মুক্তির পর থেকেই দেশ-বিদেশে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছিল মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম চলচ্চিত্র। তার ঠিক তিন বছর পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহ নিয়ে বড় পর্দায় হাজির হয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘রইদ’। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সিনেমাটির বিশেষ প্রিমিয়ার শো। আর রইদ মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি দেশের গুণী অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক গাজী রাকায়েত।
সিনেমাটি দেখার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘আমি একদম সাধারণ দর্শক হিসেবে একেবারে সাদা-মাটা একটা গল্পকে দেখেছি। এই গল্পটা দেখতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, মানব-মানবীর এত সুন্দর প্রেমের গল্প। যেদিন থেকে চলচ্চিত্র হয়েছে, সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশ্ব চলচ্চিত্র ধারায় মাস্টারপিসগুলো যুক্ত হয়েছে।’
তিনি বিশ্বাস করেন, এই সৃষ্টিটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক দরবারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। তার কথায়, ‘এই চলচ্চিত্রটা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রের একটি বড় জায়গায় চলে গেছে। আমরা সবসময় বলি একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে যখন এটা একটা আঞ্চলিক চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। এটা একটা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হয়ে, এটা একেবারেই আন্তর্জাতিক একটা জায়গায় চলে গেছে।’
সিনেমার ভেতরের সূক্ষ্ম মানবিক আবেগ ও সম্পর্কের রসায়ন গাজী রাকায়েতকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই মানব-মানবীর যে প্রেমটা, এই প্রেমটা বাংলাসহ পৃথিবীর কোনো চলচ্চিত্রে দেখিনি। সম্পর্কের যে রঙগুলো, যে হিউম্যানিটি এখানে প্রকাশিত হয়েছে এবং এন্ডলেস। একেকটা তাল পড়ছে, একেকটার নিচে আসছে।’
সিনেমার গভীরতা ও ব্যাপ্তি নিয়ে এই নির্মাতা আরও যোগ করেন, ‘এটা চলছে এবং এই তালের সংখ্যায় যদি ওর আশাটা নিয়ে ছবি হতো, এটা তো এক বছর দুই বছর ধরেও শেষ করা যাবে না। বাট, আমি শুধু এটিই বলব— এই চলচ্চিত্রটি আমাদের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ক্ষেত্রে শুধু নয় আমি বলব সবাইকে চলচ্চিত্রটিকে সাধারণভাবে দেখা। রইদ তো আর দেখা যায় না, রইদ তো অনুভব করতে হয়।’
সুমনের পরিচালনার প্রশংসা করে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘আমার কাছে ভালো লেগেছে এবং এখানে কেউ অভিনয় করে নাই। এইটা হচ্ছে এই চলচ্চিত্রের একটি সাংঘাতিক রকমের বিষয়। কারণ আমি তো অ্যাক্টিং এর উপর কাজ করি, আমি এই চলচ্চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, এই চলচ্চিত্রে কেউ অভিনয় করেনি। এইটাতো একটা মেজবাউর রহমান সুমনের একটা অসাধারণ একটি কীর্তি।’
এমআইকে
