জীবনের কথায় লুইপার গান—এমনটা হয়েছে বহুবার। শ্রোতারাও এ যুগলবন্দী পছন্দ করেছেন বরাবরই। তবে এবারের গানটাকে স্রেফ গান বললে বরং অসম্পূর্ণই শোনায়। কারণ এর নেপথ্যে জড়িয়ে আছে তাদের দুজনেরই ব্যক্তিগত আবেগ-ভালোবাসার অস্তিত্ব।
গানের শিরোনাম ‘প্রজাপতি’। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, গেয়েছেন জিনিয়া জাফরিন লুইপা। সুর-সংগীতে সাম্যব্রত দৃপ্ত। গতকাল (৪ সেপ্টেম্বর) গানটি ভিডিওসমেত প্রকাশিত হয়েছে।
এবার আসা যাক বিশেষত্বের বয়ানে। ‘প্রজাপতি’র জন্মলগ্নের গল্প শোনালেন জীবন। ঘটনা গেল রোজার ঈদের। স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রামের বাড়িতে গেলেন। এক বিকেলে কন্যা মাইজাহকে নিয়ে বের হলেন হাঁটতে। রাস্তার ধারে ছোট গুল্ম-গাছে উড়ছিল প্রজাপতি। ছোট্ট মাইজার চোখে মুগ্ধতা আর বিস্ময়। প্রজাপতিগুলো ছুঁতে চায়, তাদের পেছনে ছুটতে চায়। বাবা জীবন সে মুহূর্তের ভিডিও করে রাখলেন।
বাকিটা জীবনের ভাষ্যে শোনা যাক, ‘ঢাকায় আসার পর সেই ভিডিওটা দেখছিলাম। আর ওমনি গানের ভাবনা মাথায় আসে। লিখে ফেলি ‘প্রজাপতি’। যদিও সন্তানকে নিয়েই ভাবনাটা মাথায় এসেছিল; তবে গানটি এমনভাবে লিখেছি, কেউ তার বন্ধু বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে ভেবেও শুনতে পারে, যে কোনো সুখের অনুভূতির সঙ্গেই মেলাতে পারবে।’

গানের প্রাথমিক সুর-সংগীত তৈরি হওয়ার পর লুইপাকে শোনানো হয়। এক শ্রবণে তিনিও পছন্দ করলেন। আর গানটি রচনার নেপথ্যের গল্প শুনে হলেন আরো আপ্লুত। অতঃপর ভাবলেন, এই গানই হবে তার কন্যা পায়রার জন্মদিনের উপহার।
৫ সেপ্টেম্বর পায়রার জন্মদিন। এ উপলক্ষেই নতুন গানটি প্রকাশ করলেন লুইপা। তার আগে সেরেছেন ভিডিওর কাজ। যেটা বানিয়েছেন চন্দন রায় চৌধুরী। আর ভিডিওতে মেয়ে পায়রাকে নিয়েই অভিনয় করেছেন লুইপা।

গানটি নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে লুইপা বলেন, “আমার মৌলিক গানগুলোর মধ্যে ‘প্রজাপতি’ খুব বিশেষ হয়ে থাকবে। আর শ্রোতারা এই গল্প পড়ার আগেই যদি গানটা শুনে ফেলেন, তবে সুরে সুরে, মনে মনে গল্পটাও জেনে যাবেন। চোখের সামনে নিজের প্রজাপতির ছবিটা এমনিতেই ভেসে উঠবে আমার বিশ্বাস।”
আর জীবন বললেন, ‘আমি আমার মেয়েকে বা প্রজাপতিকে নিয়ে গানটা লিখেছি, আর লুইপা ওর প্রজাপতিকে নিয়ে গেয়েছে। এটা দারুণ একটা ব্যাপার। আমাদের দুজনের জীবনেই এ গান বিশেষ হয়ে থাকবে।’
কেআই
