দেশের ভূমি খাতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে ভূমি সেবার আধুনিকায়নে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ডিজিটাল জরিপ, অনলাইনে খাজনা পরিশোধ, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া— এমন নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার চেষ্টা করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) বা এসিল্যান্ডদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমি খাতের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, সাফল্য-ব্যর্থতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুছা মল্লিক।
ঢাকা পোস্ট: দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় দু-বছরে (১ বছর ১০ মাস ২২ দিন) ভূমি ব্যবস্থাপনার কী কী বড় সমস্যা আপনার সামনে এসেছে?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: আমরা অটোমেটেড বা ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের রেকর্ডপত্রের দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্ভুলতার অভাব। যেসব রেকর্ডপত্র রয়েছে, সেগুলোর বহু জায়গায় ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে। ভুল তথ্য এবং অসম্পূর্ণ রেকর্ড নিয়ে অটোমেটেড সেবা চালু করা বেশ কঠিন কাজ ছিল।
আমরা ইউএনডিপির (UNDP) সহায়তায় রেকর্ড সংশোধনের কাজ শুরু করেছি। প্রথমে পাঁচটি বিভাগের পাঁচটি জেলায় পাইলটিং সফলভাবে শেষ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ— এই তিন জেলায় কাজ শুরু করা হয়, যা এখন শেষের পথে। সম্প্রতি ইউএনডিপির সঙ্গে আবার চুক্তি হয়েছে; এর আওতায় বাকি ৫০টি জেলাসহ সর্বমোট ৬১টি জেলায় নতুন এন্ট্রি ও রেকর্ড সংশোধনের কাজ করা হবে।
ঢাকা পোস্ট: গত ১৭ বছরের ভূমি ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক চিত্রকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: আমাদের বর্তমান ভূমি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ চালু করেন, তখন থেকেই এই জটিলতার গোড়াপত্তন। ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করা।
তবে, সেখানে মূল গলদ ছিল— যুক্তরাজ্যের ল্যান্ডলর্ডরা প্রকৃত জমির মালিক হলেও এ দেশের জমিদাররা মালিক ছিলেন না, তারা ছিলেন মূলত খাজনা আদায়কারী মধ্যস্বত্বভোগী।

তারা একটা নির্দিষ্ট হারে খাজনা আদায় করতেন এবং সেটা সরকারের কাছে জমা দিতেন। বাকিটা তারা নিজেরা ব্যবহার করতেন। আরাম–আয়েশে সময় কাটাতেন। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা গেল, তাদের এই খাজনা আদায়ের সঙ্গে আরও কিছু মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত হয়ে গেল। এই যে নায়েব, তালুকদার, চৌধুরী— তারা প্রজাদের ওপর নির্যাতন বাড়ায়, যা আমাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেয়। তখন ভূমির আসল চাষীদের বলা হতো ‘রায়ত’ বা প্রজা।
পরবর্তীকালে ১৯৫০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে ‘স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট’ (SAT Act)-এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয় এবং ১৯৫৫ সালে বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট বা প্রজাস্বত্ব আইন করা হয়। এতে রায়ত বা প্রজাদের বদলে ‘ভূমি মালিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
তবে, সিএস ও আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) জরিপের পর থেকে রেকর্ড হালনাগাদ ও সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। কোথাও জরিপ শেষ হয়নি, আবার কোথাও ঘুষ লেনদেন ও অসততার মাধ্যমে অন্যের জমি অন্য নামে রেকর্ড হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দালাল চক্র। তা ছাড়া ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর যথাক্রমে ‘বিনিময় সম্পত্তি’, ‘শত্রু সম্পত্তি’, ‘অর্পিত সম্পত্তি’ ও ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ তৈরি হয়ে আইনি জটিলতা আরও বাড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৭ বছরে এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ঢাকা পোস্ট: দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো ভূমি সংক্রান্ত মামলা ঝুলছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়। তবে, পৃথকভাবে সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো ছিল না।
আমরা নিজস্ব আইনি টিম বা প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিলাম। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব সরকারি মামলার ব্যবস্থাপনা ‘সলিসিটর উইং’-এর অধীনে পরিচালিত হতে হবে। তবে, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও জনস্বার্থ জড়িত এমন বিশেষ কিছু মামলা আমরা মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে দ্রুত কজ-লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে তদারকি করছি।

ঢাকা পোস্ট: ভূমির সেবা দিচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়, কিন্তু জমি রেজিস্ট্রেশন করছে আইন মন্ত্রণালয়। এই দ্বৈত নীতি ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কি?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। ভূমির প্রধান তিনটি কাজের একটি হলো জমি হস্তান্তর বা রেজিস্ট্রেশন, যা পরিচালনা করে আইন মন্ত্রণালয়। বহু বছর ধরে দাবি উঠছে— সব সেবা একই ছাতার নিচে আনা উচিত, যাতে মানুষকে দফতরে দফতরে ঘুরতে না হয়।
পূর্বে এ সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আমরা ল্যান্ড ভ্যালুয়েশন বা ভূমি মূল্যায়ন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রারের জমি পরিদর্শনের বা জমির শ্রেণি পরিবর্তনের আইনি ক্ষমতা নেই। কিন্তু জেলা কালেক্টরের (ডিসি/ইউএনও) এই ক্ষমতা রয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম— কালেক্টরের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হোক।
জমি কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্য গোপন করায় দেশে প্রচুর কালো টাকা তৈরি হচ্ছে। যেমন— ১১ কোটি টাকার জমি ১ কোটি টাকা দেখিয়ে বাকি ১০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত রাখা হচ্ছে। যদি প্রকৃত মূল্য নিবন্ধনের নিয়ম করা হয় এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বিদ্যমান ১৯-২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪-৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, তবে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার ভোগান্তি কমবে। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা এটি কার্যকর করতে না দিলেও বর্তমান সরকার এটি নিয়ে কাজ করছে। সাউথ কোরিয়া ও বিশ্বব্যাংকের অনুদানে ল্যান্ড ভ্যালুয়েশন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রকল্প কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
ঢাকা পোস্ট: মাঠপর্যায়ে এসিল্যান্ড পদায়ন ও বদলিতে সম্প্রতি অসন্তোষ ও ডিমোরালাইজেশনের অভিযোগ উঠছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: এসিল্যান্ডরা মূলত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং আমরা বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় বণ্টন করি। তবে, মহানগরের সার্কেলগুলোতে ভূমি মন্ত্রণালয় সরাসরি পদায়ন করে থাকে।
মাঠপর্যায়ে ঘন ঘন ও নীতিমালার বাইরে বদলি হলে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ জন্য আমরা একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করেছি।
সম্প্রতি ৩৮তম ব্যাচ উইথড্র হয়ে ইউএনও/এডিসি হিসেবে যাচ্ছে এবং ৪০ ও ৪১তম ব্যাচ থেকে ১৭৫ জন নতুন কর্মকর্তা এসিল্যান্ড হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। তাদের ৫ সপ্তাহের মাঠ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চলে (বি বা সি গ্রেড উপজেলা) দায়িত্ব পালনকারীদের পর্যায়ক্রমে বড় উপজেলা (এ গ্রেড) বা ঢাকার কাছাকাছি পদায়ন করা হবে।
ঢাকা পোস্ট: বদলি নিয়ে তদবিরের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এর প্রতিকার কী?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: বদলির তদবির এখন ক্যানসারের মতো রূপ নিয়েছে। অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও সুপারিশ করেন। এ সংস্কৃতির লাগাম টানতে আমি দুটি প্রস্তাবিত পরিপত্র মাননীয় মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। তিনি স্বাক্ষর করলেই আমরা জারি করে ফেলব।
সেখানে বলা হয়েছে— কোনো কর্মকর্তা ন্যূনতম ২ বছর এক পদে না থাকলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় পক্ষ, এমপি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি দিয়ে বদলির তদবির করান, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় মামলা করা হবে।
পাশাপাশি, ভূমি অফিসের নিম্নপর্যায়ের কর্মচারী যেমন— সার্ভেয়ার বা ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা যাতে ১৩-১৪ বছর একই স্থানে থেকে অনিয়মে জড়াতে না পারেন, সে জন্য তিন বছর পূর্ণ হলেই তাদের বাধ্যতামূলক বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে; এগুলো নীতিমালায় উল্লেখ আছে।

ঢাকা পোস্ট: ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার কী ছিল?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত বিবরণীতে আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাত্র ৬টি কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, আমরা এই মেয়াদের মধ্যে তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছি।
ইতোমধ্যে আমাদের ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু উদ্যোগ চালুর অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তদারকিতে তৈরি বিশেষ অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’। অনেক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বা কাজে ফাঁকি দেন। এই অ্যাপটির মাধ্যমে তারা অফিসে উপস্থিত আছেন কি না, তা সহজেই নজরদারি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ৬টি জেলায় অ্যাপটির পাইলটিং সফলভাবে শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে মাঠ প্রশাসনে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। এসব অর্জন ও চলমান উদ্যোগই প্রমাণ করে ভূমি মন্ত্রণালয় স্বল্প সময়ে কতখানি অগ্রগতি সাধন করেছে।
ঢাকা পোস্ট: আগামী ৫ বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: আগামীতে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো অনলাইনে চালু করা সেবাগুলো যেন শতভাগ নির্ভুল ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে। দ্বিতীয়ত, দেশজুড়ে একটি নির্ভুল ডিজিটাল জরিপ শেষ করা। এটি সম্ভব হলে ভূমিসংক্রান্ত সিংহভাগ মামলা-মোকদ্দমা ও নাগরিক হয়রানির স্থায়ী অবসান ঘটবে।
পুরাতন পদ্ধতিতে জরিপ শেষ করা সম্ভব নয় বলেই আমরা আধুনিক ডিজিটাল জরিপের উদ্যোগ নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত উন্নত। তারা এই প্রকল্পে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ (মাত্র ০.০১% সুদে ও ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ কোরীয় মন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তাদের দেশে গিয়ে এ বিষয়ে আমরা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। প্রাথমিক সমীক্ষা বা প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের প্রি-ফিজিবিলিটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আমরা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি স্টাডিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
খুব দ্রুত ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলেই বোঝা যাবে কোনো মডেলে কম খরচে ও দ্রুততম সময়ে নির্ভুল জরিপ করা সম্ভব। এরপর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন করে মূল প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে পুরো ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে।

প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে দেশের ভূমি খাতের সব জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার চিরতরে নিরসন হবে এবং সাধারণ মানুষ যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভূমির নিগ্রহ থেকে মুক্তি পাবে।
ঢাকা পোস্ট: ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির অভিযোগ দূর করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
এ এস এম সালেহ আহমেদ: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়ম রোধে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রথমত, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ভূমি হুকুম দখল আইন, ২০১৭’-এর কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা এতদিন ছিল না। আমরা সম্প্রতি সেই বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। ফলে মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এখন আইনি ও পরিচালনাগত ধাপগুলো স্পষ্ট ও সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি প্রকৃত পাওনাদারের কাছে পৌঁছাতে আমরা একটি বিশেষ সফটওয়্যার ও ওয়েব অ্যাপ তৈরি করেছি। সাধারণত দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সহজে টাকা পান না এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্যের শিকার হন। অনেকে বছরের পর বছর ধরে ঘুরতে থাকেন, এমনকি জালিয়াতির ঘটনাও ঘটে।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় অধিগ্রহণের সময়ই গ্রহীতার পূর্ণাঙ্গ তথ্যের পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (iBas++) মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
সফটওয়্যারটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ এবং শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হবে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং বিধিমালা কার্যকর হলে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভোগান্তি, দুর্নীতি ও আইনি জটিলতার স্থায়ী সমাধান হবে।
ঢাকা পোস্ট: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
এ এস এম সালেহ আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। ঢাকা পোস্টের জন্য শুভকামনা।
এমএম/এমএআর
