ছেন বেশ। পর্দার এই জীবনটা কেমন লাগছে?

মালাইকা চৌধুরী: আমার তো খুব ভালো লাগছে। দর্শকের এতো ভালোবাসা পাচ্ছি, বলে বোঝানো যাবে না! আমি অনেক কৃতজ্ঞ, এর চেয়ে আসলে ভালো কিছু হতে পারে না। আমি চাই দর্শকদের প্রতিনিয়ত ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে এবং তাদের এই ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে।

ঢাকা পোস্ট: অভিনয়ে না এলে কী করতেন?

মালাইকা চৌধুরী: সত্যি বলতে, এটা এখনো বলতে পারছি না! দেখা যাক, যেহেতু এখন অভিনয়টা করছি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এটাতেই মন দিতে চাই। যদি সব ভালো যায়, তবে অভিনয়টাই কন্টিনিউ করব। না হলে ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতেই ভাবব।

মালাইকা চৌধুরী

ঢাকা পোস্ট: অভিনয়ে বোন মেহজাবীন চৌধুরীর কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পান? 

মালাইকা চৌধুরী: আপু সব বিষয়ে অনেক সাপোর্ট করে। যখন আমি কোনো নতুন কাজের প্রস্তাব পাই বা গল্প পড়ি, তখন আপুকে বলি যে আমি এই কাজটা করতে চাচ্ছি। ও সবসময় গল্পগুলো দেখে। আমি যখন স্ক্রিপ্ট পড়ি, ও মন দিয়ে শোনে। আমি কী কাজ করছি, কেমন গল্প বা চরিত্র এসব নিয়ে ওর আগ্রহ সবসময়ই থাকে। ও অনেক ছোট ছোট বিষয় ধরিয়ে দেয়, যেমন ডায়লগ ডেলিভারি কীভাবে দিলে আরও নিখুঁত লাগবে। এসব ব্যাপারে আপু অনেক সাপোর্ট করে।

ঢাকা পোস্ট: আপনার অভিনীত নাটকগুলো পরিবারের সদস্যরা দেখেন? কী বলেন তারা? প্রশংসা নাকি সমালোচনা, কোনটা বেশি করেন?

মালাইকা চৌধুরী: আমার কাজগুলো উনারা নিয়মিত দেখেন। নাটক ইউটিউবে রিলিজ হওয়ার প্রথম দিনই সবাই বসে দেখে। পরিবারের এই সমর্থন দেখতে সত্যিই খুব আনন্দদায়ক। আপুকে যেভাবে তারা প্রথম থেকে সাপোর্ট করে এসেছে, আমাকেও ঠিক একই ভালোবাসা আর সাপোর্ট দিচ্ছে তাই আমি ভীষণ আনন্দিত। এমনও হয়, বেলা ১২ টায় যখন নাটক রিলিজ হয়, তখন হয়তো আমি ক্লাসে বা বাইরে থাকি। বাসায় এসে দেখি, ফ্যামিলির সবাই আমার নাটক দেখছে! আম্মু লিভিং রুমে দেখছে, আব্বু ফোনে দেখছে, আর সবাইকে বলছে ‘আমার ছোট মেয়ের নাটক রিলিজ হয়েছে, দেখো!’ এসব ছোট ছোট বিষয় ও অনুভূতিগুলো আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দেয়।

মালাইকা চৌধুরী

ঢাকা পোস্ট: নতুন আর কী নাটক হাতে আছে? এছাড়া ওয়েব কনটেন্ট বা সিনেমা নিয়ে কিছু ভাবছেন?

মালাইকা চৌধুরী: যেহেতু আমি ইন্ডাস্ট্রিতে একদমই নতুন, তাই কাজ করে যেতে চাই। তবে এখন একটু বেছে কম কাজ করছি। কারণ পুরোপুরি সময় দিতে পারছি না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছি। পড়ালেখা আর অভিনয় একসঙ্গে ম্যানেজ করা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে ভালো গল্প ও মনের মতো চরিত্র পেলে এবং ডিরেক্টর আমার কথা ভেবে স্ক্রিপ্ট লিখলে ডেফিনেটলি কাজ করতে চাই।

ঢাকা পোস্ট: অভিনয় নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা আসলে কেমন? এ জগতেই স্থায়ী হতে চান নাকি অন্য কোনো ভাবনা আছে?

মালাইকা চৌধুরী: ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। তবে যেহেতু দর্শকরা এতো ভালোবাসছেন, আমার কাজ দেখতে চাচ্ছেন, তাই আমি ধীরে ধীরে অভিনয়টা চালিয়ে যেতে চাই।

এমআইকে/কেআই