এ বছরের লাক্স সুপারস্টার হয়ে নজর কেড়েছেন বিদুষী বর্ণিতা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশের প্রথম সারির নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে শিহাব শাহীনের ওয়েব সিনেমা ‘ক্যাফে আম্ব্রেলা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সম্ভাবনাময়ী এ অভিনেত্রীর পথচলা ও বর্তমান কাজের নানা গল্প শুনেছেন দ্বীন অর্ণব।
ঢাকা পোস্ট: শুনলাম, আপনি এখন শিহাব শাহীনের ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র শুটিংয়ে। প্রথম ওয়েব সিনেমা। বড় নির্মাতা। সঙ্গে অনেক শিল্পী। কেমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে?
বর্ণিতা: আমি তিন দিনের মতো শুটিং করেছি। তবে আমরা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে রিহার্সাল করেছি। অভিজ্ঞতা নিয়ে বললে, আমরা লাক্স সুপারস্টারের টপ থ্রি, একসাথেই আবার আমাদের লাক্স পরবর্তী জীবনের প্রথম কাজটা করতে পারছি। আমাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিকশন এত বড় একজন নির্মাতার সাথে এবং সাথে তিনজন একদম পাকা অভিনেতাও আছেন। সব মিলিয়ে আমরা অনেক কিছু শিখছি। পাশাপাশি অবশ্যই নার্ভাসনেসও কাজ করছে। আমরা তিনজনই অনেক এক্সাইটেড, প্লাস নার্ভাস। সব মিলিয়ে আসলে অতুলনীয় একটা অনুভূতি, যা বলে বোঝানো সম্ভব না। হয়তো কখনোই এরকম অভিজ্ঞতা আর হবে না।
ঢাকা পোস্ট: শুটিং কবে শুরু হয়েছে? কতদিন চলবে?
বর্ণিতা: আমাদের শুটিং শুরু হয়েছে এ মাসের শুরুতে, চলবে মাঝামাঝি পর্যন্ত; একটু পিছিয়ে গেলে হয়তো মাসের শেষও হতে পারে।

আরও পড়ুন
ঢাকা পোস্ট: প্রথম যেদিন শুটিংয়ে গেলেন, সেদিনের অভিজ্ঞতা শুনতে চাই। সেটে যাওয়া থেকে শুরু করে বাসায় ফেরা পর্যন্ত, কেমন ছিল সময়টা?
বর্ণিতা: অনেক সকাল সকাল উঠে আগে ক্লাস করে তারপর শুটিংয়ে গিয়েছি। আমার পরীক্ষা ছিল সকালে। পরীক্ষা দিয়ে শুটিং সেটে যাওয়ার কারণে একটু বেশিই নার্ভাসনেস কাজ করছিল। সারাটা দিন আসলে কীভাবে চলে গেল, টেরই পেলাম না। যখন প্রথম শট দিতে গেলাম, একটু ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। প্রথম শটটা আমার একটা সলো শট ছিল; একা একা বসে শট দিচ্ছিলাম, ওই জিনিসটা খুব ইমোশনাল লাগছিল। একটা জার্নি পার করে আসার পরে জীবনের যে স্বপ্নগুলো আছে, সেগুলোর পথে এখন হাঁটার সুযোগ পেলাম। এত বড় একজন নির্মাতার সেটে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কাজ করার সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব না। এটা অনেক বিশেষ একটা এক্সপেরিয়েন্স ছিল।

ঢাকা পোস্ট: একটু পেছনে ফিরি; লাক্স সুপারস্টারে সেরার মুকুট মাথায় উঠতেই যখন অভিনয়ের প্রস্তাব শুনলেন, কেমন লেগেছিল তখন?
বর্ণিতা: অভিনয়ের প্রস্তাব শুনে আমি থমকে গিয়েছিলাম। কারণ আমরা ছোটবেলা থেকেই শিহাব শাহীন স্যারের কাজ দেখেই বড় হয়েছি। আমাদের অভিনয় করার যে স্বপ্ন, তা কিছুটা ওনার কাজগুলো দেখেও মনে মনে বুনছিলাম। ক্যারিয়ারের শুরুতেই উনার কাজ পাবো, সেটা কখনো ভাবিনি। অনেক পরিশ্রমের ফল হিসেবে এটা পেয়েছি বলে মনে হয়। তবে এটি অনেক বড় একটা দায়িত্ব ছিল। অ্যানাউন্সমেন্টের পর তিন-চার মাস পার হয়ে গেছে এবং জন্য তখন থেকেই এ দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এখন খুবই ভালো লাগছে।
ঢাকা পোস্ট: নির্মাতা রায়হান রাফীর ঘোষণা অনুযায়ী, আপনাকে বড় পর্দায় দেখা যাবে। সে সিনেমার খবর কী? নিজেকে কি বড় পর্দার জন্য প্রস্তুত করছেন?
বর্ণিতা: রায়হান রাফী স্যারের একটা সিনেমায় আমাকে দেখা যাবে, এটা ঠিক। অন্য কাজগুলো নিয়ে প্রথমে শুরু করছি, স্যারের কাজটা হয়তো একটু পরে হবে। এখনও ওটা নিয়ে কিছু ফাইনাল হয়নি। ওনার সাথে আমার কথা হয়েছে এবং উনি শুরু থেকেই আমাকে অনেক স্নেহ দিয়েছেন। শো-এর শুরু থেকে আমাদের জাজ ও মেন্টররা সবাই আমাদের অনেক স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন। রাফী স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি এবং যেদিন সিনেমা নিয়ে কথা হলো, অনেক কিছু শুনলাম ও শিখলাম। উনি অনেক উদার মনের মানুষ এবং একজন আর্টিস্ট বা জুনিয়রদেরও মূল্যায়ন করেন।

ঢাকা পোস্ট: লাক্সে থাকতেই ভিকি জাহেদের নির্মাণে শর্টফিল্ম, এখন শিহাব শাহীনের কাজ, সামনে রায়হান রাফী। ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশের অন্যতম সেরা তিন নির্মাতার সঙ্গে কাজ হচ্ছে। নিজেকে কি ভাগ্যবান মনে হয়?
বর্ণিতা: আসলে এই সুযোগ অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে গেলে হয়তো কখনোই পেতাম না। আমি ছোটবেলা থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে অল্প-বিস্তর কাজ করেছি; অনেক অডিশন দিয়েছি। কিন্তু প্রধান চরিত্রে কাজ করার সৌভাগ্য কখনো হয়নি। লাক্স আমাকে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে, এজন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
ঢাকা পোস্ট: আপনার দেশের বাড়ি রাজশাহীতে। শৈশব, বড় হওয়া কেটেছে কোথায়? পড়াশোনা নিয়েও জানতে চাই...
বর্ণিতা: তিন বছর বয়স পর্যন্ত রাজশাহীতে ছিলাম। তবে বড় হওয়াটা ঢাকাতেই। এইচএসসি দিয়েছি ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এখন আছি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন ধাপে। ছোটবেলা থেকেই ভালো রেজাল্ট করেছি; সে জায়গা থেকে পড়াশোনায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই। আমি অ্যাস্ট্রোফিজিক্স নিয়ে পড়তে চাই; তো সেই লক্ষ্য সঙ্গে রয়েছে। এর মধ্যেই শুটিং সেটে যাই, সেখানে গিয়েও বই-খাতা নিয়ে পড়ালেখা করি। এখন আমার চিত্রনাট্য ও পড়ার বই একসঙ্গেই থাকে।

ঢাকা পোস্ট: আপনার এই সাফল্যকে আশেপাশের মানুষ, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী, শিক্ষকেরা কীভাবে দেখছেন? তাদের কোনো মন্তব্য আপনাকে অভিভূত করেছে কি?
বর্ণিতা: আমার সাফল্য নিয়ে সবার যে অনুভূতি, সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আশেপাশে এমন মানুষও আছেন, যাদের সঙ্গে আমার অনেকদিন দেখা বা কথাও হয়নি, তারাও আমাকে নিয়ে অনেক আপ্লুত, গর্বিত। সামনে এসে অনেক কথা বলেন, মেসেজ দেন। আমাকে শুভকামনা ও শুভেচ্ছা জানান। এ ব্যাপারগুলো এত বেশি ভালো লাগে যে, নিজের চেষ্টাটা আরও বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে। তাদের দোয়া ও ভালোবাসায় নিজের এনার্জি এবং প্রচেষ্টা আরও বেড়ে যায়। ওনাদের জন্যই আছি, চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ঢাকা পোস্ট: শোবিজে আসার ক্ষেত্রে আপনার অনুপ্রেরণা কে?
বর্ণিতা: আমার অনুপ্রেরণা মূলত মা। মা-ই হয়তো প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন, আমি এই অঙ্গনে ভালো করতে পারব। মা আমাকে নাচ-গান শিখিয়েছিলেন এবং অভিনয়ে যুক্ত করেছিলেন। ছোটবেলায় চাইল্ড অ্যাক্ট্রেস হিসেবে টিভি সিরিজ ও ছোটখাটো নাটক করতাম। তবে আমার মনের ভেতরেও একটা বড় স্বপ্ন ছিল, আমি অভিনয় করব। ছোটবেলায় আমার খুব বেশি বন্ধুবান্ধব ছিল না, বাইরে খেলাধুলার সুযোগও সেভাবে ছিল না; সময় কাটত টিভি আর বই খাতার সাথে। টিভি দেখে দেখে স্বপ্ন বুনতাম, একসময় ওই বড় স্টেজে আমিও দাঁড়াতে চাই। মানুষ যেভাবে সেলিব্রিটিদের দেখে আনন্দ পান, আমি চাইতাম মানুষ যাতে তাদের কষ্টের দিন শেষে টিভি খুলে আমাকে দেখে হাসি মুখে রিল্যাক্স করতে পারেন। তাই বলা যায়, আমি নিজে এবং আমার মা— আমার অনুপ্রেরণা।

ঢাকা পোস্ট: দেশে আপনার প্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী-শিল্পী কারা? কয়েকজনের নাম জানাবেন?
বর্ণিতা: আমার প্রিয় অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান ম্যাম, উনাকে আমি অনেক ফলো করি এবং উনার কাজ আমার খুবই পছন্দ। এছাড়া মেহজাবীন ম্যাম অসাধারণ অভিনয় করেন। চঞ্চল চৌধুরী স্যার ও আফরান নিশো স্যারকেও আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের দেশে এখন আরো অনেক গুণী মানুষ আছেন, যাদের কাছ থেকে আমি সর্বদা শিখে যাচ্ছি।
ডিএ/কেআই
