নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় দেশের ৬০টি জেলায় নদী ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২০ হাজার নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
একই সঙ্গে বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতে এবার চালু করা হয়েছে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা। মাঠপর্যায়ে কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে প্রকল্প তদারকিতে সরাসরি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন
সরকারের চলমান এই মেগা উদ্যোগ, শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ, নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রস্তুতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা পোস্ট-এর মুখোমুখি হয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তার সেই একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা পোস্টের চিফ অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্টেট অ্যাফেয়ার্স আদিত্য রিমন।
নিচে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো—
ঢাকা পোস্ট : সরকারের তিন মাস পার হলো। ১৮০ দিনের কর্মসূচির প্রথম ধাপে অগ্রগতি ও লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু অর্জিত হয়েছে?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রতি মাসে কমপক্ষে দুই বার পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ের সভায় কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে নিয়মিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

ঢাকা পোস্ট : খাল খনন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ের একটি বড় অংশ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে ছিল। তবে নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের কাজে সরকার স্থানীয় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করছে।
উদাহরণ হিসেবে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালের কথা বলা যায়। সেখানে খননকাজ সেনাবাহিনী পরিচালনা করলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে মার্কেট ও কারখানা নির্মাণের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব প্রতিবন্ধকতা ধীরে ধীরে দূর করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে আরও খাদ্যনিরাপদ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে
দিনাজপুরের শাহাপাড়া খালের কথাই ধরা যাক। দীর্ঘদিন পানি না থাকায় খালটি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। এখন খননকাজ সম্পন্ন হলে খালটিতে আবার পানিপ্রবাহ ফিরবে। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে মাছ চাষেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি খালের দুই তীরজুড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন
ঢাকা পোস্ট : এ কর্মসূচির শতভাগ কাজ শেষ করতে কত বছর সময় লাগবে?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : ইতোমধ্যে যশোর, সিলেটসহ দেশের ৬০টি জেলায় নদী ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যেই চলমান কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি), স্থানীয় প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীরা নিয়মিত তদারকি করছেন। খনন শেষে যাতে নদী ও খাল পুনরায় দখল বা দূষণের শিকার না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২০ হাজার নদী ও খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ চার বছরের মধ্যে এই কার্যক্রমের বড় অংশ সম্পন্ন করতে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে আরও খাদ্যনিরাপদ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খননকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ কারিগরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা হচ্ছে। নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে ভাটির দিক থেকে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে খননকৃত মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার খাল বা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তা পাড়ে না রেখে নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব মাটি স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ভূমি উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

ঢাকা পোস্ট : সাধারণ মানুষকে কীভাবে এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : খননকাজে আধুনিক ড্রেজার ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকল্পভেদে মোট কাজের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রমিক স্থানীয়ভাবে নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে। মানুষ নিজ এলাকায় কাজ ও আয় করার সুযোগ পেলে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিকেন্দ্রীভূত হবে।
বাংলাদেশকে খাদ্যে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এবং নদীমাতৃক দেশকে রক্ষা করতে ২০ কোটি মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এই কাজে কোনো দলীয় দৃষ্টিকোণ না রেখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা পোস্ট : এবারের বন্যায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে কোনো পরিকল্পনা নিয়েছেন কি না?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : এবার আগাম ও অতিবৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি, দুই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।
ইতোমধ্যে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চল এবং যেসব জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব এলাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেখানে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ২৫টি প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছিল। তবে প্রকল্পের অনেক ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আমি নিজে প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করেছি। কোনো মানুষ যেন নদীভাঙনের কারণে বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী পরিদর্শন শেষে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তাতে দেখা গেছে, আমাদের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে আপাতত নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ঢাকা পোস্ট : আপনাদের নতুন কর্মসূচি কী?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য, দেশের কোথাও যেন নদীভাঙনের কারণে মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, স্কুল-কলেজ বা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন না হয়। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করেছেন, যেখান থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এই বিষয়টি তিনি বারবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি।
আরও পড়ুন
ঢাকা পোস্ট : খাল খনন কর্মসূচি কত দিন চলমান থাকবে?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : নদী, খাল ও জলাশয় খননের কাজ সারা বছর করা সম্ভব হয় না। সাধারণত বর্ষা শেষে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত, এই সাত মাস এ ধরনের কাজের উপযোগী সময়। তবে বর্ষাকালেও আমাদের জরুরি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। কোথাও নদীভাঙন শুরু হলে সেখানে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, তীর সংরক্ষণ বা অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে যখনই অতিবৃষ্টি বা বন্যায় কোনো এলাকার সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, নির্বাহী প্রকৌশলী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জরুরি তথ্য পাই, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নদী ও খাল রক্ষা করা এবং মানুষের জানমাল ও সম্পদ নিরাপদ রাখা।
ঢাকা পোস্ট : প্রকল্পের অনিয়ম রোধে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

ফরহাদ হোসেন আজাদ : অতীতে অনেকের ধারণা ছিল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নদীতে বা জলাশয়ে বোল্ডার ফেলা কিংবা তীর সংরক্ষণের প্রকল্পগুলোকে অনেকে অনিয়মের আখড়া মনে করতেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি।
এখন আর কোনো ঠিকাদার ইচ্ছামতো নিম্নমানের ব্লক বা বোল্ডার তৈরি করতে পারবেন না। প্রতিটি বোল্ডার তৈরির জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড রয়েছে, কতটুকু সিমেন্ট, পাথর ও বালি ব্যবহার করতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।
ধরুন, কোনো ঠিকাদারকে ৫০০টি বোল্ডার তৈরির কাজ দেওয়া হয়েছে। আমাদের তদারকি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা সেখান থেকে ২-৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করবেন। মান ঠিক থাকলেই কেবল সেগুলো প্রকল্পে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, অন্যথায় বিল পরিশোধ বা বরাদ্দ অনুমোদন করা হবে না।
এ ছাড়া আগে আরেকটি বড় সমস্যা ছিল, কাগজে-কলমে যে পরিমাণ সামগ্রী দেখানো হতো, বাস্তবে অনেক সময় তার চেয়ে কম ব্যবহার করা হতো। যেমন, একটা নদীতে হয়তো ১০০০ বোল্ডার ফেলার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা যেত ৮০ কিংবা ১০০টি ফেলা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে আমরা বহুস্তরীয় তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবেন।
পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় বড় তথ্য ফলক (সাইনবোর্ড) স্থাপন করা হবে, যেখানে কতটি বোল্ডার বা কী পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এতে স্থানীয় সাধারণ জনগণও সরাসরি প্রকল্প তদারকিতে অংশ নিতে পারবেন।
আমরা জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করছি, যাতে কোনোভাবেই ফাঁকি বা চুরির সুযোগ না থাকে, অর্থাৎ দুর্নীতিকে পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। ইতোমধ্যে আমাদের এই কঠোর নজরদারির কারণে অনেক অসাধু ঠিকাদার এখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যে লক্ষ্য, তা আগামী চার বছরের মধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করব।
এএইচআর/এমএসএ
