বিদ্যুতে চলবে বিভিন্ন রুটের ট্রেন

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

২৭ মার্চ ২০২১, ০৫:০৮ পিএম


বিদ্যুতে চলবে বিভিন্ন রুটের ট্রেন

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উড়াল রেলপথেও বিদ্যুতে ট্রেন চালানো হবে

বহু বছরের বঞ্চনা, জনম জনমের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার দূত শুনিয়েছিলেন মুক্তির গান। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।‘ মুক্তির সেই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পুনর্জন্ম হয়েছে একটি জাতির। রক্তবন্যা পেরিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু হওয়া শাপমুক্তি পথের বাঁকে বাঁকে ছিল ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত। কিন্তু মুক্তিপাগল বাঙালিকে থামানো যায়নি, অমঙ্গলের বিষদাঁত ভেঙে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নতুন সূর্য হাতে, ছড়িয়েছে নতুন আলো বিশ্বভুবনে। জীবনমান, অর্থনীতি, অবকাঠামোসহ বহু খাতে পেছনে ফেলেছে প্রতিবেশীদের। ঢাকা পোস্টের ধারাবাহিক উন্নয়নের গল্পগাথায় আজ থাকছে রেল খাতের সার্বিক উন্নয়ন…

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও একাধিক রুটে ট্রেন চলবে বিদ্যুতে। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি দূষণ থেকে বাঁচবে পরিবেশ। বাঁচবে সময়, কমবে দুর্ঘটনার সংখ্যাও। বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীর চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথে ট্রেন পরিচালিত হবে বিদ্যুতে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উড়াল রেলপথেও বিদ্যুতে ট্রেন চালানো হবে। পাশাপাশি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রাম রুটের ৩৩৬ কিলোমিটার এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরের ১১ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথে ট্রেন পরিচালনা করা হবে বিদ্যুতে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উড়াল রেলপথেও বিদ্যুতে ট্রেন চালানো হবে। পাশাপাশি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রাম রুটের ৩৩৬ কিলোমিটার এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরের ১১ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার রেলপথ হবে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে ৭০ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার হবে উড়াল, বাকি ৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার হবে পাতাল রেলপথ। থাকবে ২৪টি রেলস্টেশন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭১ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। বৃত্তাকার রেলপথে চলবে মেট্রোট্রেন। এসব ট্রেনের ঘণ্টায় গতি থাকবে ১২০ কিলোমিটার।

dhakapost
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম চালানের ৮টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ৬ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে

প্রকল্পের খসড়া সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে সিউয়ান সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপ কোম্পানি। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, রায়েরবাজার, বাবুবাজার, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড, শিমরাইল, পূর্বাচল সড়ক, ত্রিমুখ হয়ে টঙ্গীতে গিয়ে আবার মিলিত হবে বৃত্তাকার রেলপথটি।

রেলস্টেশন থাকবে টঙ্গী, ত্রিমুখ, পূর্বাচল উত্তর, পূর্বাচল, বেরাইদ, ত্রিমোহনী, ডেমরা, সিদ্ধিরগঞ্জ, আদমজী, চিত্তরঞ্জন মোড়, চাষাঢ়ায়। এছাড়া ফতুল্লা, পাগলা, পোস্তগোলা, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, ঢাকা চিড়িয়াখানা দক্ষিণ, চিড়িয়াখানা, উত্তরা, ধউর ও বিশ্ব ইজতেমা মাঠের কাছে স্টেশন নির্মাণ হবে। বৃত্তাকার রেলপথের স্টেশনগুলোর ১১টি মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকবে উত্তরা, কামরাঙ্গীরচর ও ডেমরায়।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রাম রেলপথের ৩৩৬ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরের ১১ দশমিক ২৭ কিলোমিটার; সবমিলিয়ে ৩৪৮ কিলোমিটার লাইনজুড়ে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিকল্পনা থেকে জানা যায়, প্রথম ধাপে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হবে। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন করবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশা তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রাম রেলপথের ৩৩৬ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরের ১১ দশমিক ২৭ কিলোমিটার; সবমিলিয়ে ৩৪৮ কিলোমিটার লাইনজুড়ে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন।

dhakapost
জাপানের কোবে বন্দরে জাহাজে তোলা হচ্ছে মেট্রোরেলের ট্রেন সেট, শিগগিরই তা দেশে পৌঁছাবে

ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিমত, সীমিত শক্তি খরচ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, স্বল্প শব্দ ও পরিবেশবান্ধব হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন। এ ধরনের ট্রেনে গতি বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও কম।

বিদ্যুতে চলবে মেট্রোরেল

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ বা প্রথম মেট্রোরেল স্থাপনের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেলপথ দৃশ্যমান। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটি চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এ রেলপথ হবে উড়াল, তাতে স্টেশন থাকবে ১৭টি। পরিচালনা করা হবে ২৪ সেট ট্রেন। এগুলো চলবে বিদ্যুতে।

মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য মতিঝিল ও দিয়াবাড়িতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে

এম এ এন ছিদ্দিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিএমটিসিএল

৪৫ সেকেন্ড পরপর ট্রেন থামবে। প্রতিটি ট্রেন ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হবে না। স্টেশনে থামা, বিভিন্ন বাঁকে কম গতিতে চলাসহ সবমিলিয়ে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেনটির যেতে সময় লাগবে ৩৮ মিনিট।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য মতিঝিল ও দিয়াবাড়িতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপান থেকে ট্রেনের প্রথম চালান জাহাজে রওনা দিয়েছে। এটি ঢাকায় আসবে আগামী ২৩ এপ্রিল। সেগুলো আসার পর পরীক্ষামূলক চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

পিএসডি/এসকেডি/এমএআর/এমএমজে

Link copied