এ বছর ‘লাক্স সুপারস্টার’-এ হয়েছেন ফার্স্ট রানার আপ। তবে এর আগেই পা রেখেছিলেন শুটিং ফ্লোরে। এখনও তার ব্যস্ততা শুটিংয়েই। বলা হচ্ছে তরুণ অভিনেত্রী নাযাহ নাওয়ার-এর কথা। বর্তমানে শিহাব শাহীনের ওয়েব সিনেমা ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র কাজে ব্যস্ত তিনি; এ ছাড়াও তার অভিনীত সিরিজ ‘অ্যানি’ মুক্তির পথে। সম্ভাবনাময়ী এ অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন দ্বীন অর্ণব।
ঢাকা পোস্ট: শিহাব শাহীনের ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় অভিনয় করেছেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
নাযাহ: ইতোমধ্যে আমাদের শুটিংটা শেষ হয়েছে, কমপ্লিট হয়েছে। এখন মুক্তির পালা। হয়তো খুব শিগগির এটা মুক্তি পাবে, এখনও ডেট জানি না। তবে শুটিংয়ের এক্সপেরিয়েন্স অসাধারণ ছিল। আমার জন্য তো একদম অবিশ্বাস্য ছিল। কারণ ক্যারিয়ারের শুরুতেই শিহাব শাহীন স্যারের মতো একজন নির্মাতার সাথে কাজ করছি। ওনার কাজ আমার খুব পছন্দ, আমি অনেক আগে থেকে ওনার কাজ দেখেছি, ওনার কাজ ফলো করি। আর এখ তার কাজ দিয়ে মূল ধারার কাজে আমার অভিষেক হচ্ছে। সাধারণত অনেক বছরের অভিজ্ঞতার পর ওনার মতো নির্মাতার সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে নিজেকে আসলে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে যে, শুরুতেই মেইনস্ট্রিমে কাজ করতে পারলাম শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে।
ঢাকা পোস্ট: ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
নাযাহ: প্রজেক্টটা আমার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি যে রকম এনজয় করেছি, সেরকম নার্ভাসনেসও ছিল। কারণ প্রথমবারের মতো একজন সহশিল্পীর সঙ্গে রোম্যান্টিক গল্পে অভিনয়। পুরো সেটের মানুষ খুব হেল্পফুল ও কোঅপারেটিভ ছিল। আমার কো-অ্যাক্টরও খুব ভালো ও হেল্পফুল ছিলেন। আর সেটে প্রথম যে দিন গিয়েছিলাম, মনে হচ্ছিল, একদিন এসব ভাবতাম বা স্বপ্ন দেখতাম; সেটে যাবো, মেইনস্ট্রিমে কাজ করবো, আমার একটা স্টোরি থাকবে। সেটাকেই বাস্তব হতে দেখছি।

ঢাকা পোস্ট: ওয়েব সিরিজ- 'অ্যানি' তে কাজ করেছেন। যতদূর জানলাম, লাক্স সুপারস্টারে অংশ নেওয়ার আগেই কাজটি করেছেন। সেটা কীভাবে হয়েছিল? এ সিরিজে যুক্ত হওয়ার গল্পটা জানতে চাই...
নাযাহ: ২০২৩ সালে এই সিরিজের শুটিং হয়েছিল। সেই সময়ে এটা আমার জন্য অবশ্যই বড় একটা অপরচুনিটি। কারণ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ডিরেকশনে কাজ করার ব্যাপারটা তো অনেক বড় পাওয়া। লম্বা একটা অডিশন প্রসেস ও লুক টেস্টের মাধ্যমে কাজটা পেয়েছিলাম। তিনবার অডিশন দিতে হয়েছিল। তৃতীয় ধাপে ডিরেক্টর নিজেই অডিশন নিয়েছিলেন। অডিশন দেওয়ার পর ডিরেক্টর বলেন, ‘শি ইজ দ্যা বেনি, ও-ই বেনি।’ তো এরপর আরকি, এভাবে কাজের সাথে যুক্ত হওয়া। শুটিং করলাম, সবকিছু মিলিয়ে এটা আসলে অনেক সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা।
ঢাকা পোস্ট: আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ আন্তর্জাতিক মানের নির্মাতা। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
নাযাহ: অবশ্যই দারুণ। অ্যাজ আ পারসন, উনি অনেক ভিন্ন রকমের একজন মানুষ। ওনার সাথে কোনো আর্টিস্ট একবার কাজ করলে আমার মনে হয় সে আর্টিস্ট বারবারই কাজ করতে চাইবে। ওনার যে ভিশন, সেটা টোটালি ডিফরেন্ট; সেটা এক্সপেরিয়েন্স করতে পেরেছি।
ঢাকা পোস্ট: শোবিজে আপনার এই আগমনের নেপথ্যে অনুপ্রেরণা কে?
নাযাহ: আসলে আমি একদম ছোট থেকেই শোবিজে কাজ করতে চেয়েছি। আমার নিজের আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করতে চেয়েছি; যেন মানুষজন আমাকে চেনে, নাযাহ নাওয়ার নামে একজন আছে। আর আমি যেভাবে একেকটা মানুষকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, ঠিক তেমনটাই আমি চাই, আমাকে দেখেও অন্য ১০টা সাধারণ মেয়ে বলবে—‘আমি নাযাহর মতো হতে চাই’। এই আইডেন্টিটি ক্রিয়েটের ইচ্ছা থেকেই আমার এখানে আসা। অনুপ্রেরণা বলতে আমার নিজের ইচ্ছাশক্তিই আসলে।

ঢাকা পোস্ট: আপনার পড়াশোনা নিয়ে জানতে চাই। কোন পর্যায়ে রয়েছে?
নাযাহ: এইচএসসি কমপ্লিট করেছি এবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, ক্লাস শুরু হবে এই সেপ্টেম্বর থেকে।
ঢাকা পোস্ট: পড়াশোনা আর শোবিজের ব্যস্ততা সামলে নেন কীভাবে?
নাযাহ: এটা অনেক ডিফিকাল্ট। কারণ পড়াশোনায় অ্যাটেন্ডেন্সের একটা ঝামেলা থাকে, তার ওপরে আবার শুটিংয়ের টাইম শিডিউল ঠিক থাকে না। সকালে ভোরে শুরু হলে পরের দিনও হয়ে যায় শুটিং, টানা তিন-চার দিন চলতে থাকে। তো সবকিছু মিলিয়ে বেশ ঝামেলার। তবে ব্যালেন্স করতে হয় আরকি। ভালোবাসার জিনিসে সেভাবে বিরক্তি লাগে না। ইচ্ছাশক্তি থাকলে সেটা এমনিই ম্যানেজ হয়ে যায়।
ঢাকা পোস্ট: ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ ও ‘অ্যানি’র পর আর কিছু করছেন?
নাযাহ: আপাতত এ কাজগুলাই আসতে যাচ্ছে। সামনে আরো কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাই জানাতে পারছি না। এখন আমি ‘অ্যানি’ আর ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নিয়েই অনেক আশাবাদী। ‘অ্যানি’তে দেখতে চাই, এত বছর আগে কী করেছি। আর ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নিয়ে আরও বেশি হোপফুল, এত বছর ব্রেকের পর একটা কাজ করলাম, দেখা যাক দর্শক কী প্রতিক্রিয়া দেয়।

ঢাকা পোস্ট: ‘লাক্স সুপারস্টার’-এর পুরো সফর নিয়ে কিছু বলুন…
নাযাহ: সবকিছু মিলিয়ে আমি লাক্সকে অনেক থ্যাংকস দিতে চাই। জানি না, লাক্স আমার জীবনে না এলে কী হতো! এই প্ল্যাটফর্ম আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে আজীবন। কারণ লাক্সের জন্যই আমি এখানে। আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার প্রতিও আমি অনেক গ্রেটফুল। লাক্স আমাকে যে প্ল্যাটফর্ম ও পরিচিতি দিয়েছে, কাজের মাধ্যমে সেই পরিচিতি ও মানুষের ভালোবাসা সুন্দর করে ধরে রাখতে চাই।
ডিএ/কেআই
