বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহী ছিলাম : ইসরাত অতিথি

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহী ছিলাম : ইসরাত অতিথি

নাম তার ইসরাত অতিথি। তবে দর্শকের কাছে বেশি পরিচিত ‘ফারহানা’ নামে। এ নামটি পেয়েছেন ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’তে। নাটক হলো তুমুল জনপ্রিয়, অতিথিও পেলেন পরিচিতি। সমসাময়িক নাটকের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন এই কিশোরী অভিনেত্রী। গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। এ সূত্র ধরে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইব্রাহীম জাহিদ। 

ঢাকা পোস্ট: এসএসসিতে আপনার ফলাফল কী? ফলাফল দেখার পর পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন?

ইসরাত অতিথি: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। প্রথমবার বোর্ড পরীক্ষা দিয়েছি। আমি আসলে অনেক টেনশনে ছিলাম, যেহেতু এত প্রেশারে (শুটিং ব্যস্ততার কারণে) পরীক্ষা দিয়েছি। বাসা থেকে অবশ্য অনেক বোঝানো হয়েছে যে, ‘কিছু হবে না, পাস করলেই হবে।’ এরকম আসলে আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যই বলেছে। কিন্তু আমার বড় দুই বোন তো গোল্ডেন পাওয়া স্টুডেন্ট। বাবা-মায়ের কথা ভেবে আমারও সেটা হয়তো অব্যাহত রাখা উচিৎ। তবে পরিবারের সঙ্গে আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং অনেক ভালো। তারা আমার বিষয়টা বুঝেছে। কিন্তু আমার মন থেকে আসলে অনেক বেশি টেনশন ছিল। অভিনয় আর পড়াশোনা একসঙ্গে ম্যানেজ করলাম; আর আমি অনেক বেশি নামাজ পড়েছি। রেজাল্ট প্রকাশের আগে আমি আসলে কল্পনাও করিনি, এত ভালো ফলাফল হবে। মনে হয়, নামাজ সবসময় আমাকে অনেক বেশি হেল্প করেছে। এটা একটা জরুরি জিনিস। জীবনে কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলেই আমি জাস্ট জায়নামাজে দাঁড়িয়ে পড়ি। তখন আমার জীবনটা আরও সহজ হয়ে যায়। এসএসসি রেজাল্টের আগে সবারই তো মনে হয় যদি ফেল করে ফেলি! আমিও স্বাভাবিক একটা টিনেজার, আমার মাথায়ও সেম চিন্তাই ছিল। এজন্য সময় পেলেই জায়নামাজে কাটিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। এটার কারণেই রেজাল্টটা ভালো হয়েছে, আমি জিপিএ ৪ পেয়েছি।

ঢাকা পোস্ট: আত্মীয়দের কেউ কি জিজ্ঞেস করেছিল, জিপিএ কত পেয়েছেন?

ইসরাত অতিথি: না, আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করেনি। তবে রেজাল্ট শুনতে চেয়েছে আরকি।

অভিনেত্রী ইসরাত অতিথি। ছবি- ফেসবুক।

ঢাকা পোস্ট: অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা কীভাবে সামলেছেন?

ইসরাত অতিথি: সবচেয়ে দুর্ভাগা বলতে পারেন এই ২৬ ব্যাচকে। কারণ আমাদের কোনো এক্সপেরিয়েন্স ছিল না; নতুন শিক্ষামন্ত্রী, তারপর বোর্ড এক্সামের আগে অনেক ভয়ে ছিলাম কী হয় না হয়। তার ওপর শুটিং। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনার চাপ থাকে; আমার চাপ তো আরো বেশি ছিল, কারণ আমি শুটিং করেছি। জীবনে আসলে এমনটাই হয়, ওই সময়টাতে (এসএসসি পরীক্ষা ও এর আগের সময়) আমার নাটক সবচেয়ে বেশি হিট হয়। আর আমি সবচেয়ে বেশি ওই সময়েই ব্যস্ত ছিলাম। তো কোনোভাবেই আসলে কিছু এভোয়েড করা সম্ভব হয়নি এবং আমি চাইওনি। কারণ বাবা-মা আমাকে ছোটবেলা থেকে এভাবেই বলে বড় করেছেন যে, করতে হলে সবকিছুই করতে হবে এবং ভালো মানুষ হতে হবে। তো, সবকিছু সামলে নেয়ার পেছনে আসলে পরিবারের সাপোর্ট জরুরি। আমি যত প্রেশারেই ছিলাম না কেন, আব্বু, আম্মা, আপু সবাই আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট করেছেন। আর রাজ (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ) মামাও অনেক সাপোর্ট করেছেন। শুটিংয়ের অন্যরাও সবাই বেশ কো-অপারেটিভ ছিলেন। 

ঢাকা পোস্ট: নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে হঠাৎ মানবিকে শিফট করার কারণ কী?

ইসরাত অতিথি: প্রি-টেস্টের পর সায়েন্স থেকে আর্টসে চলে আসি। ফাইনাল পরীক্ষার মাত্র চার মাস আগে। কারণ আমার ওপর চাপটা বেশি হয়ে যাচ্ছিল। আর ওই সময়টাতে আমি শুটিং নিয়েও বেশ ব্যস্ত। এমন দিনও গেছে, রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরেছি। আর তখন আমার টেস্ট পরীক্ষাও চলছিল। এই চাপের কারণেই বিভাগ পরিবর্তন করেছিলাম। 

ঢাকা পোস্ট: অভিনয়ে কবে, কীভাবে এলেন? একদম শুরুর গল্পটা শুনতে চাই...

ইসরাত অতিথি: আমি আসলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহী ছিলাম। একদিন হুট করে আমার বোনের কাছে প্রস্তাব আসে যে—‘আপনি কি টিভিসি বা মিডিয়ায় কাজ করতে চান?’ তো আমার বোন বলে যে, ‘না, আমি চাই না। তবে আমার ছোট বোন অভিনয় করতে চায়, আপনারা ওকে দেখতে পারেন।’ তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমার বয়স সাত বছর ছিল। আমার ছবি দেওয়া হয়, তারপর উনারা অডিশন দিতে বলেন এবং আমি অডিশন দিতে যাই। এরপর যখন আমার বয়স ৮ হয়, তখন আমি প্রথম কাজ করি। ওই কাজটা ছিল অমিতাভ রেজা চৌধুরী স্যারের ডিরেকশনে ‘ভিমবার’-এর একটি টিভিসি, যেখানে জয়া আহসান আপু ছিলেন। এভাবে আমার কাজ শুরু। টিভিসি করার পর আমার মনের মধ্যে অনেক ইচ্ছা জাগে, আমি বড় বড় ডায়লগ দেব, স্ক্রিপ্ট থাকবে, লম্বা সময় অভিনয় করার স্পেস পাব। টিভিসি করে মনটা ঠিক ওরকম ভরেনি। অবাক করার মতো ব্যাপার, পরদিনই আমি নাটকের অফার পেয়ে যাই! 

ঢাকা পোস্ট: ‘এটা আমাদেরই গল্প’র ‘ফারহানা’ চরিত্রটি আপনার অভিনয় জীবনে বড় টার্নিং পয়েন্ট। এ ধারাবাহিকে কীভাবে যুক্ত হয়েছিলেন?

ইসরাত অতিথি: ধারাবাহিকে যুক্ত হওয়ার তো আসলে আলাদা কোনো স্টোরি নেই। মামার (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ) সাথে তো অনেক ছোটবেলা থেকেই কাজ করা হয়েছে। জানি না, একদিন হুট করে মামা আমাকে কোথা থেকে আবার খুঁজে পেলেন এবং নতুন একটা চরিত্রে আমাকে আবিষ্কার করলাম ফারহানা হিসেবে। মামার মাথায় আগে থেকেই আমার এই ক্যারেক্টারটি নিয়ে চিন্তা ছিল, এটার জন্য আলাদা কোনো অডিশন বা কিছু দেওয়া লাগেনি।

নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ-এর সঙ্গে অভিনেত্রী ইসরাত অতিথি।

ঢাকা পোস্ট: নতুন আর কী করছেন?

ইসরাত অতিথি: কিছুদিন আগে এসেছে ‘ভালোবাসার গল্প’; এটার পরিচালক রিংকু (রাফাত মজুমদার রিংকু) ভাইয়া। নাটকে ইয়াশ রোহান ভাইয়া, তটিনী আপু আর আমি। নতুন আরও কাজ হচ্ছে, তবে যেটা বললাম আমি আসলে নিজেকে একটু সময় দিচ্ছি আরও সুন্দরভাবে নতুন করে ফিরে আসার জন্য।

ঢাকা পোস্ট: পড়াশোনা নিয়ে পরিকল্পনা কী? কোন বিষয়ে পড়তে চান?

ইসরাত অতিথি: যেহেতু আমি আর্টস থেকে এসএসসি দিয়েছি, তাই কলেজেও আমাকে আর্টস নিয়েই পড়তে হবে।

অভিনেত্রী ইসরাত অতিথি। ছবি- ফেসবুক। 

ঢাকা পোস্ট: ক্যারিয়ার কি অভিনয়েই গড়বেন? নাকি অন্য কোনো ইচ্ছে আছে?

ইসরাত অতিথি: অভিনয় নিয়ে আমি এখন অনেক সিরিয়াস। তবে এখন নিজেকে আরেকটু প্রস্তুত করছি; যাতে নতুন ও চমকপ্রদ কিছু নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে পারি। 

এমআইকে/কেআই