বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান, ভিসা নবায়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধান চালু করেছে সরকার। ‘নতুন ভিসা পলিসি ২০২৬’-এ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেআইনিভাবে অবস্থান করলে দৈনিক সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা জরিমানা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা, ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে বিদেশি নাগরিকদের নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) সুবিধা এবং ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা পোস্টের হাতে আসা সরকারি নথি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নথিতে দেখা গেছে, নতুন নীতিমালায় পর্যটন ও ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ৩০ দিনের ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’, ট্রানজিট ভিসা সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা এবং নিরাপত্তা সংস্থার ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২১ কর্মদিবস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলো বাতিল হলেও সেসব নীতির আওতায় আগে ইস্যু করা ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে।

ওভারস্টে বা অবৈধ অবস্থান ও জরিমানা
নতুন নীতিমালায় বৈধ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ওভারস্টে করার জন্য নির্দিষ্ট জরিমানা দিয়ে অবস্থান নিয়মিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথম ১৫ দিন অবৈধ অবস্থানের জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা এবং ১৫ দিনের বেশি হলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত প্রযোজ্য। আর ৯০ দিনের বেশি অবৈধ অবস্থান করলে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা হারে জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট (বিদেশি নাগরিক আইন) অনুযায়ী আদালতে মামলা করার বিধানও রয়েছে।
ওভারস্টেতে কড়াকড়ি ও নতুন জরিমানা কাঠামো: ‘নতুন ভিসা পলিসি ২০২৬’ অনুযায়ী বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধ অবস্থানের জন্য প্রথম ১৫ দিন দৈনিক এক হাজার টাকা, পরের সময়গুলোর জন্য দুই হাজার এবং ৯০ দিনের বেশি হলে দৈনিক তিন হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে মেয়াদ বাড়লে মওকুফের সুযোগ থাকছে।
তবে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক, বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের জরিমানা মওকুফ করা যেতে পারে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত জরিমানা মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে, তিন মাসের বেশি হলে দৈনিক তিন হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের বেশি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা কার্যকর হবে। অসুস্থতার কারণে কেউ অবৈধ অবস্থানে পড়লে চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে জরিমানা মওকুফের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা ফ্লাইট বাতিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে অবস্থান দীর্ঘ হলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।
আরও পড়ুন
ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের নিবন্ধন
নতুন নিয়মানুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান থেকে ৯০ দিন বা তার বেশি মেয়াদের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসা ব্যক্তিদের প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। তবে, এই দুই দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

৩০ দিনের ভিসা অন অ্যারাইভাল
নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকেরা পর্যটন ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৩০ দিনের জন্য একবার প্রবেশের (Single Entry) ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা পাবেন। এ তালিকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনেই, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।
নিবন্ধন ও বিনিয়োগে এনভিআর সুবিধা: নতুন নীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দেশে ভারী শিল্পে অন্তত ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে বিদেশি উদ্যোক্তারা ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (এনভিআর) সুবিধা পাবেন, তবে তাদের অর্থায়নের উৎস ও ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
এছাড়া সরকারি আমন্ত্রণে আসা বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদার, যেসব দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন নেই সেসব দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি ও তাদের পরিজন, বাংলাদেশে কর্মরত কূটনৈতিক মিশন ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক/জাতিসংঘের পাসপোর্টধারীরাও এই সুবিধা পাবেন।
ট্রানজিট ভিসা ও অন্যান্য নিয়মাবলী
পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ভিসা দেওয়া যাবে, যার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৭২ ঘণ্টা এবং ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবেদন করলে ওভারস্টের জন্য নির্ধারিত জরিমানা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ভিসা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

পুরোনো পাসপোর্টে থাকা বৈধ ভিসা আবেদনের মাধ্যমে নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে। এদিকে, ভিসা ইস্যু বা মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে (বিশেষ শাখা বা এনএসআই) সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্তৃপক্ষের অনুরোধ পাওয়ার পর ২১ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না এলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আপত্তি নেই ধরে ভিসা কর্তৃপক্ষ যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংস্থার এমন মতামত প্রয়োজন হবে না।
ভিসার শর্ত ভাঙলে স্পনসরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যবসা কিংবা শিক্ষার উদ্দেশ্যে আসা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভিসার আবেদনে তথ্য গোপন করেন অথবা ভিসার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেন, তবে তার নিয়োগকারী বা স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অপরাধে প্রথমবারের জন্য জনপ্রতি এক লাখ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য জনপ্রতি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
পাশাপাশি বিদেশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশে চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মনোনীত প্রতিনিধির সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে দেশ ছাড়ার পূর্বে ইমিগ্রেশন পয়েন্টে উক্ত মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) জমা দিতে হবে।
এনভিআর (NVR) সুবিধায় নতুন বিধান
নতুন নীতিমালায় মূল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বংশধর, তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের শর্তসাপেক্ষে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (NVR) সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সাংবাদিকতায় শর্ত ও নিরাপত্তার ভারসাম্য: বিদেশি সাংবাদিকদের চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রক্রিয়াটি যেন আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগে বাধা না হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক উদারতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
এই সুবিধা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের বৈধতার মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং এর আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বংশগত সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ আবেদনকারীকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, বাংলাদেশি এমআরপি বা ই-পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অনলাইন জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হবে। একইভাবে বিদেশি স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রেও সম্পর্কের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৫ বছরের বেশি বয়সী সন্তান এবং স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে এনভিআর
নতুন নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (NVR) পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে ভারী শিল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অন্তত ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে বিদেশি উদ্যোক্তারা এই সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেপজা, বেজা কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সনদ জমা দিতে হবে।
তবে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো বিদেশি নাগরিক কিংবা তাদের স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানরা যদি বিনিয়োগের ভিত্তিতে বিদেশের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়ে থাকেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে এনভিআর পাওয়ার আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থার ইতিবাচক প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
এছাড়া, পুরোনো পাসপোর্টে এনভিআর থাকলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তা নতুন পাসপোর্টে রূপান্তর করা যাবে। নতুন নীতিতে মেশিন রিডেবল এনভিআর (Machine Readable NVR) দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সার্কুলার বাতিল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার
নীতিমালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেওয়া নিরাপত্তা ছাড়পত্রের (Security Clearance) মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ নেই— এমন যেকোনো ভিসা বা এনভিআর-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ব্যাখ্যা কিংবা ভিসা বাতিলের সার্বিক ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতেই ন্যস্ত রাখা হয়েছে।

নতুন ভিসা নীতিমালার ফলে আগের সব সার্কুলার বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে, পুরোনো সার্কুলারের আওতায় ইস্যু করা ভিসা মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রয়োজনে সরকার এই নীতিমালার যেকোনো অংশ সংশোধন, পরিমার্জন কিংবা বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মুহাম্মদ শামসুদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান ও সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে একটি স্পষ্ট ও যুগোপযোগী ভিসা নীতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনেকে ভ্রমণ, ব্যবসা বা চাকরির নামে এসে মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে থেকে যান। এ পরিস্থিতি সামলাতে ওভারস্টের জন্য জরিমানা নির্ধারণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান সময়োপযোগী হয়েছে।’
নতুন জরিমানা ব্যবস্থার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধাপে ধাপে জরিমানা আদায়ের নিয়মটি বিদেশিদের ভিসার শর্ত মানতে বাধ্য করবে এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াবে। তবে, শুধু জরিমানা নির্ধারণ করলেই হবে না; ইমিগ্রেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আরও গতিশীল করতে হবে।’
৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে এনভিআর (NVR) সুবিধার বিষয়ে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘প্রকৃত বিনিয়োগ আকর্ষণে এ সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে। তবে, কোনো বিদেশিকে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়ার আগে তার পরিচয়, ব্যবসার ধরন এবং অর্থের উৎস কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে অর্থপাচার বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পথ সুগম হতে পারে।’

অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ১৪ দিনে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে থাকা বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশ্য, ঠিকানা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য রাষ্ট্রের কাছে থাকা নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সাধারণ বিদেশি বা দর্শনার্থীরা যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।’
একই বিষয়ে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন ভিসানীতিতে বিদেশি সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। বিদেশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আগমন ও কাজ করা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক অংশ। তবে দেশের স্পর্শকাতর স্থাপনা, সীমান্ত এলাকা কিংবা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অবকাঠামোয় কাজ করার সময় যথাযথ অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নতুন এই ভিসা নীতিমালার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ ও উদারতার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একদিকে বাংলাদেশ যেন বিদেশি পর্যটক, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে; অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় যেন কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়। এজন্য নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে পরিমার্জন করতে হবে।’
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য ২১ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রসঙ্গে এই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকাটা ইতিবাচক, যা ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাবে। তবে, খেয়াল রাখতে হবে— দ্রুত কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তামূলক যাচাইপ্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়ে পড়ে। নির্ভুল ও দ্রুততম সময়ে তথ্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ডেটাবেজের মধ্যে আধুনিক সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
এমএম/এমএআর/
