বলা বাহুল্য, দেশের চলচ্চিত্রে অনন্য নির্মাণ ‘রইদ’। মেজবাউর রহমান সুমনের এই সিনেমা মুক্তি পেয়েছে কোরবানির ঈদে। সমালোচকের ভূয়সী প্রশংসা যেমন পেয়েছে, তেমনি পেয়েছে দর্শকের ভালোবাসা। যার ফলে দেশ-বিদেশে দারুণ সাফল্য পেয়েছে সিনেমাটি।

‘রইদ’-এর মূল চরিত্র দুটি—সাদু ও সাদুর বউ। এ দুটি ভূমিকায় আছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। চরিত্রের প্রয়োজনে তারা যে সাজ, বেশভূষা ধারণ করেছেন, তাতে বিস্মিত হয়েছে দর্শক-সমালোচক সকলে। বিশেষ করে তুষিকে দেখে আক্ষরিক অর্থে চেনার উপায়ও নেই!
সেই ‘সাদুর বউ’-এর অদেখা কিছু মুহূর্ত প্রকাশ্যে আনলেন তুষি। ‘রইদ’-এর শুটিং চলাকালে ধারণ করা সেসব ছবি মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে উন্মুক্ত করেছেন অভিনেত্রী। একগুচ্ছ ছবিতে দেখা গেল, চোখ জুড়ানো পাহাড়ি অঞ্চলে কিভাবে ‘সাদুর বউ’ হয়ে কাজ করছিলেন তিনি।

সঙ্গে দীর্ঘ লেখাও যুক্ত করেছেন তুষি। লিখেছেন, “রইদ’ এমন একটা সিনেমা, যে সিনেমার এক্সপেরিয়েন্স কয়জন মানুষ এমন কাজের মধ্যে দিয়ে, জীবনে উপভোগ করতে পারে তা আমি জানি না। তবে আমি অনেক ভাগ্যবান, যে আমি সেটা করতে পেরেছি। সাদুর বউকে আপনারা যেভাবে দেখেছেন, যেভাবে ভালোবাসছেন, তার পেছনে যে গল্পগুলো আছে তার কিছুটা হয়তো আমরা শেয়ার করেছি আপনাদের সাথে। তবে, আমার স্মৃতিতে এটা বেঁচে থাকবে আজীবন।”

শুটিং এলাকার গ্রামবাসীর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়েছেন তুষি। সে স্মৃতি টেনে লিখলেন, ‘সাদুর বউ হয়ে উঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার নির্মাতা, টিম এবং ওই গ্রামবাসীর। সেই গ্রামবাসীরা এত সরল, তাদের সাথে চলতে চলতে তাদেরই পাগলী হয়ে উঠেছি। যখন কোনো একটা দৃশ্যে পাগলীকে মারতে হতো, তারা রীরিমতো ডিরেক্টরেরে সাথে ঝগড়া করত; কিন্তু পাগলীকে মারত না। সাদুকে মারত, কিন্তু পাগলীকে কখনোই মারত না। আমি অভিনেতা হয়ে কাজ করছি, আপনাদের ভালোবাসা অবশ্যই আমাকে শক্তি দেয়। তবে সাদুর বউকে আপনারা যেভাবে ভালোবেসেছেন, এটা এখন পর্যন্ত আমার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে সেরা উপহার।’

‘রইদ’-এ অভিনয়ের পর থেকে মানুষের অসামান্য ভালোবাসা পেয়ে চলেছেন তুষি। যে কোনো পুরস্কারের চেয়ে এই ভালোবাসাকেই মূল্যবান মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি বিশ্বাস করি, মানুষ বেঁচে থাকে, মানুষ শক্তিশালী হয় শুধুমাত্র মানুষের ভালোবাসা আর প্রকৃতির ভালোবাসায়। আমাকে যেভাবে রোদ, বৃষ্টি, আকাশ, বাতাস, গাছ-পালা ভালোবাসে; তেমনি আমাকে যখন কোনো অচেনা মানুষ এসে শুধুমাত্র তার অনুভূতির কথা বলে, তখন মনে হয় সেটাই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আসল সার্থকতা।’

তুষি জানান, সাদুর বউ হয়ে ওঠার জন্য গ্রামের নানা মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে শেষমেশ বুঝতে পারেন, পাগলী আসলে তার আত্মার ভেতরেই ছিল। সবশেষে তুষি লিখেছেন, “নানা রকম অনুভূতির মধ্যে দিয়ে আসলে ‘রইদ’-এর পাগলী কিংবা সাদুর বউ হয়ে ওঠা। আপনাদের ভালোবাসার এই সাদুর বউয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করলাম। অনেক কথা আমি বলতে চাই, কিন্তু সুন্দর করে লিখতে বা বলতে পারি না দেখে আমার অনুভূতিটাও ঠিকমতো শেয়ার করতে পারি না আপনাদের সাথে। তবে এই অনুভূতি অনেক গভীর, আপনাদের ভালোবাসার মতন। এই ভালোবাসা জারি থাকুক।”
কেআই
