রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে আবৃত্তি, অভিনয় ও সংগীতের মেলবন্ধনে পরিবেশিত হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ শ্রব্য-দৃশ্য-কাব্য ‘খুলনা একাত্তর: আমার মুক্তিযুদ্ধ’। এটি মূলত ২০১৪ সালে প্রকাশিত দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থ ‘খুলনা একাত্তর: আমার মুক্তিযুদ্ধ’, যা এবার মঞ্চস্থ হলো।
মূল গ্রন্থটিকে মঞ্চের উপযোগী করে সম্পাদনা করেছেন আশরাফুল হাসান বাবু এবং চমৎকার এই পরিবেশনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন ড. তিতাস রোজারিও।
এই প্রযোজনায় গান, আলো ও আবহ ধ্বনির সুনিপুণ সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের শরণার্থী শিবিরের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও উদ্বাস্তু মানুষের সংগ্রামের এক জীবন্ত চিত্র দর্শকহৃদয়ে আবেগ ছড়িয়ে দেয়।
সাধারণত মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক নাটক বা চলচ্চিত্রে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের গল্প বেশি প্রাধান্য পেলেও এ আয়োজনে তুলে ধরা হয় যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের ত্যাগ ও দেশান্তরী হওয়ার করুণ আখ্যান। একটি সাধারণ পরিবারের সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এবং সেই দুঃসহ দিনগুলোর মানবিক দিকগুলোই ছিল এই পরিবেশনার মূল উপজীব্য। উত্তরপ্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের এই অজানা প্রেক্ষাপট জানা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
প্রদর্শনী শেষে এক সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ ও শুভেচ্ছা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্রন্থটির লেখক ও স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক মফিদুল হক, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম এবং ভার্গব বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তারা তাদের একাত্তরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধদিনের স্মৃতি তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিসংগ্রামের প্রকৃত সত্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডিএ
