২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের তিক্ত স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় বলিউড তারকা সাইফ আলী খানকে।
ভয়ানক অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে সাইফ বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা নিজেদের মানসিকভাবে অনেক সামলে নিয়েছি। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা গিয়েছিল কারিনার ওপর দিয়ে, কারণ ও মানুষ হিসেবে ভীষণ সংবেদনশীল। ওই পরিস্থিতিটা যে কারোর জন্যই স্বাভাবিক থাকা কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আজও আমি পুরোপুরি ট্রমা মুক্ত হতে পারিনি। কোনো ধারালো বা চোখা ছুরি দেখলে এখনো চমকে উঠি।’
তার কথায়, ‘আজ ভাবলে অবাক লাগে, হামলাকারীর হাতের অস্ত্রটাই ভাঙা ছিল! ছুরি হামলার ইতিহাসে বোধহয় এটাই ছিল সবচেয়ে নিম্নমানের অস্ত্র। যদি ওটা আসল কোনো ‘র্যাম্বো নাইফ’ হতো, তবে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। শরীরে অজস্র আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল, কিন্তু জীবনটা বেঁচে গেছে। এই অবিশ্বাস্য সৌভাগ্যের জন্য নিজেকে ধন্য মনে হয়। আর তাই, এখন মনে হয় হামলাকারীকে আমি মন থেকে ক্ষমা করে দিতেও প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, তখন মনের ভেতরে অদ্ভুত একটা নীরবতা চলে এসেছিল। মনে হয়েছিল, আমি তো চমৎকার একটা জীবন পেয়েছি। প্রিয় কোনো মানুষের হাত ধরে শান্তিতে বিদায় নিতেও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। একজন যোদ্ধার মতো চলে যেতেও আপত্তি ছিল না। মৃত্যুকে মেনে নিতে পারতাম, কিন্তু কোনোভাবে পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকাটা আমার সহ্য হতো না। ভাগ্য ভালো, সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই পরিণতি থেকে রক্ষা করেছেন।’
এমআইকে
