বিজ্ঞাপন

চাঁদা, টেন্ডার ও ভুল চিকিৎসার অজুহাত: কর্মস্থলে অরক্ষিত চিকিৎসক

চাঁদা, টেন্ডার ও ভুল চিকিৎসার অজুহাত: কর্মস্থলে অরক্ষিত চিকিৎসক

দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। রোগীর মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ থেকে শুরু করে চাঁদা দাবি ও হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা— এমন অভিযোগ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার হলেও অনেক ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সব হামলার পেছনে একই ধরনের কারণ নেই। কোথাও রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে, কোথাও টেন্ডার নিয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও চাঁদা দাবির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার হলেও আসামিরা জামিনে মুক্ত হচ্ছেন, কিন্তু কোনো মামলারই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়নি। ফলে ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলা শুধু ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই; এর নেপথ্যে চাঁদা দাবি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মতো অপরাধ মূল ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি ঢামেক শিক্ষকের কাছে ডলারে চাঁদা না পেয়ে হামলা এবং ক্যানসার হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর টেন্ডার-সংক্রান্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মামলা ও গ্রেপ্তার হলেও বিচারিক অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ বাড়ছে

সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা এবং এসব ঘটনায় নেওয়া আইনি পদক্ষেপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হামলার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে সংঘটিত ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

ডা. মো. আসাদুর রহমানকে মারধর করে রক্তাক্ত করার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চক্র সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমান এবং আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ছিলেন।

dhakapost
ডা. মো. আসাদুর রহমানকে মারধর করে রক্তাক্ত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার একজনকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে / ছবি- সংগৃহীত

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি চিকিৎসকদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। সাত সদস্যের ওই চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

হামলার বিষয়ে ডা. আসাদুর রহমান বলেন, ‘আগস্টের ৬ তারিখ আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে। সেখানে ১৫ তারিখের মধ্যে আমাকে ১৫ হাজার ডলার দিতে বলা হয়। প্রথমে আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। পরে ১৭ তারিখ আমার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পরও বার্তা দিয়ে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই দায় চিকিৎসকের ওপর চাপানোর মানসিকতা এবং রাজনীতিবিদদের হাসপাতালে চড়াও হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষও আগ্রাসী হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না, তা কেবল বিশেষজ্ঞ বোর্ড নির্ধারণ করতে পারে। কোনো সাধারণ মানুষ বা গণমাধ্যম নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেলেও চিকিৎসককে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে

এর আগে ২০ এপ্রিল টেন্ডার পাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করলে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুরিকাঘাতে আহত চিকিৎসক হাসপাতালের কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। হাসপাতালের টেন্ডার পাওয়ার জন্য রুবেল নামে এক ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে তাকে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে আসছিলেন। রুবেলের বাবা ওই হাসপাতালে স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রুবেল অবগত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. আহমদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঘটনার আগে একটি বিদেশি নম্বর থেকে টেন্ডারের বিষয়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। তবে, আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। হামলার সময়ও দুর্বৃত্তরা কিছু বলেনি, পেছন থেকে এসে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে চলে যায়। তারা কেন আমার ওপর হামলা করল, তা এখনো বুঝতে পারছি না।’

ঘটনার পর জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল থেকে বদলির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন তিনি। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়। হামলার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে ডা. আহমদ বলেন, ‘ঘটনার পর একা কোথাও বের হওয়ার সাহস পাচ্ছি না।’ 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) রায়হান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় এখনও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। ঘটনার নেপথ্যে হাসপাতালের টেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয় জড়িত।

অন্যদিকে, চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ১৫ মে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লাল মিয়া কাজী নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. নাসিরের ওপর হামলা চালান রোগীর স্বজনেরা। 

dhakapost
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন / ছবি- সংগৃহীত

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করলে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আকরাম এলাহী জানান, আসামিরা সবাই জামিনে বের হয়েছেন। অভিযোগপত্র দাখিল হলে তাদের ডাকা হবে। মামলাটি চলমান রয়েছে এবং তারা সুষ্ঠু বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

ডা. নাসিরের ঘটনা ছাড়াও চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অন্তত ছয়টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘কোনো রোগী মারা গেলেই এর দায় চিকিৎসকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটি মানসিকতা সমাজে গড়ে উঠেছে। কোনো চিকিৎসকই চান না তার কাছে আসা কোনো রোগী মারা যাক। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসকেরা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যান। এরপরও প্রতিনিয়ত কর্মস্থলেই চিকিৎসকেরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে জনগণ ও রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে।’

ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘ইদানীং দেখতে পাচ্ছি, আমাদের রাজনীতিবিদেরা হাসপাতালে গিয়ে প্রকাশ্যে নানা কারণে চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন এবং এসব ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জনগণও চিকিৎসকদের প্রতি আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এতে নিজেদের কর্মস্থলেই চিকিৎসকেরা অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ৭৮ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে সেবা দিতে গিয়ে শঙ্কিত। কারণ, তারা বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। হামলার একটি বড় অংশ নানা কারণে রিপোর্টিং হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

ন্যাশনাল ডক্টরস অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ‘কোনো রোগীর মৃত্যু ভুল চিকিৎসার কারণে হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। কোনো সাধারণ মানুষ কিংবা গণমাধ্যমকর্মীর এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই।’

তিনি বলেন, ‘যেসব রোগীর মৃত্যুর পেছনে ভুল চিকিৎসার কথা বলা হয়, তাদের অনেকেই জরুরি বিভাগে মারা যান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগী হাসপাতালে আনার আগেই মারা যেতে পারেন। শুধু চিকিৎসক মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার কারণে তার ওপর হামলা করা হচ্ছে। এটি খুবই খারাপ চর্চা। পরে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ভুল চিকিৎসার বয়ান হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যমসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ছড়িয়ে দেন।’

dhakapost
শরীয়তপুরে হামলার শিকার ডা. নাসিরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা এখন জামিনে আছেন / ছবি- সংগৃহীত 

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার না হওয়ার বিষয়ে ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ‘অন্যান্য ক্যাডারের কোনো সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সবাই বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে একসঙ্গে অবস্থান নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মধ্যে সেই ঐক্যের জায়গাটি নেই। প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য নিয়ে চিকিৎসক ক্যাডার গঠিত। এরপরও চিকিৎসকেরা যেভাবে কর্মস্থলে হামলার শিকার হচ্ছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

চিকিৎসকদের সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য এখনও কোনো আইন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ অনেক দূর এগিয়েছিল। বর্তমানে সেটি কতদূর এগিয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারও এ আইন প্রণয়নের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে বলে শুনেছি। এমন আইন করা প্রয়োজন, যেখানে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে একটি আইনের খসড়া করা হয়েছে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আইনটি বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমএল/এমএআর/