জীবনের পঞ্চাশ বসন্ত পার করেছেন তিনি। এই বয়সে এসে অনেকেই যখন নাতি-নাতনির মুখ দেখার স্বপ্ন দেখেন, সেখানে কেউ পণ করে নেন নিজের শর্তে বাঁচতে। বলা হচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের কথা; বিয়ের পিঁড়িতে বসার বিন্দুমাত্র তাগিদ নেই যার। এই বয়সে এসেও ‘সিঙ্গেল’ জীবনটাই চুটিয়ে উপভোগ করতে চান ‘কাহো না... পেয়ার হ্যায়’ খ্যাত এই তারকা।
সম্প্রতি এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে নিজের অবিবাহিত থাকার এই ইচ্ছার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ‘আস্কঅ্যামি’ হ্যাশট্যাগে ওই প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভক্ত আমিশার কাছে জানতে চান, তিনি কবে বিয়ে করছেন? এর সোজাসাপ্টা উত্তরে অভিনেত্রী লেখেন, ‘কখনোই না। সিঙ্গেল থেকে আমি ভীষণ খুশি। আমার ১০০ জন কাছের পরিবার ও বন্ধু রয়েছে, যারা আমাকে ভালোবাসে। আমি চাই না কোনো একজন পুরুষ জীবনে এসে এসব কিছু বদলে দিক।’
ভারতীয় গণমাধ্যমসূত্রের খবর, বর্তমানে বিয়ের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানালেও এর আগে প্রেম ও ক্যারিয়ারের মাঝে কঠিন এক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন আমিশা। ইউটিউবার রণবীর এলাহবাদিয়ার পডকাস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একটি গভীর সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গী চাননি তিনি এই গ্ল্যামার জগতে যুক্ত হোন, আর সে কারণেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

ওই সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আমিশা বলেছিলেন, ‘যারা আপনাকে ভালোবাসবে, তারা আপনার ক্যারিয়ারেরও উন্নতি চাইবে। ক্যারিয়ারের জন্য আমি অনেক কিছু হারিয়েছি, আবার ভালোবাসার জন্যও অনেক ছাড় দিয়েছি।’ আমিশা জানান, তার সেই প্রেমিক দক্ষিণ মুম্বাইয়ের এক বড় শিল্পপতি পরিবারের সন্তান ছিলেন। দুজনের পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমিও একই ছিল। কিন্তু সঙ্গী তাকে ‘পাবলিক ফিগার’ হিসেবে দেখতে চাননি বলেই ভালোবাসার বদলে ক্যারিয়ারকে বেছে নেন এই তারকা।
তবে বিয়েকে জীবনের খাতা থেকে পুরোপুরি বাদ দেননি আমিশা। যোগ্য মানুষ পেলে বিয়েতে আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিয়ের জন্য প্রস্তুত, যদি যোগ্য কাউকে পাই। এখনো আমি অনেক প্রতিষ্ঠিত পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাই। আমার অর্ধেক বয়সের ছেলেরাও আমাকে ডেটে নিয়ে যেতে চায়, আর আমি এতে রাজিও আছি। কারণ একজন পুরুষকে মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে। আমি আমার চেয়ে অনেক বেশি বয়সী মানুষের সঙ্গেও মিশেছি, যাদের বুদ্ধিমত্তা মাছির মতো।’
উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আমিশা প্যাটেলের প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেলেও ২০০০ সালের দিকে নির্মাতা বিক্রম ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল।
ডিএ
