বিজ্ঞাপন

ট্রেনে চালু হতেই চুরির হিড়িক: উধাও মূল্যবান স্টারলিংক ডিভাইস

ট্রেনে চালু হতেই চুরির হিড়িক: উধাও মূল্যবান স্টারলিংক ডিভাইস

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছিল উচ্চগতির স্যাটেলাইটভিত্তিক ‘স্টারলিংক’ ওয়াই-ফাই সেবা। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়াও মিলেছিল। তবে, সেবাটি চালু হতে না হতেই প্রযুক্তির এই আধুনিক প্রযুক্তিসমগ্র নিরাপত্তার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কার্যক্রম শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে বসানো দামি তারহীন সংযোগযন্ত্র একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট রুটের ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এর ছাদ থেকে আস্ত স্টারলিংক ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রেনের ছাদে যে স্থানে মূল্যবান অ্যান্টেনাটি বসানো ছিল, সেখানে এখন কেবল ফাঁকা হোল্ডারটি পড়ে আছে। শুধু উপবন এক্সপ্রেসই নয়; পারাবত, পর্যটক ও বনলতা এক্সপ্রেসের মতো পরীক্ষামূলক তালিকায় থাকা অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কোনো কোনো বগিতে চুরি হওয়া যন্ত্র নতুন করে প্রতিস্থাপন করার পরও ফের তা চুরি হয়ে গেছে।

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া উচ্চগতির ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট ওয়াই-ফাই সেবা শুরুর মাত্র ৬ মাসের মাথায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। উপবন, পারাবত, পর্যটক ও বনলতা এক্সপ্রেসের মতো চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনের বগি ও ছাদ থেকে একাধিকবার দামি তারহীন সংযোগযন্ত্র ও ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা চুরি হয়ে গেছে, যা সরকারের এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলেছে

প্রযুক্তিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি কোনো জটিলতা না থাকলেও যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চুরির ধাক্কা সামলে নতুন ডিভাইস প্রতিস্থাপন এবং ট্রেন সচল থাকা অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ করাই এখন মূল বাধা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সব আন্তঃনগর ট্রেনে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার যে বড় পরিকল্পনা ছিল, তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

dhakapost

ট্রেনে স্টারলিংকের দামি যন্ত্রপাতি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। ঢাকা পোস্ট-কে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্রেনেই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছিল। তবে, উপবন এক্সপ্রেসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে এবং অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আজই (১ সেপ্টেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা খুব শিগগিরই একটি সমন্বিত সভায় বসতে চাইছি। আমাদের সক্ষমতারও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সক্ষমতার ঘাটতি থাকলে এত দামি যন্ত্রপাতি রক্ষা করাও কঠিন। প্রতিটি ট্রেনে স্টারলিংক সেবা স্থাপনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছি।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক সংযোগ শুরু হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ নির্দেশনায় এতে মূল কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস— এই চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট রুটের ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এর ছাদ থেকে সরাসরি স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল বা ফ্ল্যাট অ্যান্টেনাটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহণের প্রধান মাধ্যম এই অ্যান্টেনা চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থাটিই অচল হয়ে পড়েছে। বিএসসিএলের পক্ষ থেকে বারবার ডিভাইস প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও একই ধরনের চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটছে

মূলত চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট কতটুকু কার্যকর এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যাত্রীরা এটি কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা যাচাই করাই ছিল এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সেবাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে কারিগরি বা ব্যবস্থাপনাগত কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। সহজে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিটি বগিতে কিউআর কোড যুক্ত করা হয়; যাত্রীরা মোবাইল ফোনে সেই কোড স্ক্যান করেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ পাওয়ার সুযোগ পান।

dhakapost

পরীক্ষামূলক এই সেবায় যাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ট্রেনে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ টেরাবাইট (টিবি) ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার যেসব রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল বা একেবারেই পাওয়া যায় না, সেখানে স্যাটেলাইটনির্ভর এই ইন্টারনেট যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তবে, যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া এবং প্রাথমিক সাফল্য মিললেও উদ্যোগটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দামি প্রযুক্তি সরঞ্জামের নিরাপত্তা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু করা চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের প্রতিটিতেই কোনো না কোনো পর্যায়ে তারহীন সংযোগযন্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া কিছু যন্ত্র বিএসসিএলের পক্ষ থেকে পুনরায় বসানো হলেও, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পরও আবার চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এতে যেমন সরকারি রাজস্বে কেনা মূল্যবান সরঞ্জামের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের জন্য চালু থাকা এই আধুনিক নাগরিক সুবিধা।

সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট রুটের ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এ বসানো স্টারলিংকের ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা ও সংশ্লিষ্ট আধুনিক ডিভাইসটি চুরি হয়ে যায়। ট্রেনের ছাদে অ্যান্টেনাটি যেখানে স্থাপন করা হয়েছিল, বর্তমানে সেখানে কেবল এর খালি হোল্ডারটি পড়ে আছে। অথচ চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ বজায় রাখতে এই ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা বা স্যাটেলাইট টার্মিনালটিই প্রধান ভূমিকা পালন করে।

প্রযুক্তিবিদরা জানান, ট্রেনের ছাদে থাকা এই ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা মূলত মহাকাশের কক্ষে থাকা স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সংকেত বা ইন্টারনেট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ডিভাইসের সাহায্যে সেই সংযোগকে ওয়াই-ফাই হিসেবে যাত্রীদের ব্যবহারের উপযোগী করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ছাদের মূল অ্যান্টেনাটিই খুলে নিয়ে যাওয়ায় পুরো ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থাটিই অচল হয়ে পড়েছে। একইভাবে বগির ভেতরের তারহীন সংযোগ যন্ত্রগুলোও সংযোগ সরবরাহে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত একজন যাত্রী কেবল কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ইন্টারনেটে যুক্ত হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করে ছাদে স্থাপিত স্যাটেলাইট টার্মিনাল, ভেতরের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও তারহীন যন্ত্রের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। ফলে এর যেকোনো একটি অংশ চুরি বা নষ্ট হলে পুরো সেবাটিই ধসে পড়ে। তবে, যন্ত্রপাতি চুরির পরও সেবা সচল রাখতে প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট-কে তিনি বলেন, সরকারের ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই চলন্ত ট্রেনে এই স্যাটেলাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারও মানুষ বিনামূল্যে সংযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। মাঝে মাঝে কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হলেও আমরা তা দ্রুত নতুন করে বসিয়ে দিচ্ছি। সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে বিএসসিএল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ডিজি-এডিজির মুখে কুলুপ

চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তারা।

গত ৩১ আগস্ট রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন না ধরায় পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে স্টারলিংকের অ্যান্টেনাসহ ডিভাইস চুরির ঘটনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং এ বিষয়ে রেলওয়ের প্রশাসনিক পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়। তবে, তিনি নিজে কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ডিজির নির্দেশনা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বার ডিজি মো. আফজাল হোসেনকে জানানো হলে তিনি বার্তা দেখলেও কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ফলে ট্রেনের মতো সংবেদনশীল স্থানে দামি কারিগরি সরঞ্জাম চুরির প্রতিকার এবং ভবিষ্যতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও কৌশল সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি।

dhakapost

সাড়া মেলেনি মন্ত্রী ও উপদেষ্টারও

ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ চালুর উদ্যোগে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। চলন্ত ট্রেনে ডিভাইস চুরির ঘটনা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে যন্ত্র চুরির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও করণীয় জানতে চাওয়া হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডিভাইস চুরির বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠিয়েও এডিজির কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি ডিজিকে জানালেও তিনি মন্তব্য করেননি। একই ইস্যুতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারোরই বক্তব্য পাওয়া যায়নি

একই বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এক অ্যাকাউন্টেই মিলবে ট্রেন, বাস ও ফেরির ইন্টারনেট

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ট্রেনে যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর এই সুবিধা কেবল রেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গণপরিবহনেও কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক এই সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর নারীদের জন্য নির্ধারিত ‘পিঙ্ক বাস’-এ পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু করে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের দূরপাল্লার বাস ও ফেরিতেও স্যাটেলাইট সংযোগ চালুর বিষয়ে কাজ চলছে।

তবে, বিএসসিএলের পরিকল্পনা কেবল প্রতিটি যানবাহনে আলাদা নেটওয়ার্ক চালুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার ফলে একজন যাত্রী একটি মাত্র ইউজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই ট্রেন, বাস ও ফেরিতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ফলে পরিবহন পরিবর্তনের পর নতুন করে সংযোগ নেওয়া বা পৃথক প্যাকেজ কেনার কোনো ঝামেলা থাকবে না।

বিএসসিএল জানায়, দেশের যেসব দূরপাল্লার নৌ ও সড়কপথে মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক দুর্বল, অনিয়মিত বা একেবারেই অনুপস্থিত, সেসব স্থানে এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে অভ্যস্ত করতে এবং উপযোগিতা যাচাইয়ে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটিকে স্বাবলম্বী রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। সে লক্ষ্যে এটিকে সম্পূর্ণ ভর্তুকিনির্ভর না রেখে একটি টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্যিক মডেলে রূপান্তরের কথা ভাবছে বিএসসিএল।

আরএইচটি/এমএআর