• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. কামরুল ইসলাম

গোপনীয়তার নীতিব্যবহারের শর্তাবলিযোগাযোগআমাদের সম্পর্কেআমরাআর্কাইভবিজ্ঞাপন

৯৫ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন, ঢাকা ১২১২।

+৮৮০ ৯৬১৩ ৬৭৮৬৭৮

phone+৮৮০ ১৩১৩ ৭৬৭৭৪২

whatsapp+৮৮০ ১৭৭৭ ৭০৭৬০০

info@dhakapost.com

বিজ্ঞাপন

  1. এক্সক্লুসিভ
ববি হাজ্জাজ

বিদেশি মডেলের কপি-পেস্ট নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতেই বদলে যাবে শিক্ষাক্রম

রাকিবুল হাসান তামিম
রাকিবুল হাসান তামিম
১২ মার্চ ২০২৬, ২১:০৮
অ+
অ-
বিদেশি মডেলের কপি-পেস্ট নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতেই বদলে যাবে শিক্ষাক্রম

দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে এবং আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসেছে এক নতুন নেতৃত্ব। ঢাকা-১৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ ও মেধাবী রাজনীতিক ববি হাজ্জাজ। 

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক চমক নয়, বরং বাস্তবসম্মত টেকসই সংস্কারের ওপর। 

প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে বিদেশি মডেলের ‘কপি-পেস্ট’ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিকুলাম প্রণয়ন, শহর-গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া সারাদেশে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের অমীমাংসিত দাবিগুলো পূরণেও তিনি নিয়েছেন সাহসী উদ্যোগ।

কারিকুলামে পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, তবে তা কোনো ‘চমক’ দেখানোর জন্য নয়; বরং হতে হবে দেশের বাস্তব প্রয়োজনে। বিদেশি কোনো মডেল হুবহু ‘কপি-পেস্ট’ করে এখানে সফল হওয়া সম্ভব নয়। নরওয়ের শিক্ষা পদ্ধতি হয়তো তাদের জন্য সেরা, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমরা হুট করে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সবচেয়ে কার্যকর মডেলটিই পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বাস্তবায়ন করব

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা পোস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রাকিবুল হাসান তামিম।

dhakapost
ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা পোস্টের মুখোমুখি হন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ / ঢাকা পোস্ট

ঢাকা পোস্ট : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আপনার অগ্রাধিকার তালিকা বা প্রথমদিকের কাজগুলো কী কী?

বিজ্ঞাপন

ববি হাজ্জাজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো— জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণ। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে যে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবে রূপান্তরের জন্য আমরা একটি বিস্তারিত ও সময়োপযোগী মহাপরিকল্পনা তৈরি করছি। এটি দ্রুতই মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বুনিয়াদি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও নিম্নবিত্তের শিশুরা পিছিয়ে থাকছে, ফলে একটি ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এই ব্যবধান কমিয়ে আনা। তবে শিশুদের ওপর হার্ডওয়্যারের ভার না চাপিয়ে পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তির মৌলিক পরিচিতিমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমরা তাদের আগামীর জন্য প্রস্তুত করতে চাই

এই পরিকল্পনায় মূলত দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো— দীর্ঘমেয়াদি, যেখানে আগামী পাঁচ বছরে আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় কোন কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাই তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকবে। আর দ্বিতীয়টি হলো— স্বল্পমেয়াদি বা তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে আমরা কোন কোন দৃশ্যমান সংস্কার বা কাজ সম্পন্ন করব, বর্তমানে আমরা সেটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট : স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর নিয়ে আপনার ভাবনা বা দর্শন কী?

ববি হাজ্জাজ : প্রাথমিক শিক্ষা হলো সব শিক্ষার মূল ভিত্তি বা ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’। ভবিষ্যতে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, তার ভিত রচিত হয় আজকের প্রাথমিক শিক্ষায়। তাই এই ভিত্তিটা মজবুত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান যুগে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা প্রযুক্তিগত জ্ঞানও এই বুনিয়াদি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি ডিজিটাল ডিভাইসের মৌলিক ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপের ইন্টারফেস কীভাবে কাজ করে— এসব প্রাথমিক ধারণা শিশুদের থাকা প্রয়োজন। আমরা লক্ষ করেছি, সচ্ছল পরিবারের শিশুরা ছোটবেলা থেকেই এসব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা সেই সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। ফলে একটি ডিজিটাল বৈষম্য (Digital Divide) তৈরি হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো এই ব্যবধান কমিয়ে আনা।

দেশের ১ লাখ ২০ হাজার স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও কম সরকারি হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষায় বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে, আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো মানের সমতা রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী, আমরা সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে চাই। কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুলের কারিকুলাম ও পরিবেশ যেন একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলে, তা নিশ্চিত করা হবে

তবে আমি মনে করি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান কাজ হলো শিশুর মেধার ভিত্তি তৈরি করা। তাই এখানে শুরুতেই প্রচুর হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারের ভার চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং আমরা চাই শিশুদের প্রযুক্তির সঙ্গে একটি চমৎকার ও প্রাথমিক পরিচয় করিয়ে দিতে। বর্তমান কারিকুলামে বিষয়টি খুব একটা স্পষ্ট নয়, তাই ভবিষ্যতে আমরা প্রযুক্তির মৌলিক পরিচিতিমূলক কিছু বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছি।

ঢাকা পোস্ট : আপনাদের ১৮০ দিনের বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় কি এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?

ববি হাজ্জাজ : দেখুন, মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে স্কুলগুলোতে বড় ধরনের কোনো সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া বা আমূল পরিবর্তন আনা খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। এই সময়ের মধ্যে মূলত আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করব এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ঐকমত্য (Consensus) প্রতিষ্ঠার কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রী আমাদের বড় কিছু লক্ষ্য দিয়েছেন— যেমন সব ধরনের শিক্ষা কারিকুলামকে একটি অভিন্ন কাঠামোর (Umbrella) অধীনে নিয়ে আসা এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি বা নতুন ‘Pedagogy’ তৈরি করা। মূলত আমরা আগামী পাঁচ বছরে প্রাথমিক শিক্ষায় কোন কোন মাইলফলক (Benchmarks) স্পর্শ করতে চাই, এখন তা সুনির্দিষ্ট করছি। সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে প্রথম ১৮০ দিনে ঠিক কোন কোন কাজগুলো শুরু করা জরুরি— সেটাই এখন আমাদের পরিকল্পনার মূল অংশ।

স্কুল ফিডিং কার্যক্রম এখন ১৫০টি উপজেলায় চললেও আমাদের বড় লক্ষ্য হলো— এটিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া। চলতি বছরের জুন-জুলাই মাস থেকেই আমরা সব উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি। ‘পিইডিপি-৪’ প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। সব এলাকায় পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও এ বছরের মাঝামাঝি থেকেই দেশের প্রতিটি শিশু এই সুবিধার আওতায় আসা শুরু করবে

ঢাকা পোস্ট : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায়ই কারিকুলাম পরিবর্তন হতে দেখা যায়, যা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। এ বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

ববি হাজ্জাজ : অতীতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় সংকট ছিল ‘অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণ’। অনেক ক্ষেত্রে কেবল রাজনৈতিক চমক দেখানোর জন্য কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। আমি মনে করি, সময়ের প্রয়োজনে কারিকুলামে পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, তবে তা কোনো ‘চমক’ দেখানোর জন্য নয়; বরং হতে হবে দেশের বাস্তব প্রয়োজনের নিরিখে।

dhakapost

একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার— বিদেশি কোনো মডেল হুবহু ‘কপি-পেস্ট’ করে এখানে সফল হওয়া সম্ভব নয়। নরওয়ের শিক্ষা পদ্ধতি হয়তো তাদের জন্য সেরা, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আমরা হুট করে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।

আমাদের পরিকল্পনা হলো— প্রথমে বিভিন্ন এলাকায় ‘পাইলট প্রকল্প’ পরিচালনা করা। সেখানে ভিন্ন ভিন্ন মডেল পরীক্ষা করে দেখা হবে কোনটি আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই। এরপর সবচেয়ে কার্যকর মডেলটিই পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বাস্তবায়ন করা। একটি নতুন কারিকুলাম সফল করতে হলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পাঠ্যবই এবং সংশ্লিষ্ট সবার (স্টেকহোল্ডার) মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শুধু নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নই নয়, বরং এর ইতিবাচক ফলাফলও দৃশ্যমান হবে।

ঢাকা পোস্ট : প্রাথমিক শিক্ষায় শহর, মফস্বল ও গ্রামের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার একটি বড় বৈষম্য লক্ষ করা যায়। মনে হচ্ছে, শহরের শিশুরা এগিয়ে থাকছে— এই সমস্যার সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

ববি হাজ্জাজ : এটি শুধু সাধারণ কোনো ধারণা নয়, বরং রূঢ় বাস্তবতা। আমাদের দেশে শিক্ষার বিভিন্ন ধারা প্রচলিত এবং পাঠদান পদ্ধতিও ভিন্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলেও এক ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন হলো— সব ধরনের স্কুলকে একটি অভিন্ন কাঠামোর বা ‘আমব্রেলা’র অধীনে নিয়ে আসা। আমাদের লক্ষ্য হলো— একজন শিক্ষার্থী দেশের যে প্রান্তের বা যে ধরনের স্কুলেই পড়ুক না কেন, তার শিক্ষার মান যেন একটি সুনির্দিষ্ট ও উন্নত মানদণ্ডে থাকে।

তবে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাদের দেশে সুযোগ-সুবিধা শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা প্রবল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। শিক্ষা খাতের ক্ষেত্রে আমরা মূলত তিনটি দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি— প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিকুলাম সহজীকরণ। এর মাধ্যমেই আমরা শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের মধ্যে একটি সমতা আনার চেষ্টা করব।

ঢাকা পোস্ট : কিন্ডারগার্টেনসহ দেশের বিভিন্ন ধারার প্রাথমিক স্কুলগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার কোনো পরিকল্পনা আপনাদের আছে কি না?

ববি হাজ্জাজ : হ্যাঁ, আমরা সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আনার কাজ করছি। বাস্তবতা হলো— বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার বিপরীতে সরকারের পক্ষে একা সব শিক্ষাসেবা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারের মতো স্কুল রয়েছে, যার অর্ধেকেরও কম সরকারি। ফলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করছি না।

dhakapost

তবে, মূল চ্যালেঞ্জ হলো মানের সমতা রক্ষা করা। বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর কারিকুলাম, শিক্ষকদের মান, ক্লাসরুমের পরিবেশ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই আমরা একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা করছি, যাতে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে থাকে।

ঢাকা পোস্ট : বর্তমানে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের পরিধি কতটুকু এবং এটি নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ববি হাজ্জাজ : বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে, আমাদের বড় লক্ষ্য হলো— এটিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা পরিকল্পনা করছি, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাস থেকেই দেশের সব উপজেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের কাজ শুরু করার।

এটি মূলত ‘পিইডিপি-৪’ (PEDP-4) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হবে। তবে, বাস্তবতার নিরিখে সব উপজেলায় এটি পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু সম্প্রসারণের মূল প্রক্রিয়াটি আমরা এই বছরের মাঝামাঝি থেকেই শুরু করে দেব।

আমরা একটি ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন এবং পরবর্তী সময়ের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের যাত্রার শুরুটা ছিল অত্যন্ত বন্ধুর। তবুও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্বপ্ন ও সংকল্প অনেক বড়। যত বাধাই আসুক, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবই। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা নিরাশ করব না

ঢাকা পোস্ট : শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বইয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

ববি হাজ্জাজ : আমাদের মূল লক্ষ্য হলো— শ্রেণিকক্ষ বা স্কুলকেই শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী করা, যাতে পাঠ্যবই পড়ার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা সব বুঝতে পারে। তবে, এ ধরনের পরিবর্তন রাতারাতি আনা সম্ভব নয়।

বাস্তবতা হলো— প্রাথমিক শিক্ষায় কোচিং বা গাইড বইয়ের প্রভাব মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের তুলনায় অনেকটা কম। তবুও প্রাথমিক পর্যায়ে এই ধরনের যেটুকু সমস্যা বিদ্যমান, তা নিরসনে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি।

ঢাকা পোস্ট : প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বৈষম্যসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি?

ববি হাজ্জাজ : শিক্ষকদের দাবিগুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং বিষয়গুলো বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব দাবির একটি সন্তোষজনক সমাধান সামনে আনতে পারব। বর্তমানে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা চলছে।

dhakapost
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ / ফাইল ছবি

ঢাকা পোস্ট : বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এই অবস্থা কি দীর্ঘমেয়াদি হবে?

ববি হাজ্জাজ : না, এটি মোটেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিষয় নয়; বরং সম্পূর্ণ একটি সাময়িক ব্যবস্থা। প্রশাসনিক কিছু কারণে খুব অল্প সময়ের জন্য এটি স্থগিত রাখা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে।

ঢাকা পোস্ট : নতুন সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাত নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?

ববি হাজ্জাজ : আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করেছি। দেশের সামগ্রিক চিত্র বদলে দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথচলা শুরু হয়েছে।

তবে, আমাদের এই যাত্রার শুরুটা ছিল অত্যন্ত বন্ধুর। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন এবং গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের আসতে হয়েছে। আমরা মূলত একটি ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তবুও আমাদের স্বপ্ন ও সংকল্প অনেক বড়।

যত বাধাই আসুক, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব— এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান— আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা আপনাদের নিরাশ করব না।

ঢাকা পোস্ট : ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

ববি হাজ্জাজ : আপনাদেরও ধন্যবাদ। ঢাকা পোস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই সুযোগটি পেয়ে ভালো লাগল।

আরএইচটি/এমএআর/

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

শিক্ষামন্ত্রীববি হাজ্জাজপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়প্রাথমিক শিক্ষাতারেক রহমানপ্রধানমন্ত্রীবাংলাদেশ

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ববি হাজ্জাজের আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ মামুনুল হকের

ববি হাজ্জাজের আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ মামুনুল হকের

শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম

শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার : শিক্ষামন্ত্রী