মাত্র দুই কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ছবি ‘হনুমান অংশ’ বক্স অফিসে তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। শুরুটা ধীরগতির হলেও দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় টানা চার সপ্তাহ ধরে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে দারুণ ব্যবসা করছে সিনেমাটি। এখন পর্যন্ত শুধু ভারতেই এর আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৮৮ লাখ রুপি। তবে অভাবনীয় এই সাফল্যের পর ইন্ডাস্ট্রির নানা মহল থেকে প্রশংসা মিললেও সিনেমা মুক্তির আগে বলিউড থেকে কোনো সমর্থন পাননি বলে জানিয়েছেন এর পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে সিনেমাটি তৈরির পেছনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। জানান, বড় বাজেটের নতুন সিনেমার চাপে মুক্তির পরপরই ‘হনুমান অংশ’র শো সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২৫০টি স্ক্রিন থেকে কমিয়ে ছবিটি মাত্র ২৫টি স্ক্রিনে নামিয়ে আনা হয়। এমনকি পিভিআর ও সিনেপলিসের মতো বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইনগুলো শুরুতে প্রাইম লোকেশনে ছবিটি চালাতে ইতস্তত করছিল। তবে সাধারণ দর্শকের ভালোবাসাই ছবিটিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
মুক্তির আগে বলিউড থেকে কোনো সাহায্য পেয়েছিলেন কি না— এমন প্রশ্নে হেসে উত্তর দেন বিশাল। তিনি বলেন, সিনেমা ব্যবসা করার পর অনেকেই ফোন করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তবে যাদের কাছে মুক্তির আগে সাহায্য চেয়েও পাননি, এখন আর তাদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চান না তিনি। ব্যতিক্রম হিসেবে পরিচালক মধুর ভান্ডারকরের কথা উল্লেখ করে বিশাল জানান, সাহায্য না চাওয়া সত্ত্বেও মধুর ভান্ডারকর নিজে থেকে ফোন করে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বলিউডের বর্তমান আবহ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এই নির্মাতা আরও জানান, ভিন্ন ধারার কিছু তৈরি করতে গেলে মানুষ উৎসাহ দেওয়ার বদলে নিরুৎসাহিত বেশি করে। কোন কাজটা সফল হবে তা না জেনেই অনেকে পরামর্শ দিয়ে যান। বর্তমান হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বিভ্রান্ত মানুষে ভরপুর। এখানে একদল সত্যি ভালোবাসা থেকে চলচ্চিত্র বানান, আর অন্য দল কোনো আবেগ ছাড়াই কেবল ভাগ্যের অন্বেষণে সিনেমা তৈরিতে নামেন।
উল্লেখ্য, ভারতের জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গুরু নীম করোলি মহারাজের জীবন ও আদর্শকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে ‘হনুমান অংশ’। বিশাল চতুর্বেদীর পরিচালনায় সিনেমাটিতে নীম করোলির চরিত্রে অভিনয় করেছেন শোভিনব সত্যা। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে চন্দন কে আনন্দ, উদয় সিং রাজপুত, পূর্ণিমা তিওয়ারি ও অনিল রাস্তোগিকে। গত ৭ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর প্রথম দিনে মাত্র ১০ লাখ রুপি দিয়ে খাতা খুললেও তৃতীয় সপ্তাহে গিয়ে ছবিটির আয় দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। বড় কোনো তারকা কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচার ছাড়াই ভিন্নধর্মী কাহিনি ও দর্শকমুখী আবেদনের জোরেই ছবিটি বক্স অফিসে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
ডিএ
