বলিউডের ক্লাসিক হয়ে উঠেছে ২০০৯ সালের ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’। রাজকুমার হিরানির এ ছবি একটা প্রজন্মের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে। এ ছবির গল্পে বদলে গেছে অনেকের জীবন, চিন্তার জগৎ। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র র্যাঞ্চো (ফুংসুক ওয়াংড়ু), যার সঙ্গে ভারতীয় প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের মিল রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এটাই প্রচলিত রয়েছে যে, সোনম ওয়াংচুক থেকেই অনুপ্রাণিত চরিত্র র্যাঞ্চো। কিন্তু এটাকে ‘ভুল ধারণা’ বলে দাবি করলেন চরিত্রটির অভিনেতা আমির খান। তিনি জানান, ছবিটির গল্প-চরিত্র বানানোর সময় নির্মাতা-লেখকরা সোনম সম্পর্কে জানতেন না।
প্রশ্নফাঁসের তদন্ত ও ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বর্তমানে আমরণ অনশন পালন করছেন ওয়াংচুক। এ নিয়ে ভারতের শোবিজ তারকারাও উদ্বিগ্ন, অনেকেই ওয়াংচুকের পক্ষে কথা বলছেন। ভারত সরকারকে এ নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলছেন।

সোনমের অনশন নিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ‘থ্রি ইডিয়টস’ অভিনেতা ওমি বৈদ্য। তিনিও জানান, র্যাঞ্চোর চরিত্রটি ওয়াংচুকের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত। সেই থেকে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন, খোদ র্যাঞ্চো চরিত্রের অভিনেতা আমির কেন চুপ হয়ে আছেন?
অবশেষে মুখ খুললেন আমির। লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে তার কাছে এক দর্শক জানতে চাইলে আমির বলেন, “চতুরের (ওমি বৈদ্য) দাবি ভুল। এটি একটি ভুল ধারণা। আমরা যখন ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাটি করছিলাম, তখন সোনাম সম্পর্কে জানতাম না। মুক্তির পর যখন সোনামের কথা সামনে আসে তখন তিনি (সোনম) নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।”

যদিও সোনম ওয়াংচুক অনেক বছর আগে জানিয়েছেন, আমিরের সঙ্গে তার ২০০৮ সালেই দেখা হয়েছিল। সে সময় তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়। তারপরের বছরই মুক্তি পায় ‘থ্রি ইডিয়টস’। ওয়াংচুক জানান, কাহিনীর স্বত্ব বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করার আইনি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেছেন। এরপর নির্মাতাদের কাছে একটি চিঠি লিখে সিনেমাটি তৈরির আগে আমিরের সঙ্গে তার আলাপের বিষয়টি জানান। তবে সে সময় তারা এর কোনো উত্তর দেননি। তিনি নিজেও উত্তরের আশা করেন না বলে জানান ওয়াংচুক।
কেআই
