বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে একটি সিনেমা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি পান ঢাকাই সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে।
এর ২২ বছর পর রঙিন ফরম্যাটে ফের সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে সিনেমা হয়। ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ নামের এ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। তাকেও দর্শক ভালোবেসেছে। আজ এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন।
১৯৪১ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরে জন্ম নেন প্রবীর মিত্র। তবে বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। সেন্ট গ্রেগরি থেকে পোগজ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে জগন্নাথ কলেজে পড়েছেন। দুরন্ত কিশোর ছিলেন প্রবীর মিত্র। ক্রিকেটে তার ছিল অসামান্য দক্ষতা। খেলেছেন ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশনে। এছাড়া হকিতেও তার দক্ষতা ছিল বিপুল।
ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা ছিলেন প্রবীর মিত্র। স্কুলে পড়াকালীন প্রথমবার নাটকে অভিনয় করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধের আগে এইচ আকবরের ‘জলছবি’ দিয়ে নাম লেখান সিনেমায়। মজার ব্যাপার হলো, এই একই সিনেমা দিয়ে অভিষেক হয় নায়ক ফারুকেরও। আর আজ তারও জন্মদিন!

ক্যারিয়ারের প্রথম ভাগে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করতেন প্রবীর মিত্র। সুদর্শন এ অভিনেতা বরাবরই তার সাবলীল অভিনয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র পর তাকে আর প্রধান চরিত্রে পাওয়া যায়নি। হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রাভিনেতা।
প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘চাবুক’, ‘সীমার’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘শেয়ানা’, ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘অঙ্গার’, ‘পুত্রবধূ’, ‘নয়নের আলো’, ‘জয় পরাজয়’, ‘চাষীর মেয়ে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘লাল সবুজ’, ‘দুই নয়নের আলো’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ইত্যাদি।
‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৮৩ সালে। এরপর ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি অনন্তলোকে পাড়ি জমান এই অভিনেতা।
কেআই
