বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

শারীরিক অবস্থান নয়, অমর হতে হয় ভালোবাসা দিয়ে : নওশাবা

শারীরিক অবস্থান নয়, অমর হতে হয় ভালোবাসা দিয়ে : নওশাবা

ব্যতিক্রমী চরিত্র নির্বাচন আর অনবদ্য অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’। পুনরায় যুক্ত হয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে। এসব বিষয় নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইব্রাহীম জাহিদ

ঢাকা পোস্ট : ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’-এর ট্রেলার দেখেই আঁচ করা যায়, একটু ভিন্ন আঙ্গিকের কাজ। কেমন আসলে? কিছুটা আভাস দিন...

কাজী নওশাবা আহমেদ : নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ এবং ওর স্ত্রীর সঙ্গে করোনা মহামারির সময় থেকেই সিনেমাটি নিয়ে আমাদের কথা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কাজটা ভীষণ যত্ন নিয়ে করা হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষরা ভেবে নিই, অনেক বছর বেঁচে থাকব। আর সে কারণে প্রকৃতিকে অবলীলায় ধ্বংস করে ফেলছি। কিন্তু মানুষের এই জীবন যে চিরস্থায়ী নয় এবং যতদিন আমরা বেঁচে থাকি ততদিন নিজেদের ভালোবাসতেও ভুলে যাই। এমনকি পাশের মানুষটার সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে অমূল্য সম্পর্ক, সেটাকেও আমরা মূল্যায়ন করি না। এই মূল্যায়নের জায়গা থেকে একজন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে আমার জীবনের যে অন্তর্নিবিষ্ট যাত্রা, তাতে এই সিনেমা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। খুব কাকতালীয় বা অলৌকিকভাবেই আমার জীবনের ও প্রকৃতিকে দেখার যে উপলব্ধি, ঠিক সেই সময় এই সিনেমার গল্পটা আসে। কিছু প্রিয় কবিতা মানুষ যেমন বারবার পড়ে এবং প্রতিবার নতুন করে আবিষ্কার করে, এই সিনেমাটাও আমার জীবনে বারবার যাপন করতে ইচ্ছা করে। আবার যখন জীবনে নতুন কোনো উপলব্ধি আসবে, তখন এ চরিত্রটা আবার নতুন করে করতে ইচ্ছা করবে।

‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’-এর দৃশ্যে ইমতিয়াজ বর্ষণ ও কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা পোস্ট : একটু শুটিংয়ের গল্প শুনতে চাই…

কাজী নওশাবা আহমেদ : এত গুছিয়ে আর যত্ন নিয়ে কাজটা বানানো হয়েছে, আমরা কাজ শুরু করার আগেই জানতাম কী করতে যাচ্ছি এবং কতটুকু করতে যাচ্ছি। শুটিংয়ের সময় প্রচুর ঠাণ্ডা ছিল। কিছু দৃশ্য দেখলে দর্শক বুঝতেই পারবেন, সেখানে কিন্তু আমরা কোনো কৃত্রিম কুয়াশা ব্যবহার করিনি। রাত কিংবা কনকনে শীতের ভোর সাড়ে চারটায় ঘন কুয়াশার মধ্যেই আমরা শুটিং করতে যেতাম। দৃশ্যগুলো দেখলে হয়তো কারও মনে হতে পারে, এআই দিয়ে করা কিংবা ফগ মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা ওই তীব্র শীতের বাস্তব পরিবেশেই কাজ করেছি। এটি একটি অন্যরকম গভীর অনুভূতির কথা বলে, যা দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন।

ঢাকা পোস্ট : ছবিতে আপনার সহশিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণ; তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

কাজী নওশাবা আহমেদ : বর্ষণ আমার খুবই পছন্দের একজন মানুষ ও ভালো শিল্পী। আমার প্রথম সিনেমা ‘আলগা নোঙর’ থেকেই সে সহশিল্পী ছিল (যদিও আমাদের প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায়নি)। সে মানুষ এবং শিল্পী হিসেবে ভীষণ সহযোগিতাপূর্ণ। যেহেতু খুব অল্প সময়ে আমরা শুটিং করেছি, কিন্তু আমাদের জার্নি ও প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘদিনের। এরকম অসাধারণ টিম এবং সহ-অভিনেতা না পেলে এত কম সময়ে এমন কাজ করা সম্ভব হতো না।

মানুষ আসলে প্রতি সেকেন্ডে ভুলে যায়, সে মরণশীল। আমাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা থাকে, আমরা অনেকদিন বাঁচব; তাই মৃত্যুটাকে সহজে মেনে নিতে পারি না। কিন্তু জন্মেছি যখন, মৃত্যু অবধারিত; এটাই চিরন্তন সত্য।

ঢাকা পোস্ট : ছবিটিতে একটা সংলাপ শোনা গেল, ‘অমর হবার কোনো জাদুকরী পথ নেই’। এই সংলাপ নিয়ে আপনার ভাবনা বা ব্যাখ্যা কেমন?

কাজী নওশাবা আহমেদ : মানুষ আসলে প্রতি সেকেন্ডে ভুলে যায়, সে মরণশীল। আমাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা থাকে, আমরা অনেকদিন বাঁচব; তাই মৃত্যুটাকে সহজে মেনে নিতে পারি না। কিন্তু জন্মেছি যখন, মৃত্যু অবধারিত; এটাই চিরন্তন সত্য। আমরা কেন যেন এক ধাঁধার মধ্যে পুরো জীবন পার করে দিই। মনে করি আজ ঝগড়া করলাম, কাল ভালোবাসব বা আজ গাছ কেটে ফেলে দু-বছর পর আবার লাগাব। কিন্তু আমি যে কাল পর্যন্ত বেঁচে থাকব, সেই সুযোগটা পাব কি না তার নিশ্চয়তা কই? তাই অমর হতে হলে আসলে ভালোবাসা, অনুভূতি এবং প্রকৃতিকে রক্ষার মাধ্যমেই অমর হতে হয়; শারীরিক অবস্থান দিয়ে নয়।

কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা পোস্ট : ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’-এর গল্পটা গভীর মনস্তাত্ত্বিক মনে হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে কেমন?

কাজী নওশাবা আহমেদ : এ সিনেমাটি মূলত একটি মানুষের জন্ম, তার মৃত্যু, প্রেম এবং প্রকৃতির সাথে সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতির কথা বলে। এখানে কোনো বিষয় সরাসরি বলে দেওয়া হয়নি। একটি ভালো কবিতা যেমন চারজন মানুষ পড়লে চাররকম অনুভূতি তৈরি হয়, এই সিনেমাটিও দর্শক তার নিজের মতো করে অনুধাবন করতে পারবেন। সিনেমাটি খুব বড় দৈর্ঘ্যের নয়, কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা অনেক। এটি এমন এক কাজ যা একজন শিল্পীকে বারবার নতুন করে করার তাগিদ দেয়।

একটি ভালো কবিতা যেমন চারজন মানুষ পড়লে চাররকম অনুভূতি তৈরি হয়, এই সিনেমাটিও দর্শক তার নিজের মতো করে অনুধাবন করতে পারবেন।

ঢাকা পোস্ট : চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য হলেন। সিনেমা দেখার এই কাজের ভালো আর মন্দ দিক জানতে চাই…

কাজী নওশাবা আহমেদ : মাত্রই নতুন টিম বা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি সর্বদাই কাজে বিশ্বাসী একজন মানুষ। তারা আমাকে এই দায়িত্বের যোগ্য মনে করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি নিজেকে চলচ্চিত্র পণ্ডিত বলি না, তবে আমি একজন অন্ধ চলচ্চিত্রপ্রেমী। চলচ্চিত্র ও অভিনয়ের সার্বিক উন্নতিকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। কাজ মাত্র শুরু হলো; এখনই ভালো-মন্দ মূল্যায়ন না করে আগে কাজটা নিষ্ঠার সাথে করতে চাই।

কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা পোস্ট : অভিনয়ে নতুন আর কী করছেন?

কাজী নওশাবা আহমেদ : নতুন কাজের মধ্যে একটি মানবিক বিষয় নিয়ে বলতে চাই, যা আপনারা গণমাধ্যমে ফোকাস করলে খুব ভালো হয়। আগামী ২১ ও ২২ আগস্ট (শুক্রবার ও শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল নাট্যশালায় আমাদের দল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর উদ্যোগে নাট্য প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এটি মূলত একটি বিশেষ চ্যারিটি শো, যেখানে আমরা ক্যান্সার সচেতনতা তৈরিতে এবং একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য ফান্ড রাইজিং করব।

এমআইকে/কেআই