বলাই বাহুল্য, এ দশকের অন্যতম আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ড্যুন’। এর প্রথম দুই কিস্তি বিশ্বব্যাপী ঝড় তুলেছিল। এবার আসছে তৃতীয় তথা শেষ ছবি ‘ড্যুন পার্ট ৩’। ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে ডেনিস ভিলেন্যুভের ছবিটি।
গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে ছবির ট্রেলার। ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এ ঝলকে উঠে এসেছে ছবির কিছু চুম্বকাংশ। তাতে আঁচ করা যাচ্ছে, এবার অ্যাকশন ও রোমাঞ্চের মাত্রা আগের তুলনায় ঢের বেশি।
ছবিতে পল অ্যাট্রেইডিস চরিত্রে ফিরছেন টিমোথি শ্যালামে। ‘ডুন: পার্ট ২’-এর শেষে ক্ষমতায় আরোহণের পর তার গল্পই এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন কিস্তি। ফ্র্যাঙ্ক হারবার্টের উপন্যাস ‘ডুন মেসায়া’ অবলম্বনে নির্মিত ছবির কাহিনি আগের ছবির ঘটনার ১৭ বছর পরের সময় নিয়ে। এতে সম্রাট হিসেবে পলের শাসনের পরিণতি এবং সেই ক্ষমতার মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। আর সেই পথ যে ভয়ংকর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, ট্রেলারেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

দর্শকরা জানেন, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা রয়েছে পলের। কিন্তু পুরো গ্যালাক্সির নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার পর তার সেই দৃষ্টিও যেন ঝাপসা হয়ে গেছে। ট্রেলারে পলকে বলতে শোনা যায়, ‘ভবিষ্যৎ যেন আমার সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু সামনে কী আছে, আমি আর দেখতে পাচ্ছি না।’
এবারের পর্বে পলের নতুন প্রতিপক্ষ রবার্ট প্যাটিনসন। তিনি অভিনয় করেছেন রূপ বদলাতে সক্ষম চরিত্র স্কাইটেল-এর ভূমিকায়, যার লক্ষ্য সম্রাট পলকে ক্ষমতাচ্যুত করা। ট্রেলারে আরও দেখা যায় জেনডায়ার ফ্রেমেন যোদ্ধা চানিকে। পলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক এখন জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ পল রাজনৈতিক কারণে রাজকুমারী ইরুলানকে (ফ্লোরেন্স পিউ) বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে চানি এখন একটি সন্তানের স্বপ্ন দেখছে।
আগেই নির্মাতা ভিলেন্যুভ বলেছেন, ‘ড্যুন ৩’ তার সবচেয়ে ‘ব্যক্তিগত ছবি’। এখানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যে পল ও চানির সম্পর্কের আবেগময় দিকও উঠে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির কেন্দ্রীয় অভিনেতা টিমোথি শ্যালামে। তিনি গল্পটি নিয়ে বলেন, “কোথাও পড়েছিলাম, মানুষ পলকে এক আদর্শ নায়ক হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল বলেই হারবার্ট (লেখক) ‘মেসায়া’ লিখেছিলেন। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, মানুষ যখন অন্ধভাবে কোনো নেতাকে অনুসরণ করে, তখন কী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। এমনকি ভালো মানুষও ক্ষমতার কারণে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারে।”
চানি ও পলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে শ্যালামে বলেন, “এই ছবিতে ডেনিস এমন কিছু বিষয় যোগ করেছেন, যা বইয়ে স্পষ্টভাবে ছিল না। সম্ভবত এখানেই তিনি সবচেয়ে বড় সৃজনশীল স্বাধীনতা নিয়েছেন। কিন্তু এতে পুরো গল্পটি আরও সুন্দরভাবে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। আর নতুন ট্রেলারেই দেখছেন, জেনডায়া অসাধারণ অভিনয় করেছেন।”

ছবিটিতে আরো অভিনয় করেছেন জেসন মমোয়া, রেবেকা ফার্গুসন, আইজ্যাক দে বেনক্লো, হাভিয়ের বারদেমসহ অনেকে। সংগীতায়োজনে আছেন অস্কারজয়ী হানস জিমার।
কেআই
