বিজ্ঞাপন

তারকার স্মৃতিতে ৫ আগস্ট

প্রথমে ভেবেছিলাম আতশবাজি, পরে বুঝলাম গোলাগুলি : তাসরিফ খান

প্রথমে ভেবেছিলাম আতশবাজি, পরে বুঝলাম গোলাগুলি : তাসরিফ খান

ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর আজ। প্রায় এক মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের আজকের দিনে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ছাত্রদের সেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজের তারকারাও। ৫ আগস্ট বিজয়র দিনে আনন্দ-উল্লাসে রাজপথে নেমে এসেছিলেন অনেকে। 

তারকার অভিজ্ঞতায় সেই ৫ আগস্ট কেমন ছিল? ঢাকা পোস্টের বিশেষ আয়োজনে স্মৃতিচারণ করেছেন তারকারা। এ পর্বে রইল সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের স্মৃতি…

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ৬টায় আমি আমার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করি। পোস্টটি ছিল আমার জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার মতো। সেখানে আমি বাংলাদেশের আপামর জনতা শ্রমিক, কৃষক, গার্মেন্টস কর্মী, চাকরিজীবী, ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম।

পোস্টে সরাসরি ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলাম, আজ মানুষ হওয়ার শেষ সুযোগ, তারা যেন নিজ ভাইয়ের গায়ে হাত না তোলে। কারণ আজ সত্যের জয় হবেই এই বিশ্বাস আমার ছিল। পাশাপাশি পুলিশ ও সেনা প্রশাসনসহ সমস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম, আজকে যারা শক্ত বুলেট দিয়ে অন্যের বুক ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে, তারা হয়তো জানেনও না যে তাদের নিজেদের সন্তানও রাজপথে নেমেছে। তাদের ছোড়া বুলেটে নিজেদের সন্তানের বুকও ঝাঁঝরা হয়ে যেতে পারে। 

ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে তাসরিফ খান

সকাল ৯টা বা ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আমরা মিরপুরের উদ্দেশ্যে বের হই। প্রথমে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি ছিল। সকাল থেকে সঠিক কোনো তথ্য বা আপডেট পাচ্ছিলাম না। দুপুরের দিকে যখন খবর এলো, যে সেনাবাহিনীর প্রধান ভাষণ দেবেন, ততক্ষণে আমরা বুঝে গিয়েছিলাম, আমরা ‘স্বাধীন’ হয়ে গেছি, স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে।

এরপর দুপুর ২টা বা ৩টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার পরিস্থিতি দেখতে বেদর হই। কিন্তু মিরপুর ২ নম্বর থানার সামনে পৌঁছাতেই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হলো। আমার থেকে ২০-২৫ হাত দূরে একটা ছেলে গুলিবিদ্ধ হলো। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে প্রথমে বুঝতে পারিনি কে গুলি করছে! কারণ শেখ হাসিনা তো দেশ ছেড়েছেন, তাহলে ফায়ার করছে কে? প্রথমে ভেবেছিলাম আতশবাজি, পরে বুঝলাম মিরপুর ২ নম্বর থানায় গোলাগুলি হচ্ছে। তখন আমার পরিচিত এক সেনা কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে জানাই, মিরপুর থানায় এখনো গোলাগুলি হচ্ছে, দয়া করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

তখন রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না, লাখ লাখ মানুষ হেঁটে চলছে। আমি কল্যাণপুর হয়ে হেঁটে হেঁটে সংসদ ভবন এলাকায় যাই। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় হেঁটে আমাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করি। সন্ধ্যায় ঢাকায় থাকা আমার ভাই ও কাজিনরা সব একসাথে হয়ে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করি।

তবে রাত ৮টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বরে আমার বাসার দিকে ফেরার পথেও গুলির শব্দ শুনেছি। সবকিছু যেন মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, স্বৈরাচার তো ক্ষমতায় নেই, তবে এখন ফায়ার কে করছে? পরে জানলাম স্বৈরাচারের দোসর যেসব পুলিশ সদস্য পালাচ্ছিল, তারা আতঙ্ক তৈরি করতে গোলাগুলি করছিল। সেই রাতে অনেক গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। দুঃখের বিষয়, ওই দিনও দেশের বিভিন্ন থানায় ও রাজপথে আমাদের অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

এমআইকে/কেআই