অল্প সময়েই ঢাকাই শোবিজে নিজের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন ফররুখ আহমেদ রেহান। ছোট পর্দায় কয়েকটি কাজ করেছেন। এবার রায়হান রাফীর সিনেমা ‘আন্ধার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হবে তার। তরুণ এ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন ইব্রাহিম জাহিদ।
ঢাকা পোস্ট: ‘আন্ধার’-এ কীভাবে যুক্ত হলেন? প্রথম আলাপের স্মৃতিটা জানতে চাই।
ফররুখ আহমেদ রেহান: বিশেষ কিছু নয়, রাফী ভাই সাধারণত যেভাবে বলেন; হুট করেই একদিন জিজ্ঞেস করলেন, আমি এই মুহূর্তে সিনেমা করতে আগ্রহী কি না। তখন আমার কিছু ফিকশনের কাজ চলছিল। আমি বললাম, এমন একটা লাইনআপ আর দারুণ টিম থাকলে অবশ্যই কাজ করব। এরপর চিত্রনাট্যকারের সঙ্গে বসলাম, গল্পটা শুনলাম। শুনে মনে হলো সিনেমাটি আমার করা দরকার; ব্যক্তিগতভাবে গল্পটা খুব ভালো লেগেছে। সার্বিকভাবে টিমের দারুণ পেশাদারিত্ব দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সিনেমা করলে এভাবেই করা উচিত। সেখান থেকেই মূলত যাত্রা শুরু।
ঢাকা পোস্ট: সিনেমায় আপনার ‘হিমেল’ চরিত্রটি কেমন?
ফররুখ আহমেদ রেহান: এটি বহুমাত্রিক (মাল্টি-ডাইমেনশনাল) একটি চরিত্র। এর চেয়ে বেশি কিছু এখনই বলা ঠিক হবে না। দর্শকরা যখন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখবেন, তখন আসল অভিজ্ঞতা পাবেন। তবে ছবিতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী আছেন এবং সবাই খুব ভালো কাজ করেছেন। রাফী ভাই আমাকে নতুনভাবে এক্সপ্লোর করার সুযোগ দিয়েছেন, যা পর্দায় দেখলে দর্শকরা বেশ উপভোগ করবেন।
শুভবুদ্ধিসম্পন্ন শিল্পী, পরিচালক ও সাংবাদিকদের নিয়ে ইতিবাচকভাবে এগোলে শোবিজ একটি সুন্দর জায়গা। এই সততা ও ইতিবাচকতা বজায় থাকলে শিল্পাঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
ঢাকা পোস্ট: রায়হান রাফী এ সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতা। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
ফররুখ আহমেদ রেহান: রাফী ভাই ভীষণ ফ্রি-মাইন্ডের একজন মানুষ। আনন্দের সঙ্গেই কাজটি করেছি, কারণ তিনি খুব ফ্রেন্ডলি। প্রথম সিনেমাতেই রাফী ভাইয়ের মতো একজনকে পরিচালক হিসেবে পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। কাজের ক্ষেত্রে দারুণ ও প্রাণবন্ত একটি পরিবেশ পেয়েছি।

ঢাকা পোস্ট: ‘আন্ধার’-এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এমন কী করেছেন, যা আগে কোনো চরিত্রের জন্য করেননি?
ফররুখ আহমেদ রেহান: সত্যি বলতে, সিনেমার গ্রামার বা অভিনয়পদ্ধতি নিয়ে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আমি কোনো ফিল্ম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও আসিনি। নাটকে টুকটাক কাজ করলেও এই মুহূর্তে সিনেমা করব সেটাও ভাবনায় ছিল না। তাই প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, পরিচালকসহ পুরো টিমকেই আগেভাগে বলে নিয়েছিলাম, যেহেতু নতুন মানুষ, আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে একটু সহ্য করবেন। উনারা চরিত্রটির খাতিরে যেভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও কিছুটা আইসোলেশনে থাকতে বলেছিলেন, আমি সেভাবেই থাকার চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শকদের ওপর। আমাদের প্রত্যাশা সবসময় একটু বেশিই থাকে, তবে তা কতটুকু পূরণ হলো তা সময়ই বলে দেবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চমৎকার সব গল্প ও চিত্রনাট্যে ছবি নির্মিত হচ্ছে, সফলও হচ্ছে। সে দিক থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে ‘আন্ধার’ সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার একটি কাজ।
ঢাকা পোস্ট: ছবিটির গল্প ভৌতিক। ব্যক্তিগত জীবনে আপনি কখনো কোনো অস্বাভাবিক বা অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন?
ফররুখ আহমেদ রেহান: না, আমার জীবনে কখনো এমন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি। তবে যদি ঘটত, হয়তো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে আরও ভালোভাবে কানেক্ট করতে পারতাম।
ঢাকা পোস্ট: এই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আপনার অভিষেক হচ্ছে। প্রস্তুতি আর প্রত্যাশা কতখানি?
ফররুখ আহমেদ রেহান: আমি চেষ্টা করেছি নিজের সর্বোচ্চটা দিতে। দিনশেষে দর্শকরাই বলবেন আমরা কতটুকু আলো ছড়াতে পেরেছি। আমাদের জায়গা থেকে আমরা আশাবাদী, মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি বেশ এনজয় করবে।

ঢাকা পোস্ট: নতুনদের মধ্যে আপনাকে বেশ সম্ভাবনাময় বলা হয়। কিন্তু সে তুলনায় আপনি কাজ কম করেন, কারণ কী?
ফররুখ আহমেদ রেহান: আমি নিজের জীবন ও কাজ নিয়ে একটু আলাদাভাবে ভাবি। কোন কাজটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়, এই নিজস্বতাটুকু ধরে রাখতে চাই। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যখন কাজ করতাম, তখনও এমন বেছে বেছেই সিদ্ধান্ত নিতাম। মিডিয়ায় সাধারণত অনেক আর্টিস্টের অভিভাবক বা দিকনির্দেশক থাকেন, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো আমাকেই নিতে হয়। আমি নিজেকে খুব সহজলভ্য না করে পরিমিত রাখতে পছন্দ করি।
সব ধরনের কাজ বা সব ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে যে আমাকেই ফিট হতে হবে, তা নয়। যেখানে ফিট মনে করি না, সেগুলোকে ‘না’ বলি। সারাদিন কাজ করে, সব জায়গায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে থাকার চেয়ে, কম কাজ করে যদি সঠিক বার্তা নিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছানো যায়, তবেই নিজেকে সার্থক মনে করি। হয়তো এতে কাজ কিছুটা কম হয়, তবে সামনে এই বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়ার ইচ্ছা আছে।
ঢাকা পোস্ট: 'আন্ধার' ছাড়া সম্প্রতি আর কিছু করেছেন? অথবা সামনে নতুন কোনো কাজের পরিকল্পনা রয়েছে?
ফররুখ আহমেদ রেহান: এতদিন সিনেমার কাজ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তবে মাসখানেক আগে একটি ভিন্ন ঘরানার ফিকশনের কাজ শেষ করেছি। সেখানে আমার বিপরীতে আছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া আপু; পরিচালনা করেছেন পিয়াল। একদমই আলাদা একটা গল্পের কাজ, আমি খুব উপভোগ করেছি। দেখা যাক, কেমন সাড়া পাই।
ঢাকা পোস্ট: ঢাকাই শোবিজটা নতুনদের জন্য কেমন? পজিটিভ ও নেগেটিভ দুই দিকই বলুন...
ফররুখ আহমেদ রেহান: এটা নির্ভর করে আপনি ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে দেখছেন, তার ওপর। নতুনদের বলব, জীবনে যে ক্ষেত্রেই সাফল্য চান না কেন, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সংক্ষিপ্ত পথে সাফল্য খোঁজাটা মানসিকভাবে অনেক ক্ষতি করে। ইন্ডাস্ট্রি ভালো নাকি খারাপ, তা ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।
শোবিজের ইতিবাচক দিক হলো, মাধ্যমটি মানুষকে কানেক্ট করে; যেমন এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আজ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছি। অন্যদিকে নেতিবাচক দিক হলো, টিআরপি বা ভিউয়ের আশায় অনেক সময় ভুল বা চটকদার সংবাদ ও ক্যাপশন প্রচার করা হয়, যা ইন্ডাস্ট্রিতে বিষাক্ত পরিবেশ (টক্সিসিটি) তৈরি করে। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন শিল্পী, পরিচালক ও সাংবাদিকদের নিয়ে ইতিবাচকভাবে এগোলে শোবিজ একটি সুন্দর জায়গা। এই সততা ও ইতিবাচকতা বজায় থাকলে শিল্পাঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
এমআইকে/কেআই
