তিনি গাইতেন, গাইতো যেন তার গিটারও। লিখতেন, সুর করতেন, আর স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন তাকে যতদূর নিয়ে গেছে, তার চেয়ে বেশি এগিয়ে দিয়েছে বাংলার ব্যান্ড সংগীতকে। আজ সেই নন্দিত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে হয়তো সতীর্থদের সঙ্গে দিনটি কাটত। কিন্তু তিনি না থাকলেও তাকে ঘিরে নানা আয়োজন তো চলছেই।
আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে ঢাকা পোস্ট এবার বিশেষ আয়োজন সাজিয়েছে। তার পরবর্তী প্রজন্মের বিভিন্ন ব্যান্ড তারকার কাছ থেকে শুনেছে ‘এবি’র কথা। তাদের স্মৃতি, জীবন ও গানে কতটা মিশে আছেন ‘এলআরবি’র জনক?
এ পর্বে বলেছেন ‘শিরোনামহীন’-এর ভোকাল শেখ ইশতিয়াক :
একদম ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে বলি; আমি যখন মিউজিক শুরু করি, এখনো মনে আছে স্কুল লাইফে আমার একটা ব্যান্ড ছিল। ওই ব্যান্ডে প্রথম যে গানটা আমরা প্র্যাকটিস করেছি, সেটা এলআরবির। মিউজিক শেখার একদম শুরুর দিকে এলআরবির গানগুলো আমাদের জন্য ছিল লেসনের মতো। এরপরে যখন অ্যাডভান্স লেভেলে মিউজিক শিখছি, তখনও আমাদের কাছে এলআরবির গানগুলো লেসন হিসেবে কাজ করেছে। এটাই আসলে সবচাইতে বড় অনুপ্রেরণা। এখনো পর্যন্ত আমি ওই লেসন ধারণ করে মিউজিক করে যাচ্ছি। এটা একচুয়ালি আনবিটেবল। বাচ্চু ভাইয়ের মিউজিক বাংলাদেশের জন্য, এটা কখনো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না। মানে সম্ভবই না।

এবার ‘শিরোনামহীন’-এর পার্সপেক্টিভে বলি—এই ব্যান্ডের জার্নি ৩০ বছরের, আমি আছি ১০ বছর হলো। তো ৩০ বছরের শিরোনামহীনের ইতিহাসটায় তো বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে অনেক কোলাবোরেশন ছিল, একসঙ্গে অনেক শো করেছে। আমিও আমাদের ব্যান্ডের মধ্যে এই চর্চাটা দেখেছি। আমরা অনেকবার কনসার্টে বাচ্চু ভাইয়ের গান কাভার করেছি। উনার ‘এখন অনেক রাত’-এর সঙ্গে আমরা ‘শিরোনামহীন’-এর জনরার খুব মিল পাই। তো এ গানটা আমরা বহুবার প্র্যাকটিস করেছি। স্টেজেও গানটা করেছি। কিছুদিন আগেও আমরা সবাই মিলে একটা প্ল্যান করছিলাম যে, একটা বাচ্চু ভাই ট্রিবিউট করব আমাদের কনসার্টে। সব কনসার্টে কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটা সেগমেন্ট রাখব। সেখানে বাচ্চু ভাইয়ের কয়েকটা গান রাখতে চাই।

তার গানগুলো বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কারণ এই গানগুলোর চর্চা আমাদের একদম নতুন জেনারেশনের জন্য খুবই জরুরি। ওরা কিন্তু অনেক কিছু মিস করছে। ওরা এই মিউজিকগুলো, এই মেলোডিগুলো তো পাচ্ছে না। আমার সবসময় মনে হতো, পারফেক্ট গিটারিস্ট বাংলাদেশে একমাত্র বাচ্চু ভাই-ই ছিলেন। যিনি এতো সুন্দর করে, এতো পারফেক্টলি মেলোডি তৈরি করতে পারতেন। এই ব্যাপারগুলো নতুন প্রজন্মের যারা স্কুল-কলেজে পড়ছে, ওরা মিস করে যাচ্ছে। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব এই মিউজিক বাঁচিয়ে রাখা। সেভাবেই আমরা প্ল্যান করছি। দেখা যাক কতদূর কী করা যায়।
ডিএ/কেআই
