ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে চেনা ছকের বাইরে হেঁটেছেন কাজল। অনবদ্য অভিনয় দিয়ে একাধিক কালজয়ী চরিত্র উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। জীবনের ৫২তম বছরে পা রেখে নিজের কাজের ঝুলিকে যেমন ফিরে দেখলেন, তেমনই খোলামেলা কথা বললেন রুপালি পর্দায় নারীচরিত্রের বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট ও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে।
এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সিনেমায় নারীদের ভূমিকা ও গুরুত্বে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পর্দায় নারীচরিত্র এখন আর কেবল নায়কের গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার অনুষঙ্গ নয়, বরং গল্পের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
সিনেমার এই রূপান্তর নিয়ে কাজল বলেন, ‘এখন নারীরা শুধু সাইড প্লট নন। তারা নিজেরাই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। দর্শকরাও এমন গল্প দেখতে চাইছেন, যেখানে নারীরা শক্তিশালী চরিত্রে উঠে আসেন।’

তিনি মনে করেন, অতীত এবং বর্তমানের মধ্যবর্তী সময়ের এই বিশাল পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সমাজের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিতে। দর্শকরা এখন ভিন্ন ধাঁচের কনটেন্ট গ্রহণ করছেন, যার ফলে নির্মাতারাও সাহসী বিষয় ও শক্তিশালী নারী-কেন্দ্রিক চরিত্র তৈরিতে আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন।
দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারের বিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, একজন শিল্পী হিসেবে সময়ের ধারায় তিনিও অনেক পরিপক্ব হয়েছেন। এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তিনি এমন গল্পে নিজেকে যুক্ত করতে চান, যা নতুন কোনো শেখার সুযোগ তৈরি করে এবং অভিনয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।
গ্ল্যামার জগতের বাসিন্দা হলেও জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে কাজলের ভাবনা বেশ সাদামাটা। জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের চেয়ে পরিবারের সঙ্গেই এই দিনটি কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। স্বামী অজয় দেবগন, সন্তান এবং ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে ছোট পরিসরে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দদায়ক।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কেবল প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ না থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার জানান দিয়ে যাচ্ছেন এই জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী।
এমআইকে
