ভারতের জনপ্রিয় ও বরেণ্য অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও কর্ণাটক নির্বাচন কমিশনের মধ্যের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবার চরম রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তার ভোটার আইডি কার্ড বাতিলের খবর। শুরুতে কমিশন নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও, পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন।
দেশটির নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মর্যাদার লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকের চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম মুছে ফেলার অভিযোগ তুলে সরব হন প্রকাশ রাজ।
তিনি জানান, কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে স্পষ্ট লেখা ছিল তার ভোটার আইডি ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ বা ‘পারমানেন্টলি শিফটেড’। তালিকা থেকে তার নামটি পুরোপুরি ডিলিট করা হয়েছে এবং তাকে নতুন করে ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেতেই তোলপাড় শুরু হয়। প্রকাশ রাজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে লাখ লাখ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানোর পর তড়িঘড়ি করে কমিশনের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন এবং সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেন। এমনকি ঘটনাটি যেন তিনি ইতিবাচকভাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, সেই অনুরোধও জানান তারা।
সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে কমিশন দাবি করে তার নাম ডিলিটের খবরটি মিথ্যা। ওয়েবসাইটের তথ্য বদলে ‘স্থায়ী স্থানান্তরিত’র জায়গায় কেবল ‘স্থানান্তরিত’ লিখে দেওয়া হয়। প্রকাশ রাজ বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আপনারা এক কথা বলছেন, আর রাত সাড়ে ৮টায় পুরোনো বাড়ির সামনে ক্যামেরা ও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন সরেজমিন তদন্তের নাটক করতে। প্রকাশ্যে এই মিথ্যাচার কেন?’
নিজের নাগরিক অধিকার ও আত্মসম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না জানিয়ে এই গুণী অভিনেতা বলেন, ‘আমি একজন সেলিব্রিটি হতে পারি, কিন্তু দিনশেষে এই দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের যতটুকু অধিকার, আমারও ঠিক ততটুকুই আছে। একজন সাধারণ মানুষের সাথেও কি আপনারা এই একই আচরণ করতেন? এটা আর কেবল ভোটার আইডি কার্ডের বিষয় নয়, এটা একজন নাগরিকের সম্মানের লড়াই। আর কোনো ভয় নেই স্পষ্ট বলছি, খেলা শুরু।’
এমআইকে
