একটি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার পরপরই সেটির জায়গা নিচ্ছে নতুন ডোমেইন। পুরোনো ঠিকানা অচল হয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও কিংবা মন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন লিংক। সেখানে ঢুকলেই আবারও সামনে আসছে একই জুয়ার প্ল্যাটফর্ম, বোনাস আর দ্রুত জয়ের প্রলোভন। অর্থাৎ সাইটের ঠিকানা বদলালেও বদলাচ্ছে না কারবারের ধরন। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে জুয়ার সাইট ও লিংক বন্ধ করা হলেও এই পালাবদলের কারণে থামানো যাচ্ছে না অনলাইন জুয়ার প্রবাহ।
এমন অবস্থায় অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে এখন শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্লক না করে এর সঙ্গে টাকার প্রবাহ, লেনদেন ও নেপথ্যের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, একটি ডোমেইন বন্ধ করা হলে সাময়িকভাবে একটি পথ বন্ধ হয়। কিন্তু একই প্ল্যাটফর্ম যদি নতুন ঠিকানায় ফিরে আসে, তাহলে সেই প্রযুক্তিগত বাধা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। তাই জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে ওয়েবসাইট ব্লকিংয়ের পাশাপাশি এর প্রচারণা, ব্যবহারকারী সংগ্রহ, অর্থ লেনদেন এবং নেপথ্যের পরিচালনাকারীদেরও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ওয়েবসাইট ব্লক করার কিছু সময় পরই নতুন ডোমেইন ও লিংক তৈরি করে আবার সক্রিয় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম। ফলে একটি সাইট বন্ধ করার প্রযুক্তিগত উদ্যোগের পরও ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর বিকল্প পথ থেকে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার প্রচারণা এবং ভিপিএনের মাধ্যমে ব্লক করা সাইটে প্রবেশের প্রবণতা।
বিটিআরসি গত পাঁচ মাসে ২,২৫৫টি জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করলেও থামানো যাচ্ছে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার। একটি ডোমেইন বন্ধ হলেই নাম বা অক্ষরের সামান্য পরিবর্তনে চালু হচ্ছে নতুন মিরর সাইট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন এবং ভিপিএনের সহজ ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ অনায়াসেই এই ডিজিটাল ফাঁদে পা দিচ্ছে
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে গ্যাম্বলিং ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মোট ২২৫৫টি জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৭৬৮। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্লক করা জুয়ার সাইট ও লিংকের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু ব্লকিংয়ের এই সংখ্যা বাড়লেও অনলাইন জুয়ার বিস্তার থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই; বরং একটি সাইট বন্ধ হওয়ার পর নতুন ঠিকানায় একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ফিরে আসছে।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার চক্র এখন আর একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম পরিচালনা করে না। একই প্ল্যাটফর্মের জন্য একাধিক ডোমেইন, বিকল্প লিংক ও মিরর সাইট প্রস্তুত রাখা হয়। একটি ডোমেইন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নামে বা সামান্য পরিবর্তিত ঠিকানায় আরেকটি ডোমেইন চালু করা হয়। কখনও ঠিকানার একটি অক্ষর বা সংখ্যা পরিবর্তন করা হয়, কখনও ভিন্ন ডোমেইন এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীর কাছে নতুন ওয়েবসাইট মনে হলেও এর পেছনে একই প্ল্যাটফর্ম বা একই নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে।
এই কৌশলের কারণে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান লড়াই অনেকটা ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। একটি সাইট শনাক্ত করে ব্লক করার পর সেটির বিকল্প ঠিকানা খুঁজে বের করতে হচ্ছে। সেই ঠিকানাও বন্ধ হলে আবার তৈরি হচ্ছে নতুন লিংক। ফলে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটকে লক্ষ্য করে নেওয়া ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগেই জুয়ার চক্র তাদের কার্যক্রম অন্য ঠিকানায় সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বিষয়টি বোঝাতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জুয়ার ডোমেইন যদি betting123.com হয় এবং সেটি ব্লক করা হয়, তাহলে একই প্ল্যাটফর্ম সামান্য পরিবর্তন এনে betting124.com বা অন্য কোনো নতুন ঠিকানায় ফিরে আসতে পারে। ব্যবহারকারীর কাছে সেটি নতুন ওয়েবসাইট মনে হলেও এর পেছনের প্ল্যাটফর্ম বা নেটওয়ার্ক একই থাকতে পারে। ফলে একটি ডোমেইন বন্ধ করা গেলেও নেপথ্যের কারবার বন্ধ হচ্ছে না।
অনলাইন জুয়ার মূল হোতা ও সার্ভার বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হলেও দেশে সক্রিয় রয়েছে স্থানীয় এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কেবল সাইট বা অ্যাপ ব্লক করে এই কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ট্রানজেকশন হিস্ট্রি বিশ্লেষণ করে অর্থের গন্তব্য শনাক্ত এবং দেশীয় নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ
বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নই। ফলে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত করা বা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমাদের দায়িত্ব হলো, যেসব জুয়ার ওয়েবসাইট, ডোমেইন বা লিংক শনাক্ত হচ্ছে, সেগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করে দেওয়া। আমরা সেই কাজটিই করছি এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সাইট বন্ধ করার পর সেটি যদি নতুন কোনো ডোমেইন বা লিংকের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়, সেটিও শনাক্ত করে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে, একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পৃথক আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
অবশ্য শুধু ডোমেইন বদলেই থেমে থাকছে না জুয়ার প্রচারণা। নতুন ব্যবহারকারী সংগ্রহের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এসব চক্র। ফেসবুকে পোস্ট, ভিডিও, লাইভ কিংবা মন্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইউটিউবের ভিডিওর বর্ণনা ও মন্তব্যেও পাওয়া যাচ্ছে এসব লিংক। টিকটকের ছোট ভিডিও ও প্রচারমূলক কনটেন্টের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট জুয়ার প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এসব প্রচারণার ভাষাও এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রথম দেখায় সেটিকে সরাসরি জুয়ার বিজ্ঞাপন মনে না হয়। ‘গেম’, ‘লাইভ স্কোর’, ‘বেটিং টিপস’, ‘প্রেডিকশন’, ‘বোনাস’ কিংবা ‘ফ্রি ক্রেডিট’— এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও দ্রুত লাভের প্রতিশ্রুতি, কোথাও নিশ্চিত জয়ের ধারণা, আবার কোথাও কম টাকায় খেলা শুরুর সুযোগ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ফলে একজন ব্যক্তি শুরুতে বুঝতেই পারেন না যে তিনি আসলে একটি জুয়ার প্ল্যাটফর্মের দিকে এগোচ্ছেন।
দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় জুয়ায় জড়িয়ে বিপুল ঋণের চাপে চাকরি হারিয়ে কিংবা গৃহহীন হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার। দেশে অনলাইন জুয়া নিয়ে প্রায় দুই হাজার মামলা হলেও এখন পর্যন্ত একটিও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে নজরদারি জোরদার, আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
একবার ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলে তাকে ধরে রাখার জন্যও নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়। প্রথম দিকে সামান্য অর্থে খেলার সুযোগ, বোনাস বা ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। কেউ প্রথমবার কিছু টাকা জিতে গেলে তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এরপর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় তিনি বারবার অর্থ বিনিয়োগ করতে থাকেন। এভাবেই বিনোদন বা সহজে আয় করার আশায় শুরু করা একটি কার্যক্রম ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতির চক্রে পরিণত হয়।
এর সঙ্গে ভিপিএনের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয়ভাবে কোনো ওয়েবসাইটের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হলেও কিছু ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে সেখানে প্রবেশ করছেন। ফলে একটি সাইট ব্লক করার পরও সেটিতে পৌঁছানোর বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে ব্লকিং কার্যকর হলেও ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর অন্য পথ খোলা থাকলে জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন শুধু কতটি সাইট ব্লক করা হয়েছে সেটির হিসাব রাখলেই হবে না; বরং ব্লক হওয়ার পর একই জুয়ার প্ল্যাটফর্ম কীভাবে নতুন ঠিকানায় ফিরে আসছে, কারা সেই ঠিকানা ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এবং সেই কার্যক্রমের অর্থ কোথা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে এবং শেষ পর্যন্ত কোন নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছাচ্ছে— এসব তথ্যের সূত্র ধরতে পারলে শুধু একটি সাইট নয়, পুরো নেটওয়ার্কের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: অধ্যাপক ওমর ফারুক
অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে শুধু ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করলেই হবে না; বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক।
ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি অনেক ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির মতো ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের আকাঙ্ক্ষায় বিশেষ করে তরুণরা অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছে। এটি এখন শুধু শহর বা উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গ্রামপর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।’ তার মতে, ‘অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রচার চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, “অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যুক্ত থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থের প্রবাহের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
বর্তমান অবস্থায় পরিবার, সমাজ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর মনিটরিং ছাড়া অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশ থেকে চলছে মূল কারবার, দেশের ভেতরে সক্রিয় এজেন্টরা
অনলাইন জুয়ার সাইট বন্ধ করতে গিয়ে বারবার নতুন ঠিকানার দেখা মিললেও এসব প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যের নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রেই দেশের বাইরে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে সচল থাকা অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মের সার্ভার বা হোস্টিং রাশিয়া, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও ফিলিপাইনের মতো দেশে থাকার তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাতে এসব চক্র স্থানীয় এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট ব্যবহার করে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় এজেন্টদের কাজ শুধু ব্যবহারকারী সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া, জেতা অর্থ পরিশোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কাজেও যুক্ত থাকে। ফলে একটি সাইট বন্ধ হলেও স্থানীয় নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকলে নতুন ডোমেইন বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একই কারবার আবার শুরু করার সুযোগ থাকে।
এদিকে, বিটিআরসি জুয়ার ওয়েবসাইট ও ডোমেইন ব্লক করতে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে স্থাপিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) সিস্টেম ব্যবহার করছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা জুয়ার কনটেন্ট সরাতেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে রিপোর্ট পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন
তবে, সাইট বন্ধ করার পর একই চক্র নতুন ঠিকানায় ফিরে এলে তাদের শনাক্ত করতে প্রয়োজন আলাদা তদন্ত। তখন প্রশ্ন দাঁড়ায়— নতুন ডোমেইন তৈরি করছে কারা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিংক ছড়াচ্ছে কারা, ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে কোন ব্যক্তি বা অ্যাকাউন্ট এবং সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টাকার প্রবাহ। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ও ডিজিটাল আর্থিক মাধ্যমে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। কোন অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে, একই অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে অর্থ জমা পড়ছে কি না এবং অর্থের শেষ গন্তব্য কোথায়— এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সংস্থার আরেক কর্মকর্তা বলেন, একটি সাইট বন্ধ করলেই মূল নেটওয়ার্কে আঘাত করা যায় না। সাইটের নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে থাকলে তারা নতুন ডোমেইন বা আইপি ব্যবহার করে আবারও বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। তাই দেশের ভেতরে কারা তাদের হয়ে কাজ করছে এবং কারা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছে, সেটি শনাক্ত করা জরুরি।
এই কর্মকর্তার মতে, অনলাইন জুয়ার সক্ষমতা ভাঙতে নজর দিতে হবে ওয়েবসাইটের পেছনের মানুষ এবং টাকার পথেও।
অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বনাশ, ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত পরিবার
অনলাইন জুয়ার বিস্তার শুধু অর্থের ক্ষতিই করছে না, এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও ব্যক্তিজীবনেও। দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ঢুকে একপর্যায়ে সঞ্চয়, ধার করা অর্থ এমনকি পরিবারের প্রয়োজনীয় টাকাও এতে হারাচ্ছেন অনেকে। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ঋণ।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের এক বেসরকারি চাকরিজীবীর পরিবারের ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমন ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে পরিচিত হন বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সৌরভ (ছদ্মনাম)। শুরুতে বিষয়টি ছিল অনেকটা কৌতূহল ও বিনোদনের মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে গত এক বছর ধরে তিনি এতে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তার ধারণা ছিল, একদিন জুয়ার মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা আয় করে ফেলবেন। সেই আশায় নিজের জমানো টাকা শেষ করেন। একপর্যায়ে ধার করেও জুয়ার প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করতে থাকেন।
এভাবে করতে করতে তার ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে সম্প্রতি। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ আগস্ট তিনি একটি চিরকুট লিখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সেই চিরকুটে তার পাওনাদারদের একটি তালিকাও ছিল। সেখানে ২ লাখ টাকার বেশি পাওনার হিসাব উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে এমন বার্তা দেওয়া হয় যে, তিনি চলে যাওয়ার পর যেন এসব পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হয়। এতে স্ত্রী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাকে অনলাইন জুয়া থেকে ফেরানোর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও তিনি তা থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। এরই মধ্যে তিনি তার বেসরকারি চাকরিটিও হারিয়েছেন। ফলে একদিকে বিপুল ঋণ, অন্যদিকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
এর আগেও তিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। প্রতিবারই তাকে সামলাতে গিয়ে পরিবারকে নানা ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ (ছদ্মনাম)। বন্ধুদের দেখাদেখি একটি আন্তর্জাতিক বেটিং প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তিনি। শুরুতে ১ হাজার টাকা জমা দিয়ে ৩ হাজার টাকা জেতেন। প্রথমবারের সেই জয়ই তাকে আরও উৎসাহিত করে। এরপর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় বারবার টাকা বিনিয়োগ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত গত চার মাসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন তিনি।
রুবেল বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল ঘরে বসেই সহজে আয় করা যাবে। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের লোকসানে পড়ি। সেই ক্ষতি তুলতে গিয়ে বাবার ব্যবসার ক্যাশ থেকে টাকা নিয়েছি। বন্ধুদের কাছ থেকেও ধার করেছি। কিন্তু ক্ষতি আর পূরণ হয়নি; বরং ঋণ ও হারানো টাকার চাপ আরও বেড়েছে। এখন টাকার চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না, পড়াশোনাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

সাভারের বিরুলিয়া গোলাপগ্রামের একটি পোশাক কারখানার কর্মী নাঈম হাওলাদারও (ছদ্মনাম) অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ঢুকেছিলেন আরও সহজ এক পথে। টিকটকের একটি ভিডিওর মন্তব্যে থাকা একটি লিংকেই তিনি প্রথম জুয়ার সাইটে প্রবেশ করেন। সেখানে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে খেলা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। কৌতূহল থেকেই লিংকে ঢোকেন তিনি। শুরুতে কিছু লাভও হয়; কিন্তু পরে টানা হারতে থাকেন।
নাঈম বলেন, ‘নিজের জমানো টাকা শেষ হওয়ার পর স্ত্রীর কাছ থেকেও টাকা নিয়ে জুয়ায় বিনিয়োগ করেছি। এখন সংসারে প্রতিদিন অশান্তি। শুরুতে বিষয়টি সহজে কিছু টাকা আয় করার সুযোগ মনে হলেও পরে বুঝতে পারি, আমি আসলে একটি ফাঁদের মধ্যে পড়ে গেছি।’
অনলাইন জুয়া নিয়ে প্রায় ২ হাজার মামলা, নেই একটিও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: তানভীর জোহা
অনলাইন জুয়া বন্ধে শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্লক করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদ ও সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তার মতে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে প্রযুক্তিগতভাবে সাইট বন্ধ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
ঢাকা পোস্টকে তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘অনলাইন জুয়া বন্ধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কারণ, একটি সাইট বা অ্যাপ বন্ধ করে দিলেই অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি সাইট বন্ধ হওয়ার পর নতুন ডোমেইন বা বিকল্প মাধ্যমে একই কার্যক্রম আবার শুরু হয়।’
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আর্থিক লেনদেনের তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার প্রতিটি লেনদেনেরই একটি ট্রানজেকশন হিস্ট্রি থাকে। এসব লেনদেনের তথ্য যথাযথভাবে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হলে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, চক্র এবং অর্থের প্রবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’
অনলাইন জুয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেন এই সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘অনলাইন জুয়া নিয়ে প্রায় ২ হাজার মামলা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মামলা হওয়ার পরও যদি সেগুলোর দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।’
জুয়ার লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে নজরদারি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে শুধু ওয়েবসাইট ও লিংক ব্লক নয়, জুয়ার সঙ্গে যুক্ত অর্থের লেনদেনেও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত লেনদেন চিহ্নিত করতে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক বা মার্চেন্ট অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় শুধু লেনদেন শনাক্ত করাই নয়, জুয়ার অর্থের সম্ভাব্য প্রবাহ ঠেকাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো মার্চেন্ট যে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত হয়েছেন, তিনি বাস্তবে সেই এলাকাতেই ব্যবসা করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করার নির্দেশনাও রয়েছে। এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
জুয়া খেলায় ব্যবহৃত অবৈধ লেনদেন বন্ধ এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের নজরদারি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংক ও এমএফএস খাতে নজরদারি রয়েছে। অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
এদিকে, আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে যৌথ উদ্যোগ। অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের সচেতন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ যৌথভাবে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এতে অনলাইন জুয়ার সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান ও শাস্তির বিষয়ও তুলে ধরা হচ্ছে।
বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডির সঙ্গে যৌথভাবে এ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে বছরজুড়েই বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
তবে, অনলাইন জুয়াসহ সাইবার অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘অনলাইন জুয়া নিয়ে সিআইডি বরাবরই আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ বিষয়ে আমাদের নজরদারি রয়েছে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সিআইডির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
আরএইচটি/এমএআর
