অভিনেত্রী না হলে কৃষিবিদ হতে চাইতাম: ঐশী

Kamrul Islam Ent

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২২ পিএম


অভিনেত্রী না হলে কৃষিবিদ হতে চাইতাম: ঐশী

ঐশ্বরিক সৌন্দর্য্যের টলমলে ঢেউ খেলে যায় তার রূপে। জন্মের পরই হয়ত বাবা-মা বুঝতে পেরেছিলেন, মেয়েটা রূপে-গুণে জয় করবে অনেক কিছু। তাই নামটা রাখেন ঐশী। বাস্তবেও হলো তাই। বড় হয়ে ঐশী মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তার কাজল চোখের চাহনিতে, ভাসিয়ে নিচ্ছেন স্নিগ্ধ হাসির প্লাবনে, আর মিষ্টি কথায় কেড়ে নিচ্ছেন মন।

পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হয়ে পরিচিতি পেয়েছেন শোবিজে। শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) তার অভিষেক হচ্ছে সিনেমার পর্দায়। মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’। নাম ঘোষণা থেকে শুরু করে এখনো অব্দি সিনেমাটি ঘিরে দর্শক ও সিনেমা সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ তুঙ্গে। অপেক্ষার ফিতা কেটে ঐশী আসছেন নায়িকা হয়ে।

এক্সট্রিম এক্সাইটমেন্টের ফলে ঐশী এখন অনুভূতিহীন। বুকে হাত দিলে স্পন্দন টের পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না, কেমন লাগছে। তাই কিছু ভিন্ন প্রসঙ্গেই আলাপ হলো সুদর্শনা এ তরুণীর সঙ্গে

অভিনেত্রী না হলে কী হতেন?

আমি তো ঢাকায় এসেছিলাম ইংরেজির ওপর কোর্স করতে। কারণ ইচ্ছে ছিল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করব। সে ক্ষেত্রে কৃষিবিদ হতে চাইতাম। আর এখনো তো আমার পড়াশোনা চলছে। পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ছি। অভিনেত্রী না হলে এই সংক্রান্ত কিছুই করতাম।

কৃষি নিয়ে কি আপনার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে?

ভীষণ! এজন্যই আমি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছি। যদি কৃষি নিয়ে পড়া হতো, তাহলে হয়ত অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা দেশে ফিরে হলে এই সেক্টরে কাজ করতাম।

দেশে এবং দেশের বাইরে আপনার প্রিয় অভিনেতা কে?

এটা খুব কঠিন প্রশ্ন। যেটার উত্তর আসলে নির্দিষ্টভাবে দেওয়া যায় না। কারণ একেকজন অভিনেতার বিশেষত্ব ভিন্ন। যেমন উত্তম কুমারের মধ্যে আমি যেটা পাবো, সেটা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে পাব না। আবার অমিতাভ বচ্চনের মধ্যে যেটা পাব, সেটা ঋষি কাপুরের মধ্যে পাবো না। একেকজনের একেক দিক ভালো লাগে। তাই আলাদা করে কার নাম বলা যাবে না।  

‘মিশন এক্সট্রিম’-এ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রেম করলেন। বাস্তব জীবনে কোনো পুলিশ কর্তার কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেলে কী করবেন?

আমার জীবনসঙ্গী হওয়ার ক্ষেত্রে যে’কয়টা গুণ থাকতে হবে, তার মধ্যে প্রথম এবং প্রধান হলো- তাকে অবশ্যই খুব ভালো মানুষ হতে হবে। সেটা পুলিশ হোক, আর্মি হোক; পেশা কোনো বিষয় না আমার কাছে। মানুষটা গুরুত্বপূর্ণ।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার বিবেচনায় আপনি দেশের সবচেয়ে সুন্দরী নারী। এটা ভেবে কখনো মনে অহম কাজ করে?

সাহস হয় না কখনো এটা চিন্তা করার। আমি মনে করি, এই মুকুট আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ, অনেক বড় অর্জন। হয়তবা যেটার যোগ্য আমি নই। যোগ্য মনে করে আমার মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার জন্য চাপ বলা যায়। সৌন্দর্য তো আসলে চেহারায় না। সুন্দর কাজের সঙ্গে, অর্জনের সঙ্গে। আমি সেই কাজ বা অর্জন এখনো মানুষকে উপহার দিতে পারিনি। যখন পারব, তখন হয়ত নিজেকে সুন্দরী মনে করতে পারব।

সেক্ষেত্রে আপনার কাছে সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা কী?

আত্মিক সৌন্দর্যটাই আসল। পৃথিবীর কল্যাণে যে মানুষ আত্মার সৌন্দর্য যতটা ছড়িয়ে দিতে পারবে, সে ততই সুন্দর।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ খেতাব পাওয়া, সিনেমার নায়িকা হওয়া, মানুষের কাছে পরিচিতি পাওয়া; কোনো এক সকালে ঘুম ভেঙে উঠে যদি দেখেন সবকিছু আসলে স্বপ্ন ছিল। কী করবেন?

এই স্বপ্নটা সফল করার পথে আবারও হাঁটব। (হাসতে হাসতে) আবার মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে নাম লেখাব। আসলে এটা ঠিক না যে, শোবিজে আসার জন্যই আমি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে অংশ নিয়েছিলাম। আমার মিস বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন ছিল, আবার সিনেমায় কাজ করারও ভীষণ ইচ্ছে ছিল। এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো, আমার একটা স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে দুটোই হয়ে গেছে।

হঠাৎ করে যদি অঢেল টাকার মালিক হয়ে যান, সেটা দিয়ে কী করবেন?

সত্যি কথা বলি, সবার আগে আমি আমার প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণ করব। যেমন একটা বাড়ি, একটা গাড়ি, আমার ও আমার পরিবারের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এগুলো নিশ্চিত করব। বাকি টাকা দিয়ে একটা বড় হাসপাতাল করব। যেখানে অসহায়-দুস্থ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা হবে।

মালদ্বীপের কোনো বিলাসবহুল রিসোর্ট নাকি দেশের কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের ধানক্ষেত, ঘুরতে যাওয়ার জন্য কোনটা বেছে নেবেন?

নিঃসন্দেহে মালদ্বীপ সুন্দর জায়গা। কিন্তু এর চেয়েও আমার কাছে বেশি আগ্রহের জায়গা হলো আমাদের দেশের গ্রাম। কুয়াশা ঘেরা শীতের সকাল, ধানক্ষেত, খেজুর গাছ; এগুলোর প্রতি এখন আমার বেশি আগ্রহ। যেহেতু আমি গ্রামে বড় হয়েছি, এগুলো খুব মিস করি।

‘মিশন এক্সট্রিম’ প্রসঙ্গ দিয়েই শেষ করি। মুক্তির দ্বারপ্রান্তে এসে আপনার নিজের কেমন লাগছে? আর আপনার পরিবারের সদস্যরা কী ভাবছেন?

কয়েক দিন ভীষণ নার্ভাস লেগেছে, চিন্তা হয়েছে, এক্সাইটমেন্ট কাজ করেছে। এখন শেষ মুহূর্তে এসে কিছু অনুভবই করছি না। কারণ অনুভূতি সব এক্সট্রিম লেভেলে চলে গেছে। আর ফ্যামিলি শুরু থেকেই খুব সাপোর্ট দিচ্ছিল। এখনো একই অবস্থা। প্রত্যেকেই দোয়া করছেন। বাবা, মা, বোন প্রত্যেকেরই তো নিজস্ব একটা সার্কেল থাকে। তারা তাদের ওই সার্কেল নিয়ে সিনেমাটি দেখার পরিকল্পনা করছেন।

কেআই

Link copied