বিজ্ঞাপন

আলাউদ্দিন আলীকে হারানোর অর্ধ যুগ

আলাউদ্দিন আলীর এক চড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বিশ্বজিতের জীবনের মোড়

আলাউদ্দিন আলীর এক চড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বিশ্বজিতের জীবনের মোড়

আলাউদ্দিন আলী ও কুমার বিশ্বজিৎ-বাংলা গানের অন্যতম কালজয়ী দুই শিল্পী। যদিও শ্রোতাদের কাছে বিশ্বজিতের নাম ও কণ্ঠ ঢের পরিচিত। কিন্তু নেপথ্যের শক্তি হয়ে থাকা আলাউদ্দিন আলীকে কম মানুষ চিনলেও তার ভূমিকা ও অবদান আকাশসম।

আজ এই কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালকের প্রয়াণ দিবস। ২০২০ সালের আজকের দিনে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। আলাউদ্দিন আলীর ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবসে তাকে স্মরণ করলেন কুমার বিশ্বজিৎ, সামনে আনলেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা।

বিশ্বজিৎ তার ফেসবুক বার্তায় লিখলেন, “কিছু স্মৃতি জীবনে অম্লান হয়ে রয়। সালটা ১৯৮২। জীবনের প্রথম সিনেমার গান গাই ‘ইন্সপেক্টর’-এ। গানটির সুর করেছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। শ্রুতি স্টুডিওতে মহরত অনুষ্ঠানে সংগীত ভূবনের সব রথী-মহারথীদের দেখে ভয়ে স্টুডিও থেকে বের হয়ে যাই। আলাউদ্দীন আলী ভাই পেছন পেছন এসে জিজ্ঞেস করলে আমি বলি, আর গান গাইবো না! চিটাগং চলে যাবো! আলাউদ্দীন আলী ভাই সাথে সাথে আমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেন! চড় দিয়ে বলেছিলেন, ‘যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াবে, তখন ভাববে তুমিই সেরা। আর যদি চিটাগং চলে যাও, তাহলে তুমি শেষ।’ ওনার মতো একজন সংগীতের মহাজনের আশীর্বাদের ছোঁয়া পাওয়া যে কারো জন্যই বড় প্রাপ্তি!”

‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ খ্যাত কুমার বিশ্বজিৎ জানান, ওই এক চড়ের প্রভাবেই বদলে গিয়েছিল তার জীবনের মোড়। তিনি লেখেন, ‘এটা শাশ্বত সত্য, ওই দিন সন্তানতুল্য স্নেহ দানকারী আলাউদ্দীন আলী ভাই সে চড় এবং উৎসাহ না দিলে ঢাকায় থাকার সাহসটা পেতাম না। জীবনের প্রতিটি ধাপে আপনাকে মিস করি আলী ভাই। জানি এখনো আপনার আশীর্বাদ আমার মাথার ওপর আছে, থাকবে আমৃত্যু।’

আলাউদ্দিন আলী

উল্লেখ্য, বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম সফল সংগীতকার আলাউদ্দিন আলী। তার সুর-সংগীতে বহু গান হয়েছে কালজয়ী। এর মধ্যে কয়েকটি হলো, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘প্রথম বাংলাদশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’, ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘বন্ধু তিন দিন’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘এ জীবন তোমাকে দিলাম’ ইত্যাদি।

১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে তার জন্ম। বাবা ওস্তাদ জাবেদ আলী ও চাচা সাদেক আলীর কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি হয় তার। ১৯৬৮ সালে যন্ত্রশিল্পী চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। এরপর সুরকার আনোয়ার পারভেজের সহকারী হিসেবে সুরের পথে পা বাড়ান। পরে নিজেই শুরু করেন সুর-সংগীত। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘যোগাযোগ’ ও ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র মতো সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আটবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর মধ্যে একবার পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ গীতিকার, বাকি সাতবার পেয়েছেন সংগীত পরিচালক হিসেবে।

কেআই