কালজয়ী মহাকাব্য ‘ওডিসি’কে পর্দায় তুলে এনেছেন ক্রিস্টোফার নোলান। নির্মাণেও বাঁধিয়েছেন এলাহী কাণ্ড। হলিউডের এ সময়ের একঝাঁক তারকাকে এক করেছেন ছবিতে। তাই ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের আগ্রহের অন্ত নেই। সবার অপেক্ষা ফুরাবে ১৭ জুলাই, বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ছবিটি।
তার আগে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। তাতে নির্মাতা-শিল্পীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্টজন। প্রিমিয়ারে ছবিটি নিয়ে কথা বলতে এসে সব তারকাই নির্মাতা নোলানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে প্রিমিয়ারে ছিলেন ম্যাট ডেমন (ওডিসিউস), জেনডায়া, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, চার্লিজ থেরন, লুপিতা নিয়ং'ও, জন লেগুইজামো, বেনি স্যাফডি, হিমেশ প্যাটেল, সামান্থা মর্টন, এলিয়ট পেজ, ট্র্যাভিস স্কট, মিয়া গথ ও কোরি হকিন্স।
এদের মধ্যে ম্যাট ডেমন, অ্যান হ্যাথাওয়ে ও রবার্ট প্যাটিনসন এর আগেও নোলানের সঙ্গে কাজ করেছেন। অন্যদিকে জেনডায়া, টম হল্যান্ড ও শার্লিজ থেরনের ক্ষেত্রে এটি নোলানের সঙ্গে প্রথম কাজ। তবে সবাই একবাক্যে এই নির্মাতা প্রশংসা করেছেন।

ম্যাট ডেমন বলেন, “মনে হয়েছে যেন একসঙ্গে ছয়-সাতটি সিনেমায় কাজ করছি! কারণ বাস্তবে ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই ছিল। প্রতিটি লোকেশনই ছিল ভীষণ কঠিন, তবে প্রত্যেকটির চ্যালেঞ্জ ছিল আলাদা। শুটিং শুরুর এক মাস পর আমি এমা থমাসকে (নোলানের স্ত্রী ও প্রযোজক) বলেছিলাম, ‘ধন্যবাদ, আমি অন্তত প্রযোজক নই!”
ডেমন জানান, নোলান যখন তাকে ওডিসিউস চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন থেকেই তার মধ্যে এক ধরনের গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি কাজ করছে, যা এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এত বিশাল পরিসরে এমন প্রযুক্তিগত কাজ আমি আগে কখনও দেখিনি।’
‘টেনেট’-এর পর ফের নোলানের সঙ্গে কাজ করলেন রবার্ট প্যাটিনসন। তিনি বলেন, ‘এত বিশাল আয়োজনের মধ্যেও নোলানকে কখনও চাপগ্রস্ত মনে হয় না। সবকিছু দারুণ গোছানো থাকে। এটি সর্বোচ্চ প্রত্যাশার একটি কাজ হতে যাচ্ছে, আর পুরো অভিজ্ঞতাই দারুণ।’
এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে হলিউডের আলোচিত জুটি জেনডায়া ও টম হল্যান্ডকে। এরপরই তারা একসঙ্গে অভিনয় হাজির হবেন ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’তে।
‘দ্য ওডিসি’তে দেবী অ্যাথেনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেনডায়া। তিনি অবশ্য ওডিসিউসের ছেলে টেলেম্যাকাস চরিত্রে টম হল্যান্ডের অভিনয় দেখে মুগ্ধ। বললেন, ‘ওর অভিনয় সত্যিই আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ও সব সময়ের মতো এবারও অসাধারণ। এক মাসের ব্যবধানে দর্শক ওর দুটি একেবারে ভিন্ন রূপ দেখতে পাবেন, এটা নিয়ে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত।’
টম হল্যান্ড বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমাদের দুজনের জন্যই এটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আর সম্ভবত এটাই শেষবার, যখন আমি কোনো কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম।’
ছবিতে ক্যালিপসো চরিত্রে অভিনয় করেছেন শার্লিজ থেরন। তার মতে, ‘এ ধরনের গল্প নির্মাণের সাহস খুব কম পরিচালকেরই আছে, আর নোলান তাদের অন্যতম।’
অন্যদিকে ওডিসিউসের বিশ্বস্ত লোক ইউমেয়াস চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন লেগুইজামো। তিনি বলেন, “'দ্য ওডিসি’ আমার কাছে নোলানের শ্রেষ্ঠ নির্মাণ বলেই মনে হয়েছে। তিনি আধুনিক যুগের হোমার, একজন সত্যিকারের উদ্ভাবক এবং দূরদর্শী মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করে মনে হয়েছে, অভিনয়জীবনের সেরা কাজটি করেছি। সিনেমায় আবেগ প্রকাশ করা আমার জন্য সব সময় কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি এমন নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে আমি নিজেকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে পেরেছি।”
আগামেমননের চরিত্রে অভিনয় করে বেনি স্যাফডি জানান, এমন একটি কিংবদন্তি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিস (নোলান) যখন কাউকে কোনো চরিত্রের জন্য বেছে নেন, তখন এমন আত্মবিশ্বাস দেন যে, মনে হয় সেটা আপনি অবশ্যই পারবেন। অনেকের হয়তো মনে হতো আমি এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত নই। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তাই আমিও বিশ্বাস করেছি।’
ছবিতে একজন গীতিকারের ভূমিকায় আছেন র্যাপার ট্রাভিস স্কট। তিনি বলেন, ‘নোলানের ফোন পাওয়া যেন নিজের প্রিয় কোনো সুপারহিরোর কাছ থেকে ডাক পাওয়ার মতো।’
প্রিমিয়ারে অবশ্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি নোলান। কেবল সিনেমা হলের ভেতরে সংক্ষেপে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে ভোরে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-মেক্সিকো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মজা করে বলেন, ‘যারা রাত জেগে ম্যাচ দেখেছেন, তারা সিনেমার শান্ত দৃশ্যগুলোতে নাক ডেকে ঘুমাবেন না!’

উল্লেখ্য, ইতিহাসে ‘দ্য ওডিসি’ প্রথম ছবি, যেটা পুরোপুরি আইম্যাক্সের ৭০ মিলিমিটার ক্যামেরায় দৃশ্যায়ন হয়েছে। এরই মধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ঝড় তুলেছে ছবিটি। এখন কেবল মুক্তির অপেক্ষা।
কেআই
