চেনা সমীকরণের বাইরে গিয়ে শারীরিক পরিবর্তনের কারণে কটূক্তি ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদারকে। তবে সব বাধা কাটিয়ে ২২ কেজি ওজন ঝরিয়ে একদম নতুন অবয়বে শোবিজে ফিরতে প্রস্তুত তিনি। ‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিকটি শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নিজেকে লাইমলাইট থেকে আড়ালে রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
শারীরিক অসুস্থতা ও ইনজুরির কারণে বেড়ে গিয়েছিল ওজন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলেছে তীব্র চর্চা। ঘটনার শুরু কোমরের চোট থেকে। চোটের তীব্রতায় চিকিৎসকের পরামর্শে বন্ধ হয়ে যায় তার প্রতিদিনের জিম ও শারীরচর্চা। এমনকি রিয়্যালিটি শো ‘ঘরে ঘরে জি বাংলা’ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি।

সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি টেনে ইন্দ্রাণী বলেন, ‘কোমরে চোটের জন্য স্টেরয়েড ওষুধ খেতে হয়েছিল। আর নিয়মিত শারীরচর্চা করা যাদের অভ্যাস, সেটা বন্ধ হলে ডায়েট করেও কোনও লাভ হয় না।’ কোমরের চোটের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে লিগামেন্ট ছেঁড়ার সমস্যান পড়েন তিনি। সব মিলিয়ে টানা প্রায় দু’বছর শরীরচর্চা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। একপর্যায়ে ওজন বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ কেজিতে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করেন ইন্দ্রাণী। তার কথায়, ‘মাঝে অল্পস্বল্প জিমে গিয়েছিলাম বলে দু’-চার কেজি ওজন কমেছিল। কিন্তু বুঝেছিলাম, তাতে হবে না। কারণ তত দিনে প্রায় ২০ কেজি ওজন বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় আমি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক ডায়েটের পরামর্শ নিই। কার্ব ছাড়া প্রোটিনযুক্ত খাবার দিয়ে আমার ডায়েট চার্ট করে দিয়েছিলেন তিনি।’
তিনি আরও বলেণ, ‘মানুষ তো অপমান করতে ছাড়েন না। আমাকে নেতিবাচক মন্তব্যও সহ্য করতে হয়েছে। পূজার উদ্বোধন করতে গিয়ে খারাপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে। মোটা হয়ে গিয়েছিলাম বলে আমার জামাকাপড়ও পরিবর্তন করতে হয়েছে। আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলছিলাম, নিজেকে দেখতে ভালো লাগত না।’
এমআইকে
