শোবিজ বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় খাত চলচ্চিত্র। আর চলচ্চিত্রের বৃহত্তম উপলক্ষ্য ঈদ। ফলে বড় বড় ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসে ঈদেই। কিন্তু সেসব ছবি যখন সপ্তাহ না ঘুরতেই পাইরেসির কবলে পড়ে ছড়িয়ে যায় হাতে হাতে, তখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দেয় প্রযোজকের কপালে। আর ইন্ডাস্ট্রির আকাশে জমাট বাঁধে সংকটের কালো মেঘ।
মাঝে দীর্ঘদিন পাইরেসির কবল থেকে দূরে ছিল ঢালিউড। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুরনো সেই ঘা নতুনভাবে জেগে উঠেছে। গত বছরের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘তাণ্ডব’ পাইরেসির শিকার হয়েছিল। অনেকে বলেন, পাইরেসি না হলে রায়হান রাফীর ছবিটি ইন্ডাস্ট্রির সব রেকর্ড ভেঙে দিত। তারও আগে ২০২৩-এ ছড়িয়ে পড়ে তুমুল চর্চিত ছবি ‘সুড়ঙ্গ’র পাইরেটেড কপি। এবারের ঈদের বড় ছবি ‘রকস্টার’ও এড়াতে পারেনি পাইরেসির ধাক্কা। মুক্তির এক সপ্তাহের মাথায় ছবিটির পাইরেটেড সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে। স্বাভাবিকভাবেই এতে ছবির বাণিজ্যে অনেক প্রভাব পড়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, হলের ভেতর থেকে নাকি লোকাল সোর্স ফাইল বা সার্ভার—ঠিক কোথা থেকে পাইরেসি হচ্ছে? আর কেনই বা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অপরাধ? নির্মাতা, প্রযোজক হল মালিক, প্রযুক্তি ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করেছে ঢাকা পোস্ট।
প্রযুক্তির আধুনিকায়ন না হওয়া, সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর লোকাল সার্ভার ত্রুটি এবং কপিরাইট আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের দাবি, দর্শকরা পাইরেট কপি বর্জন করে সিনেমা হলে না এলে এবং সরকার আন্তর্জাতিক মানের টেকনোলজি ব্যবহারে সহযোগিতা না করলে এই আগ্রাসন থামানো অসম্ভব। পাইরেসি চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আদতে দর্শকের সচেতনতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন নির্মাতারা।
ক্ষতিগ্রস্ত দুই নির্মাতার বয়ান
‘রকস্টার’-এর পাইরেসি প্রসঙ্গে পরিচালক আজমান রুশো বলেন, ‘পাইরেসি একটি ধ্বংসযজ্ঞ, যার কারণে ব্যবসা নষ্ট হয়। যারা পাইরেসি করছে, তাদেরকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে শাকিব খানের সিনেমা হলেই একদল উঠে-পড়ে লাগছে পাইরেসি করার জন্য।’
সিনেমা মুক্তির পর দ্রুত যে পাইরেসি হচ্ছে, এটা কতটা উদ্বেগের? ‘এটা অনেক উদ্বেগের; যতটা প্রতিরোধ করা যায়, ততই ভালো। ম্যাক্সিমাম তো সিনেমা হল থেকে ভিডিও করে পাইরেসি করে, আর কিছু হয়তো ভেতরের লোক আছে। ভেতরের লোক ছাড়া পাইরেসি করা সম্ভব না। কিন্তু ভেতরের কোন লোক পাইরেসি করছেন, তা সঠিকভাবে জানি না। এটা যদি আমরা বের করতে পারতাম, তাহলে পাইরেসি হতো না’—বললেন রুশো।
এ নির্মাতা আরো জানান, ‘রকস্টার’-এর পাইরেসি ইস্যুতে সিআইডিতে মামলা করা হয়েছে। এখন সেখান থেকেই বিষয়টির তদন্ত চলছে। এছাড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মোশন পিকচার্সের টিমও কাজ করছে।
পাইরেসির শিকার হওয়া ‘তাণ্ডব’ নির্মাতা রায়হান রাফীর মনেও একই উদ্বগ। তিনি বলেন, ‘রিলিজের পরই পাইরেসি হয়ে গেলে সিনেমায় অনেক প্রভাব পড়ে। এগুলো নিয়ে শুধু কথা বললে হবে না। আমরা মামলা করেছি, যারা পাইরেসি করেছে তারা জেলে গেছে। আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে পাইরেসি কমবে না।’

এত সিকিউরিটির মধ্যে পাইরেসিটা কীভাবে হচ্ছে? জবাবে রাফী বলেন, ‘আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছিলাম, এটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বের করবে। পাইরেসি কীভাবে হয় সেটা আমরা জানি না, জানলে তো ধরে ফেলতাম। পুলিশ হয়তো বের করার চেষ্টা করছে, বের করতে আদৌ পারছে কি না সেটা জানি না। দর্শকদের অনেকে আসলে পাইরেটেড কপি দেখে অভ্যস্ত; তারপরও তাদের রিকোয়েস্ট করব, আপনারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে অরিজিনাল কপি দেখবেন।’
প্রযোজক চান প্রপার সিস্টেম
ঢালিউডে এখন বৃহত্তম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই স্টুডিওস। বড় বড় আয়োজনের ছবি নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এর কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিল বলেন, “পাইরেসির কারণে আমাদের আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এটা খুবই ডেঞ্জারাস ব্যাপার। মুক্তির মাত্র ষষ্ঠ দিনে আমাদের ‘তাণ্ডব’-এর পাইরেসি হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশে এটাই প্রবলেম যে, এখন পর্যন্ত আমাদের সিঙ্গেল স্ক্রিনের জন্য ই-সিনেমার যে টেকনোলজি, সেটা নেই। আমরা যেভাবে সিনেমা রিলিজ করি, সারা পৃথিবীর কোথাও এভাবে রিলিজ করে না। এ কারণে পাইরেসি হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক।”
শাকিলের পরামর্শ, ‘সারা পৃথিবীতে যেভাবে ছবি রিলিজ হয়, সে পথে না এগোলে পাইরেসি ঠেকানো কঠিন। একটা সিস্টেমে আসতেই হবে এবং ওই সিস্টেমটা ইন্ট্রোডিউস করানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। পাইরেসি ঠেকানোর মতো আমাদের টেকনোলজি নেই। যেভাবে রিলিজ হচ্ছে, যে টেকনোলজিতে, যেই সার্ভারে, সেটা ইন্টারন্যাশনালি রেকগনাইজড না। এগুলো লোকালি তৈরি করা এবং এই সার্ভারগুলো থেকে পাইরেসি হওয়াই স্বাভাবিক।’
ঠিক কারা পাইরেসির সঙ্গে জড়িত, এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারলেন না শাকিল। এতটুকু বললেন, ‘পাইরেটরা সবসময় ওঁত পেতে থাকে, ভালো ছবিগুলো পাইরেসি করার জন্য। এটা পুরো পৃথিবীতেই হয়। কিন্তু সেটা ঠেকানোর মতো ব্যবস্থা তো আমাদের থাকতে হবে।’
প্রদর্শকরা যা বলছেন
পাইরেসি হলে হল মালিকরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হন। সে দুর্দশার কথা উল্লেখ করে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, “পাইরেটেড সিনেমা দর্শক যদি দেখে, তাহলে হলে এসে কেন দেখবে? এদিকে আমাদের প্রযোজক-পরিচালকরা ভালো ছবি বানাচ্ছে না। ‘প্রিন্স’-এ ধরা খেলাম, এবার ‘রকস্টার’-এ ধরা খেলাম, আর কত ধরা খাবো! আমাদেরকে হল বন্ধ করে দিতে হবে। দুইটা ঈদে আমরা কিছু পয়সা পাই; কিন্তু এবারের দুই ঈদ একেবারে খালি গেছে, একদম জিরো। মধুমিতা হলে সিনেমা চলাকালীন আমাদের কর্মীরা দাঁড়িয়ে থাকে, এখান থেকে পাইরেসি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গ্রামগঞ্জের প্রেক্ষাগৃহে পাইরেসি হতে পারে।”
কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেল দেশের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পাইরেসির প্রভাব আমাদের ওপর খুব বেশি পড়ে না। সিনেপ্লেক্সের যে দর্শক, তারা সিনেপ্লেক্সেই সিনেমা দেখে। এরা পাইরেটেড প্রিন্ট দেখতে চায় না; সিনেমা হলের ফিলটা নেওয়ার জন্যই দর্শকরা সিনেপ্লেক্সে আসে। আমাদের হলে আমরা গ্যাজেট ইউজ করতে দিই না। সবসময় হলের ভেতরে আমাদের লোক থাকে। আমাদের এখান থেকে পাইরেসি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো রেকর্ডও নেই, কোনো সিনেমা কখনো আমাদের কাছ থেকে পাইরেসি হয়েছে।’
তবে কিছু পরামর্শও দিলেন মেসবাহ। বললেন, ‘পাইরেসি প্রোটেকশন দিয়েই সিনেমা রিলিজ করা উচিৎ। গ্রামের হলে বা বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি দিচ্ছেন নির্মাতারা, সেখান থেকে তো প্রায়ই পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং যথাযথ প্রোটেকশনের ব্যবস্থা নিয়েই সিঙ্গেল স্ক্রিনে বা অন্যান্য মাধ্যমে সিনেমা রিলিজ দেওয়া উচিৎ। কোনো সিনেমা পাইরেসি হোক, এটা আমরা কখনোই চাই না। কারণ, পুরো ইন্ডাস্ট্রির ওপর এর প্রভাব পড়ে। একটা ছবি ধ্বংস হয়, পাশাপাশি একটা ডিরেক্টর, একটা প্রডিউসার ধ্বংস হয়ে যায়। এভাবে একটা ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যায়।’

এদিকে প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবি পাইরেসি হওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জলের। তার ভাষ্য, ‘এখন ছবি সার্ভারে চলে। সার্ভার থেকে পাইরেসি হতে পারে বা ভারত থেকে পাইরেসি হতে পারে। আমাদের হল থেকে পাইরেসি হওয়ার স্কোপ নাই। এখন ভারত থেকে ছবিগুলো হয়, সেখান থেকে পাইরেসি হতে পারে। পাইরেসি যারাই করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজক সংস্থা যে ব্যবস্থা নেবে, তাদের সঙ্গে আমরা একাত্ম হয়ে কাজ করব। আমার মতে, ভারতে ছবি না বানিয়ে বাংলাদেশে তৈরি করলে আর পাইরেসি হবে না।’
দেশের আইন কী বলছে
পাইরেসি বিষয়ে বাংলাদেশের আইন কেমন? এটা কতটুকু কার্যকরী? তা ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজুর রহমান রায়হান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পারসপেক্টিভে চাইলেই কোনো একটা আইন করে কোনো অপরাধকে একদম নির্মূল করা যায় না। আইন করা হয়, যদি এই আইনটা কেউ লঙ্ঘন করে সেক্ষেত্রে শাস্তি দেবে এজন্য। কপিরাইট আইনের কারণে সঙ্গে সঙ্গেই যে পাইরেসি বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টা তা না। আমাদের প্রযুক্তিগত অবস্থা খুব একটা উন্নতও না যে, সব ধরনের পাইরেসি আমরা রোধ করতে পারব। এটা নিয়ে নানাবিধ বিতর্কের পাশাপাশি অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। সবকিছু মিলেই আমাদেরকে ভাবতে হবে। তবে কপিরাইট আইনে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কেউ যদি পাইরেসি করে বা কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে, সেক্ষেত্রে তার জন্য জরিমানা, অর্থদণ্ড, তারপরে সাজা সবকিছুই আছে।’
রিয়াজুর রহমান রায়হান আরও বলেন, ‘অনেক ধরনের পাইরেসি রয়েছে যেগুলোকে এই আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হয়নি। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে শুরু করে অনেক অনেক ইস্যুজ আছে, যেগুলো খুব প্রকট আকার ধারণ করছে। কিন্তু সেগুলোকে এখনো আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হয়নি। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে পাইরেসি হওয়ার পরেও এটা যে আদৌ পাইরেসি হয়েছে, সেটা আমরা আইনগতভাবে আইডেন্টিফাই করতে পারি না। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটা বলা যেতে পারে, যে আইনটা আছে সেটা যদি পুরোপুরিভাবে মেনে চলা হয় এবং সেটা মানার জন্য এক্সিকিউটিভ অথরিটি যাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তারা যদি প্রপার ওয়েতে এটাকে মেইনটেইন করে, সেক্ষেত্রে পাইরেসি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের মতামত
অনেকেই এখন রাইটস ম্যানেজারসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা সিনেমা নির্মাতা তার সৃষ্টির পূর্ণ স্বত্ব ও অধিকার ধরে রাখতে পারেন।
প্রযুক্তির আধুনিকায়নে পাইরেসির এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘টেকনো নেক্সট’-এর চিফ ডিজিটাল অফিসার ও আইটি বিশেষজ্ঞ আশিক হাসিবুল হাসান জানান, প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির নতুন নতুন টার্মিনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আসল কনটেন্টের সঙ্গে নকল বা ডুপ্লিকেট কনটেন্টের নিখুঁত ম্যাচিং করা সম্ভব। ফলে কোনো কনটেন্ট পাইরেটেড কিনা, তা নিমেষেই শনাক্ত করা যায়। আগামীতে পাইরেসি রোধে আরও উন্নত ও কার্যকর টুলস বাজারে আসবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এই আইটি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষায় কঠোর পলিসি বা নীতিমালা নিয়ে আসছে। অনেকেই এখন রাইটস ম্যানেজারসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা সিনেমা নির্মাতা তার সৃষ্টির পূর্ণ স্বত্ব ও অধিকার ধরে রাখতে পারেন। কেউ যদি এই কনটেন্টগুলোর আংশিক বা পুরো অংশ কপি করে, তবে এই টুলসগুলোর মাধ্যমে তা সাথে সাথেই ধরে ফেলা সম্ভব।’
এমআইকে/কেআই
