পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’- বেশ ব্যবসাসফল। এ নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনার পাশাপাশি উঠেছিল নানা প্রশ্নও। মূলত, ‘মাইকেল’-এ তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সমালোচকরা দাবি করেন, নব্বইয়ের দশকে মাইকেলকে ঘিরে ওঠা সমালোচনা ও শিশুযৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে ওঠা সেই বিতর্ক লুকানো হয়েছে এই বায়োপিকে। তবে নতুন খবর, পপতারকাকে নিয়ে সেই অভিযোগগুলোকে পর্দায় আনা হবে; অর্থাৎ বায়োপিকের পরের কিস্তিতে।
বায়োপিক ‘মাইকেল’- এর মূখ্য চরিত্র ও পপতারকার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন নিজেই জানিয়েছেন এ কথা। সিনেমায় কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
শোনা যাচ্ছে, ‘মাইকেল’- এর দ্বিতীয় কিস্তির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। চিত্রনাট্য কীভাবে এগোবে, এসব নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন জাফর জ্যাকসন। জানান, চিত্রনাট্যের বিষয়ে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও তিনি চান দ্বিতীয় সিনেমায় মাইকেলের দৃষ্টিভঙ্গিও আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসুক।
জাফর বলেন, ‘এটা অন্য কারো গল্প। বিষয়টিকে অন্য কেউ যেভাবে দেখেছে, তা মূলত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা দ্বারা চালিত। আর পরিবার হিসেবে এতদিন ধরে আমাদের মূল সমস্যাটাই ছিল এটি—মাইকেলের নিজের বক্তব্য কখনো কেউ শোনেনি। আমি মনে করি এটি সবার সামনে আসা খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তার জীবনের শেষ সময়গুলোর বিষয়ে।’
প্রথম পর্বের অভিজ্ঞতা এবং দ্বিতীয় পর্বের প্রেক্ষাপট নিয়ে জাফর আরও যোগ করেন, ‘প্রথম চলচ্চিত্রে মাইকেলকে তার একদম শুরু বা শিকড় থেকে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সব সফলতা অর্জন এবং আইকন হয়ে ওঠার আগে মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন, সে সম্পর্কে দর্শকেরা স্পষ্ট একটি ধারণা পান। কারণ দিনশেষে নব্বইয়ের দশক থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তেমনই একজন মানুষ ছিলেন।’
জাফর বলেন, ‘মাইকেল তার সততা ও মানুষের মধ্যে সবসময় ভালো দিকটা খুঁজে পাওয়ার মানসিকতা কখনোই হারাননি। তাকে যেসবের মধ্য দিয়েই যেতে হোক না কেন, তার সঙ্গে যেমন আচরণই করা হোক বা তাকে নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন—তিনি মানুষকে ভালাবাসা ও সদয় আচরণ করাটা কখনো থামননি। আমি আশা করি, দ্বিতীয় সিনেমায় দর্শকেরা এটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, ‘মাইকেল’ মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এতে মাইকেলের ১৯৮৭ সালের ‘ব্যাড’ অ্যালবাম প্রকাশ পর্যন্ত সময় দেখানো হয়েছে। এর পর ১৯৯৩ সালে মাইকেলের বিরুদ্ধে প্রথমবার শিশুযৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে, যা প্রথম সিনেমার গল্পে থাকেনি।
ডিএ
