বিজ্ঞাপন

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া

টক্সিক : সবই আছে, শুধু গল্পটাই নেই!

টক্সিক : সবই আছে, শুধু গল্পটাই নেই!

‘কেজিএফ’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর লম্বা চার বছরের বিরতি। অবশেষে পর্দায় এলেন কন্নড় সুপারস্টার যশ। আজ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘টক্সিক : আ ফেইরিটেল ফর গ্রোন-আপস’। গীতু মোহনদাসের বড় আয়োজনের সিনেমাটি দেখতে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ছে প্রেক্ষাগৃহে। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও উঠেছিল ঝড়।

তবে মুক্তির পর থেকে যেসব প্রতিক্রিয়া আসছে, তাতে হতাশাই দেখা যাচ্ছে বেশি। অধিকাংশ সমালোচক সিনেমাটি পছন্দ করছেন না। রিভিউতে তাদের মূল কথা, সিনেমাটিতে সব কিছু আছে বটে, কিন্তু মূল জিনিস অর্থাৎ গল্পটাই নেই!

বলিউড হাঙ্গামার রিভিউতে ‘টক্সিক’কে ৫-এর মধ্যে মাত্র ২ রেটিং দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সিনেমাটিতে ‘স্টাইল আছে, কিন্তু গল্প ও গভীরতা নেই’। বিশাল স্কেল, অ্যাকশন ও যশের সোয়্যাগ নজর কাড়ে। কিন্তু দুর্বল চিত্রনাট্য, ধীরগতি এবং আবেগের ঘাটতি ছবিটিকে হালকা করে ফেলেছে। চিত্রনাট্যটি একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও পরীক্ষামূলক—কিন্তু কোনো দিকেই পুরোপুরি সফল হয়নি।

সিনেমায় রায়া চরিত্রে যশের নায়কোচিত অভিনয় প্রশংসা পাচ্ছে। তবে সেরা পারফর্মেন্স বলা হয়েছে কিয়ারা আদভানির অভিনয়কে। এছেড়া নয়নতারা, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশির অভিনয়ও প্রশংসার দাবিদার। ভালো সিনেমাটোগ্রাফি, প্রোডাকশন ডিজাইন, ভিএফএক্স এবং অ্যাকশন সিনেমাটিকে আকর্ষণীয় করে তুললেও প্রাণবন্ত বানাতে পারেনি।

‘টক্সিক’ সিনেমার দৃশ্যে যশ

হিন্দুস্তান টাইমসের রিভিউতে রেটিং আরো কম। ৫-এর মধ্যে মাত্র ১ দিয়েছেন সমালোচক। বলা হয়েছে, ‘টক্সিক’ সিনেমাটি ‘আত্মাহীন’ এবং এটা যেন দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে! এই রিভিউতে সিনেমাটিকে ‘দুঃস্বপ্ন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন সমালোচক। ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের সিনেমাটিতে এত বেশি চরিত্র আসে-যায় যে, মূল গল্পের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি হয় না। যশের চরিত্র রায়াকে শক্তিশালী, যৌন আবেদনময় ও অপরাজেয় করে তুলতে গিয়ে সিনেমাটি গল্পের সুসংহতিকে বিসর্জন দিয়েছে। বারবার অ্যাকশন-মারপিটের দৃশ্য থাকায় রায়ার মূল লড়াইয়ের কারণটাও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তাছাড়া সিনেমাটিতে এত এত নারী চরিত্র থাকলেও সেগুলো আদতে নায়ক তথা রায়া চরিত্রকে এগিয়ে নিতে সহযোগী হিসেবেই কাজ করেছে। যেটা নারীর অবস্থানকে কোনোভাবে মহিমান্বিত করে না।

একই প্রতিক্রিয়া মিলল ইন্ডিয়া টুডের রিভিউতেও। এতেও বলা হয়েছে, সিনেমায় ‘স্টাইল আছে, কিন্তু শক্তিশালী বক্তব্য নেই’। তবে দ্বৈত চরিত্রে যশের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন সমালোচক। ছবির অ্যাকশনকেও শক্তিশালী দিক হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে সার্কাসে রায়ার ওপর হামলার দৃশ্যটি রিভিউয়ারের কাছে আলাদাভাবে নজড় কেড়েছে।

নয়নতারাকে ‘গঙ্গা’ চরিত্রে কার্যকর বলা হলেও তাঁর চরিত্রকে যথেষ্ট জায়গা দেওয়া হয়নি, যেটা সিনেমার বড় দুর্বলতা। তবে কিয়ারার অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে এই রিভিউতেও।

‘টক্সিক’ সিনেমায় যশ

এই তিন গণমাধ্যমের বাইরে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ১.৫ রেটিং দিয়েছে; এখানেও সিনেমাটিকে ‘অগভীর’ বলা হয়েছে। এনডিটিভি তুলনামূলক ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছে। ৫-এর মধ্যে তাদের রেটিং ৩। যশের অভিনয়ের প্রশংসা থাকলেও বলা হয়েছে, এটি ‘গ্যাংস্টার মহাকাব্য হয়ে উঠতে পারেনি’।

কেআই

বিজ্ঞাপন