বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি

আজীবন বহিষ্কার প্রসঙ্গে রিজু: আমাকে বরং সংবর্ধনা দেওয়া উচিৎ ছিল

আজীবন বহিষ্কার প্রসঙ্গে রিজু: আমাকে বরং সংবর্ধনা দেওয়া উচিৎ ছিল

শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সভা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সংগঠনের তিনজন সদস্যকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের। তারা হলেন, বদিউল আলম খোকন, রিয়াজুল রিজু ও মঞ্জুরুল ইসলাম মেঘ। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য গাজী মাহবুব।

তিনি জানান, সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার কারণে তিনজনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা রিয়াজুল রিজু। তিনি জানালেন, বহিষ্কারের বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই হয়নি। এমনকি সিদ্ধান্তের খবরটুকুও তিনি শুনেছেন গণমাধ্যমের খবরে।

রিজু বলেন, ‘খোকন ভাই একটা মামলা করেছিলেন, সেটার রেশ ধরেই হয়তো এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। সংগঠনের গঠনতন্ত্র আছে, নিয়ম আছে; সেটা অনুযায়ী কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করতে হলে তিনবার নোটিশ দিতে হয়, সতর্ক করতে হয়। কিন্তু আমি তো কোনো নোটিশ পেলাম না!’

‘বাপজানের বায়স্কোপ’ খ্যাত নির্মাতা জানান, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন। সেটাও বেশ আগের কথা। এখন তিনি নিজের পরিবার ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত। রিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা (বর্তমান কমিটি) নিজেরাই তো অবৈধ; আবার আমাদের বহিষ্কার করে কিভাবে! আমি জুলাই অভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত একমাত্র পরিচালক; তাদের উচিৎ ছিল আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া। সেটা না করে উল্টো আমাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করল।’

ফেসবুকে রিয়াজুল রিজুর প্রতিক্রিয়া

পরিচালক সমিতির কার্যকরী কোনো কাজ নেই বলেও মন্তব্য করেন রিজু। তার মতে, সেখানে গল্প-গুজব আর একে-অপরের পেছনে পড়ে থাকা ছাড়া চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কিছুই হয় না।

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি শাহীন সুমন। তার সঙ্গেও দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল বলে জানান রিজু। বলেন, ‘শাহীন সুমন ভাইয়ের সঙ্গে আমার এতদিনের সম্পর্ক, তাকে কতগুলো মামলা থেকে বাঁচিয়েছি আমি। কারণ আমার মনে হয়েছে, তিনি মানুষটা ভালো। অথচ তিনিও আমাকে একটাবার কল করলেন না! এটা ঠিক হয়নি। চিরকাল এই কমিটিই থাকবে? সংগঠন চালানোর জন্য আমার মতো অনেক রিজুকে লাগবে। আমাদের বাদ দিয়ে সংগঠন চলবে কিভাবে?’

উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন বাতিল করতে মামলা করেছিলেন বদিউল আলম খোকন। এর প্রধান আসামি করা হয়েছিল নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে; যিনি এ বছরের শুরুর দিকে প্রয়াত হয়েছেন। ওই মামলার কারণেই নাকি সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য পরিচালক খোকনকে কল করা হলে তার সাড়া মেলেনি।

কেআই