মাইনুল আহসান নোবেল—বাংলা গানে নতুন সম্ভাবনার আলো হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। কলকাতার ‘সারেগামাপা’ আয়োজনে গিয়ে তুলেছিলেন ঝড়। এরপর সৃজিত মুখার্জির সিনেমায় গান, দেশেও গান-কনসার্টের ব্যস্ততা। স্বপ্নের মতোই সূচনা হয়েছিল নোবেলের।
কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দুঃস্বপ্নে রূপ নিতে বেশিদিন লাগেনি। বিশৃঙ্খল জীবনযাপনে নোবেল ছিটকে পড়েছেন পথ থেকে। বিতর্ক তার ছায়া হয়ে চলতে থাকল। খেটেছেন জেলও। অথচ দরাজ কণ্ঠের এই শিল্পী চাইলে অনন্য উচ্চতায় যেতে পারতো বলেই বিশ্বাস করতেন সকলে।
একই আফসোস করলেন নন্দিত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার আশিকুজ্জামান টুলু। ‘চাইম’ ও ‘আর্ক’ ব্যান্ড খ্যাত এই শিল্পীর মতে, নোবেল তার প্রতিভা নিজেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় টুলু লেখেন, ‘নোবেলের জন্য খুব খারাপ লাগে একটা কথা ভেবে, কী অদ্ভুত প্রতিভা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় একেবারে ধূলিসাৎ করে দিলো। এত সুন্দর তার গাওয়া ছিল, আহা!’
বছর পাঁচেক আগে প্রকাশিত হয়েছিল নোবেলের গান ‘অভিনয়’। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি। সে গানের সূত্র ধরে টুলু লেখেন, “কী আগুন জ্বলছে বুকে’ গানটা শুনলাম, ওর এক্সপ্রেশন, গায়কী, স্কিল, টোন সবকিছু একেবারে পাগল করে দেওয়ার মতো। ও যদি সিরিয়াস থাকত, এক্সট্রিমলি ভালো করত, অন্য লেভেলে চলে যেতে পারত। এভাবে নষ্ট হয়ে যেতে দেখলে খুব খারাপ লাগে।’’

নোবেলের এই অধঃপতনের নেপথ্যে ‘মাদক’-এর প্রভাব রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেছেন টুলু। তার ভাষ্য, ‘আসলে এগুলো দেখতে আর ভালো লাগে না। নিজের চোখের সামনে নেশা করে ধ্বংস হয়ে যেতে বেশ কয়েকজনকে দেখেছি; তাই এসব দেখতে আর ভালো লাগে না।’
টুলুর পোস্টে প্রায় সকলেই তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। সবারই মতে, শৃঙ্খলাহীন যাপনে নিজের অসামান্য প্রতিভাবে নষ্ট করেছেন নোবেল।
কেআই
