‘ডিউটি ৬ ঘণ্টা ট্রান্সপ্ল্যান্টে ১৪ ঘণ্টা’, কিডনি প্রতিস্থাপনে ‘দুর্বলতা

সরকারি হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা, পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো থাকলেও সময়স্বল্পতা, সমন্বয়ের অভাব, ডোনার সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় পিছিয়ে রয়েছে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবা। অন্যদিকে, দেশে এখন পর্যন্ত যত কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া সম্পন্ন করে চিকিৎসার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম।
তার মতে, বেসরকারি পরিসরে কাজ করলেও সরকারি হাসপাতালের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে দক্ষ জনবল ও অবকাঠামোর অভাব নয়; বরং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দীর্ঘ প্রস্তুতি–পর্ব, ডোনার সংকট এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার জটিলতা সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের গতি মন্থর হয়ে আছে।
দেশে সামগ্রিক কিডনি রোগ, প্রতিস্থাপনসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকা পোস্টের মুখোমুখি হন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ডিউটির সময় সাধারণত ৬ ঘণ্টার মতো ধরে সাজানো হলেও একটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করতে ৭–৮ ঘণ্টা, অনেক ক্ষেত্রে ১২-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। সময়ের এই ব্যবধানই সরকারি ব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি করছে।
সরকারি হাসপাতালে ডিউটি সময় সাধারণত ৬ ঘণ্টা হলেও একটি সফল কিডনি প্রতিস্থাপনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিবিড় শ্রম প্রয়োজন। অধ্যাপক কামরুল জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতি-পর্ব এবং অপারেশন পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে যে ডেডিকেটেড সময়ের প্রয়োজন, তা সরকারি কাঠামোয় মেলানো কঠিন। এই সময়ের ব্যবধান এবং প্রশাসনিক জটিলতাই মূলত সরকারি পর্যায়ে ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবাকে মন্থর করে রাখছে
নিচে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো—
ঢাকা পোস্ট : কিডনি শরীরে কী কাজ করে, আর বিকল হলে কী সমস্যা দেখা দেয়?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে শরীরের বাইরে পাঠায়, শরীরের পানির ভারসাম্য ধরে রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ও রক্তের রাসায়নিক সমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। যখন কিডনি বিকল হয়ে যায়, তখন শরীর পানি বের করতে পারে না। ফলে পানি জমে শরীর ফুলে যায়, ফুসফুসে চাপ তৈরি হয় এবং রোগী শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে থাকলে খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব, মাথা ঝিমঝিম করা এবং তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রোগীকে ফ্যাকাসে দেখায়, সামান্য কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘমেয়াদে তা হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ঢাকা পোস্ট : কিডনি রোগ শনাক্তের উপায় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কী?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : কিডনি রোগ শনাক্তে প্রাথমিকভাবে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। রোগীর বয়স, ওজন ও উচ্চতার তথ্য নির্দিষ্ট ফর্মুলায় বসিয়ে কিডনির কর্মক্ষমতা (জিএফআর) নির্ণয় করা যায়। প্রস্রাব পরীক্ষায় দেখা হয় সেখানে প্রোটিন বা আরবিসি (আরবিসি) যাচ্ছে কি না, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে কিডনির আকার, প্রদাহ, ব্লকেজ বা পাথরের উপস্থিতি বোঝা যায়। এক্স-রে বা আইভিইউ পরীক্ষায় প্রস্রাবের নালির বাধা নির্ণয় করা হয়। জটিল বা বিশেষ ক্ষেত্রে কিডনির টিস্যুর অবস্থা ও প্রদাহের ধরন নিশ্চিতভাবে বুঝতে বায়োপসি করা লাগে।
ঢাকা পোস্ট : বাংলাদেশে এসব পরীক্ষা কতটা সহজলভ্য, আর খরচই কেমন?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : বাংলাদেশে শহর থেকে মফস্বল, এমনকি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কিডনি শনাক্তে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করা যায়। সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন আর/এম/ই, আল্ট্রাসাউন্ড ও এক্স-রে পরীক্ষা সহজেই করা সম্ভব। খরচের দিক থেকে এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে।
কিডনি বিকল হলে শরীরে পানি জমে ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে খাবারে অরুচি দেখা দেয়। অধ্যাপক কামরুলের মতে, মাত্র ১০০০-২০০০ টাকার পরীক্ষায় (ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন ও আল্ট্রাসাউন্ড) ৮০ শতাংশ রোগ শনাক্ত সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের তিন মাসের মধ্যে একবার কিডনি পরীক্ষা করা উচিত যাতে জন্মগত কোনো ত্রুটি থাকলে তা শুরুতেই ধরা পড়ে
সবমিলিয়ে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই কিডনির প্রাথমিক রোগ শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব, যা রোগ নির্ণয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম।
ঢাকা পোস্ট : তরুণদের মধ্যে কিডনি রোগের প্রধান কারণ কী?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে কিডনির প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন একটি বড় কারণ, যা ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক রিঅ্যাকশনের ফলে কিডনির টিস্যুতে আক্রমণ চালায় এবং কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এর বাইরে তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, খাদ্যে থাকা বিষাক্ত টক্সিন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার, স্টেরয়েড, এনার্জি বুস্টার বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন কিডনিকে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক তরুণ শরীরচর্চা বা জিমে যাওয়ার সময় অযাচিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, যেগুলোর বেশিরভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কিডনির জন্য ক্ষতিকর এবং নিয়ন্ত্রিত মান পরীক্ষার বাইরে থাকে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকা পোস্ট : শিশুদের কিডনি সুরক্ষায় করণীয় কী?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : কিছু ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি বা কনজেনিটাল জটিলতার কারণে শিশুদের কিডনি সঠিকভাবে গঠিত হয় না বা প্রস্রাবের নালি জন্ম থেকেই সরু বা ব্লক থাকে। যা পরবর্তীতে কিডনিতে ব্যাকপ্রেশার তৈরি করে ড্যামেজ করতে পারে। তাই সতর্কতাস্বরূপ বাচ্চা জন্মের পর তিন মাসের মধ্যে অন্তত একবার কিডনির কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা উচিত, যেন কোনো জন্মগত বা প্রাথমিক সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়ে এবং জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই প্রতিরোধ বা চিকিৎসা শুরু করা যায়।
ঢাকা পোস্ট : পাথর বা প্রোস্টেট সমস্যা কি কিডনি বিকল করতে পারে?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : হ্যাঁ, পারে। কিডনিতে পাথর হলে যদি তা প্রস্রাবের পথ বন্ধ করে দেয় এবং রোগী দীর্ঘসময় চিকিৎসা না নেন, তবে কিডনি দ্রুত ড্যামেজ হতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী ব্লকেজ কিডনির ভেতর চাপ বাড়িয়ে কিডনিকে ফুলিয়ে দেয়, টিস্যু নষ্ট করে দেয় এবং ধীরে ধীরে কিডনিকে বিকল হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। একইভাবে, প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে বা অন্য কোনো কারণে প্রস্রাব আটকে গেলে ব্যাকপ্রেশার তৈরি হয়, যা কিডনি ফোলানোর মাধ্যমে এর স্থায়ী ক্ষতি ঘটায়। এসব সমস্যা কখনোই অবহেলা করা যায় না। তাই পাথর, প্রোস্টেট বা প্রস্রাবের যেকোনো বাধা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা কিডনি বিকল প্রতিরোধের প্রথম শর্ত।
৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে কিডনির প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন বাড়ছে। এর বড় কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন। এছাড়া তরুণদের মধ্যে জিমের সাপ্লিমেন্ট বা এনার্জি বুস্টার গ্রহণের প্রবণতা কিডনিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। বাইরের কেমিক্যালযুক্ত প্রসেসড ফুড এড়িয়ে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন
ঢাকা পোস্ট : কিডনি রোগীদের পানি পান ও খাবারে কি আলাদা নিয়ম আছে?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : বেশি পানি খেলেই কিডনি ভালো থাকবে— এটি একটি ভুল ধারণা। পানি পানের পরিমাণ রোগীর নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ইতোমধ্যে কিডনি বিকল হয়েছে এবং যারা শরীর থেকে পানি বের করতে পারছেন না, তাদের জন্য পানি দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ মিলি পর্যন্ত সীমিত রাখা হয়। কারণ, অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে চাপ তৈরি করে শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি জরুরি অবস্থাও তৈরি করতে পারে। আবার কিডনিতে পাথর থাকা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এটি প্রস্রাবের প্রবাহ ঠিক রেখে ভবিষ্যতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমায়।
খাবারের ক্ষেত্রে আমি বাইরে তৈরি করা খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দিই। কারণ, বাইরে তৈরি করা খাবারে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রঙ, অতিরিক্ত লবণ, স্বাদবর্ধক বা কেমিক্যাল উপাদানগুলো কিডনির জন্য টক্সিক হতে পারে এবং এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ঘরে তৈরি করা খাবারই নিরাপদ। রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিনি, লবণ ও অতিরিক্ত তেল বর্জন করা জরুরি। তবে, খাদ্যবিধি প্রতিটি রোগীর অবস্থাভেদে আলাদা হতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী তা সমন্বয় করা হয়।
ঢাকা পোস্ট : ২০০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা কেমন?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামর : ২০০০তম ট্রান্সপ্ল্যান্টটি সংখ্যাগত দিক থেকে একটি বড় মাইলফলক হলেও সার্জিক্যাল দিক থেকে এটি ছিল আমাদের জন্য সাবলীল ও তুলনামূলক সহজ একটি অস্ত্রোপচার। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রায় ১০০% রোগীর ক্ষেত্রেই প্রতিস্থাপনের সময় অপারেশনের টেবিলেই নতুন কিডনি কাজ শুরু করে দেয়, যা আমাদের সার্জিক্যাল দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রমাণ। তবে, অস্ত্রোপচার সফল হওয়া মানেই আমাদের যাত্রা শেষ নয়। বরং সবচেয়ে বড় লড়াই শুরু হয় অস্ত্রোপচারের পর। কিডনির কার্যকারিতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা, রিজেকশন প্রতিরোধ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়া এবং তাৎক্ষণিক জটিলতা সমাধান করা। এই পুরো যাত্রায় রোগীর শরীর, মানসিক প্রস্তুতি, পারিবারিক সহযোগিতা, চিকিৎসক ও ফলোআপ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা পোস্ট : প্রতিস্থাপনের পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী, আর তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রিজেকশন। আমাদের শরীর নতুন কিডনিকে বাইরের বস্তু বা ফরেন অবজেক্ট হিসেবে চিহ্নিত করলে ইমিউন সিস্টেম সেটিকে আক্রমণ করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এই প্রতিক্রিয়া দমন করতে শুরুতে উচ্চমাত্রার এবং পরে রোগীর সহনীয় মাত্রায় ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা জীবনভর একটি নিয়ন্ত্রিত ডোজে চালিয়ে যেতে হয়। রিজেকশন নির্ণয় ও চিকিৎসাকে আরও নিখুঁত করতে আমরা দেশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। যেমন— ডিএসএ মেশিন, যার মাধ্যমে রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
অস্ত্রোপচার সফল হওয়াই শেষ কথা নয়, আসল লড়াই শুরু হয় তারপর। শরীর যেন নতুন কিডনিকে রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) না করে, সেজন্য জীবনভর ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ খেতে হয়। বাংলাদেশে এখন ডিএসএ (DSA) মেশিন এবং উন্নত বায়োপসি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিজেকশন নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে। অধ্যাপক কামরুলের টিমে অভিজ্ঞ প্যাথোলজিস্ট যুক্ত হওয়ায় এখন বিদেশ না গিয়েই বিশ্বমানের ফলোআপ সেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে
এছাড়া, উন্নত বায়োপসির মাধ্যমে আমরা কিডনির ভেতরকার প্যাথোলজিক্যাল পরিবর্তনগুলো বিদেশে না গিয়েই নির্ভুলভাবে বুঝতে পারছি। কারণ, আমাদের টিমে যুক্ত হয়েছেন সামরিক হাসপাতালের অভিজ্ঞ অধ্যাপক, যিনি কিডনি প্যাথোলজি ও বায়োপসি বিশ্লেষণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ৮০% রিজেকশন ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বাকি ২০%-এর ক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করাই মূল চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের টিম প্রতিনিয়ত গবেষণা, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোকাবিলা করছে।
ঢাকা পোস্ট : বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সেবার মডেল কেন নিলেন?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : ২০০৭ সালে কাজ শুরু করার সময় আমি দেখেছিলাম, দেশে কিডনি বিকল রোগীদের মাত্র ১৫% ডায়ালাইসিস করার সামর্থ্য রাখে। বাকি ৮৫% রোগী চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে চলে যান। এই ভয়াবহ বাস্তবতা আমাকে নাড়া দিয়েছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যারা চিকিৎসা বহন করতে পারে না, তাদের জন্য আমরা কোনো সার্জন ফি নেব না। আমাদের লক্ষ্য ছিল— কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনকে শুধু অভিজাতদের নাগালে না রেখে সাধারণ মানুষের জন্যও বাস্তবে সম্ভব করা। আমার এই যাত্রায় শুরু থেকেই যুক্ত আছেন প্রফেসর তৌহিদ, প্রফেসর নাজিম ও প্রফেসর তানভীরের মতো দক্ষ সার্জনরা। তারা নামমাত্র সম্মানীতে কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বিবেচনায় সেটিও নেওয়া হয় না।
এছাড়া, হাসপাতালের অন্য বড় অস্ত্রোপচার থেকে যে আয় আসে, সেটিকে পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা পরিচালনায় ব্যবহার করে আমরা ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবা সচল রাখি, যাতে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা না চাপানো লাগে। আমি একে অর্কিড ফর্মুলা বা সাইলেন্ট ফিলানথ্রপি বলি।
এখানে মূল দর্শন হলো— বিদ্যমান অবকাঠামো, ওটি ব্লক, আইসিইউ বেড, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আলাদা মুনাফা চিন্তা না করে গরিব রোগীদের জন্য বাড়তি সেবা প্রদান করা। এই ভালো কাজের যে মানসিক তৃপ্তি, তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। আর এর প্রতিদান আল্লাহ পরকালে দেবেন— এই বিশ্বাসই আমাদের মূল শক্তি।
২০০৭ সাল থেকে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম ও তার দল কোনো সার্জন ফি ছাড়াই হাজার হাজার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করেছেন। যেখানে কর্পোরেট হাসপাতালে ১০ লাখের বেশি খরচ হয়, সেখানে তারা ২ লাখ ১৫ হাজার টাকায় এই সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালের অন্যান্য আয়ের অংশ দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হয়, যাকে তিনি ‘সাইলেন্ট ফিলানথ্রপি’ বা অর্কিড ফর্মুলা হিসেবে অভিহিত করেছেন
ঢাকা পোস্ট : ২ লাখ ১৫ হাজার টাকায় প্রতিস্থাপন কি বেসরকারি হাসপাতালে সম্ভব?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : সত্যি বলতে, ব্যক্তিগত ত্যাগের মানসিকতা ছাড়া কোনো কর্পোরেট বেসরকারি হাসপাতালে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, একজন রোগীর প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত সুতা, অ্যানেসথেসিয়া সরঞ্জাম, অপারেশন মনিটরিং, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল কনজিউমেবলে বেশিরভাগ ব্যয় চলে যায়। এর সঙ্গে ১১ থেকে ১২ জন ডাক্তার ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা ধরে একটি ওটি ব্লক করে রাখেন। ওটির সময়, জনবল, যন্ত্রপাতির অবচয়, অ্যানেসথেসিয়া টিম, নার্সিং, আইসিইউ ব্যবস্থাপনা— সব কর্পোরেট হাসপাতাল বহন করলে ব্যয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার নিচে নামানো অসম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
আমরা পারছি, কারণ আমরা লাভের হিসাব করি না। আমরা সেবা দিই, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্যাক্রিফাইস করি, আর হাসপাতালের অন্যান্য আয়ের খাত থেকে এই চিকিৎসা পরিচালনার ব্যয় মেটাই। যাতে প্রতিস্থাপন রোগীদের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ না আসে।
ঢাকা পোস্ট : ট্রান্সপ্ল্যান্টের গতি বাড়াতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : বর্তমানে আমরা ২টি ওটি দিয়ে মাসে ২০ থেকে ২৫টি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করতে পারছি। ফলে একজন রোগীকে প্রায় চার মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই অপেক্ষার সময় রোগী ও তার পরিবারকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে, শারীরিক ঝুঁকি বাড়ায় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের আগেই জটিলতা তৈরি হয়। তাই আমার লক্ষ্য হলো ওটির সংখ্যা ৪ থেকে ৬টিতে উন্নীত করা, যাতে প্রতিস্থাপনের সংখ্যা দ্বিগুণ করা যায় এবং রোগীর অপেক্ষার সময় এক মাসের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
দেশে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সার্জন আছেন, অ্যানেসথেসিয়া টিম তৈরি আছে, ফলোআপ কাঠামো আছে। এখন শুধু অবকাঠামো, জনবল ও ওটি স্লট বাড়ানো গেলেই একাধিক ওটিতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে প্রতিস্থাপনের ভলিউম বড় পরিসরে বাড়ানো সম্ভব।
যৌথ পরিবার ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে নিকটাত্মীয় ডোনার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্রেন ডেড রোগীর অঙ্গদান বা ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক কামরুল। আইনি, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে হাজারো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে
ঢাকা পোস্ট : ভবিষ্যতে ডোনার সংকট কেমন দেখছেন। এর সমাধান কী?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : পারিবারিক কাঠামো ছোট হয়ে আসছে। যৌথ পরিবার কমে গেছে, নিউক্লিয়ার পরিবার বাড়ছে। ফলে নিকটাত্মীয় ডোনার পাওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আমরা ধারণা করছি, আগামী ৫০ বছর পর নিকটাত্মীয় ডোনার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই এখন থেকেই ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা ব্রেন ডেড রোগীর অঙ্গদানের কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্ত করতে হবে। দেশে কিছু সরকারি হাসপাতালে এটি শুরু হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এই উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু এটিকে শুধু একটি সেন্টারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটিকে জাতীয় কাঠামোতে রূপান্তর করতে হবে এবং আইনি, সামাজিক, ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতার মাধ্যমে এটিকে একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই অঙ্গদানের সংস্কৃতিতে রূপ দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের এই পথে হাঁটতে পারে।
ঢাকা পোস্ট : সিকেডি হাসপাতাল নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কি না?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : বর্তমানে আমরা ভাড়া করা কয়েকটি বিল্ডিংয়ে চিকিৎসা পরিচালনা করছি। এগুলো দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হলেও হাসপাতালের আদর্শ কাঠামো নয় সেগুলো। একটি আধুনিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের জন্য দরকার পরিকল্পিত ফ্লোর লেআউট, সংযুক্ত ও প্রশস্ত ওটি ব্লক, ইনফেকশন নিয়ন্ত্রিত আইসিইউ, ডেডিকেটেড ট্রান্সপ্ল্যান্ট আইসিইউ, সেন্ট্রাল মনিটরিং ব্যবস্থা, সার্জিক্যাল ব্যাকআপ টিম এবং অপারেশন-পরবর্তী ২৪/৭ জরুরি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা। আমি সরকারের কাছে একটি বড় জায়গার জন্য আবেদন করেছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করছেন।
তবে, নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া শেষ না হলে ধারাবাহিকতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যদি আগের প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে তাহলে ৬-৭টি ওটিসমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কিডনি প্রতিস্থাপন সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব। যার মাধ্যমে আমরা বর্তমানের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেশি সেবা দিতে পারব।
ঢাকা পোস্ট : আপনার দৃষ্টিতে সরকারি হাসপাতালে ট্রান্সপ্ল্যান্টে গতি না আসার কারণ?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসসহ অন্যান্য চিকিৎসা খাতে উন্নতি হয়েছে, এটি সত্য। কিন্তু ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো কর্মঘণ্টা ও ডেডিকেটেড টিমের অভাব। সরকারি হাসপাতালে দৈনিক কর্মঘণ্টা সাধারণত সাড়ে ৬ ঘণ্টা, কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি সার্জিক্যাল টিমকে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। কারণ, অপারেশন-পরবর্তী রোগীর শরীরে যেকোনো মুহূর্তে জরুরি অবস্থা তৈরি হতে পারে, যা তাৎক্ষণিক সমাধান না করলে নতুন কিডনি ও রোগীর জীবন— দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে যায়।
এছাড়া, সরকারি নীতিমালার কারণে অনেক সময় উচ্চ ভলিউমে ফুল-টাইম সার্জিক্যাল কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জনবল সংকট, ইনফেকশন কন্ট্রোল কাঠামো, বায়োপসি ব্যাকলগ, লজিস্টিক সাপোর্টের ঘাটতি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বিলম্ব— এসব মিলিয়ে কাজের গতি কমে যায়। এসব বাস্তবতা থেকেই আমি সরকারি চাকরি থেকে বাইরে এসে একটি পূর্ণকালীন ডেডিকেটেড প্রতিস্থাপন টিম গঠন করেছি; যেখানে সার্জন, অ্যানেসথেসিয়া টিম, আইসিইউ ব্যাকআপ, কাউন্সিলর ও ডায়ালাইসিস ইউনিট— সবাই একসঙ্গে একটি সংযুক্ত কাঠামোয় কাজ করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধান বাস্তবায়ন করেন।
ঢাকা পোস্ট : এত বড় সফলতাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : আমি এটিকে কখনোই ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখি না। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ টিমের জয়। এখানে শুধু সার্জনের হাত নয়, অপারেশন সফল করার পেছনে ডায়ালাইসিস কর্মী, ওটি নার্স, অ্যানেসথেসিয়া টিম, আইসিইউ চিকিৎসক, পোস্ট-অপারেটিভ মনিটরিং টিম, রোগী কাউন্সিলর, ল্যাব টেকনোলজিস্ট— সবার সমান অবদান থাকে। একজন সার্জন অপারেশন করেন, কিন্তু তার অপারেশনকে সফলতার শেষবিন্দুতে পৌঁছে দেয় একটি সমন্বিত টিমওয়ার্ক, সঠিক ফলোআপ, প্রযুক্তি, এবং অপারেশন-পরবর্তী ২৪/৭ জরুরি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা।
আমার বিশ্বাস, এখানে আমাদের গর্ব করার কিছু নেই, প্রকৃত শক্তি আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আমরা শুধু মাধ্যম হিসেবে কাজ করি।
ঢাকা পোস্ট : জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : স্বাধীনতা পদকসহ যেসব পুরস্কার বা পদক পেয়েছি, সেগুলো আমার কাছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। কিন্তু এগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া নয়। সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো যখন আমি এমন কোনো কঠিন চিকিৎসা প্রযুক্তি বা সার্জিক্যাল মডেল দেশে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, যা একসময় অসম্ভব মনে হতো। যেমন— কয়েক বছর আগে ফ্রান্সে গিয়ে ডিএসএ প্রযুক্তি দেখে ভেবেছিলাম, এটি হয়তো কখনো বাংলাদেশে আসবে না। কিন্তু আজ আমরা সেটি ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি, নির্ভুলভাবে রিজেকশন শনাক্ত করছি এবং তার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
আমার লক্ষ্য হলো সিএমসি ভেলোর বা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করা, যেন কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন শুধু একটি হাসপাতালের গল্প না হয়ে জাতীয় সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা পোস্ট : এই মহৎ কাজের পেছনের মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল?
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম : আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দেশের প্রতি গভীর টান এবং গরিব রোগীদের প্রতি ভালোবাসা আমাকে এই কাজে স্থির রেখেছে। এই রোগীদের সেবা করার পর তারা যে কৃতজ্ঞতা ও দোয়া প্রকাশ করেন, সেটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় জ্বালানি। তাদের চোখে যে ভরসা দেখি, সেটি দায়িত্বকে আরও ভারী করে, একইসঙ্গে মনে একধরনের প্রশান্তিও এনে দেয়।
আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকি, এই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি এবং এটিকে একটি মানবিক ও টেকসই সেবার মডেল হিসেবে দেশে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারি। পাশাপাশি সচেতনতা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ডোনার সংস্কৃতি ও ডেডিকেটেড চিকিৎসা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে কিডনি রোগে মৃত্যুর হার ধীরে ধীরে যেন কমে আসে এবং রোগ হওয়ার আগেই মানুষ সতর্ক হয়ে প্রতিরোধে মনোযোগী হয়।
টিআই/
