বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণের টাকা ঘিরে স্বস্তি, হতাশা ও ভোগান্তির চিত্র

শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণের টাকা ঘিরে স্বস্তি, হতাশা ও ভোগান্তির চিত্র

দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ১৫ আগস্ট অবসর ও কল্যাণ সুবিধার আংশিক টাকা পেয়েছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রায় ২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ছাড়ের উদ্যোগে অনেকের মুখে ফিরেছে স্বস্তি। তবে, পুরো পাওনা না পাওয়ায় বড় একটি অংশে দেখা দিয়েছে হতাশা। আবার বিভিন্ন জটিলতায় টাকা না পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে ম্যানুয়ালি কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের পাওনা ঘিরে একই সঙ্গে সামনে এসেছে স্বস্তি, হতাশা ও ভোগান্তির তিন ভিন্ন চিত্র।

অবসরপ্রাপ্ত এসব শিক্ষক-কর্মচারীর সামনে এখন বড় প্রশ্ন— প্রথম ধাপে পাওয়া টাকার পর বাকি পাওনা কবে মিলবে, আর যারা এখনও পাননি, তাদের প্রদেয় অর্থ পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এই অনিশ্চয়তার দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে ঢাকার ইস্কাটন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা সেখানে ছুটে আসছেন নিজেদের পাওনার খোঁজ নিতে।

গত সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে ভিড় করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী ও তাদের স্বজনেরা। কারও হাতে আবেদনসংক্রান্ত নথি, কারও কাছে ব্যাংক হিসাবের কাগজ, আবার কেউ এনেছেন অবসরসংক্রান্ত পুরোনো কাগজপত্র। কেউ টাকা না পাওয়ার কারণ জানতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন, কেউ ফাইল জমা দেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অনেক শিক্ষককেও দীর্ঘ সময় লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

অপেক্ষমাণ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের জট এবার কাটবে এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, নমিনি কিংবা অন্য কোনো তথ্যের অসঙ্গতির কারণে অনেকের হিসাবেই টাকা পৌঁছায়নি। ফলে সমস্যার কারণ জানতে আবারও কাগজপত্র হাতে ঢাকায় আসতে হয়েছে। কারও সঙ্গে এসেছেন সন্তান, কারও সঙ্গে স্বজন। দূরের জেলা থেকে এসে এক দিনে কাজ শেষ না হলে বাড়ছে থাকা-খাওয়ার খরচও।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১ লাখ ২৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ২,০৩৫ কোটি টাকার আংশিক অবসর ও কল্যাণ ভাতা পেয়েছেন। বড় অঙ্কের এই অর্থ ছাড় অনেকের মুখে সাময়িক স্বস্তি ফেরালেও প্রাপ্তি মোট পাওনার তুলনায় বেশ কম হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে চরম হতাশা ও বকেয়া পাওয়ার নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে

ময়মনসিংহ থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘অবসরের পর পাওনা টাকার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। এই টাকার ওপর চিকিৎসা ও সংসারের অনেকটা নির্ভর করছে। সহকর্মীরা টাকা পাওয়ার পর আশা করেছিলাম সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু টাকা না আসায় আবার ঢাকায় এসে কাগজ জমা দিতে হয়েছে। এখন দেখার বিষয় কবে টাকা পাওয়া যায়।’

dhakapost

নুরুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষক বলেন, ‘চাকরিজীবনে নিয়মিত বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অবসরের পর সেই টাকা পেতে এত বছর অপেক্ষা করতে হলো। এখন টাকা দেওয়ার সময়ও যদি নানা জটিলতায় আটকে থাকতে হয়, তবে তা খুবই কষ্টের।’

দীর্ঘদিন পর টাকা মিললেও হতাশা কাটেনি

গত ১৫ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রথম ধাপে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭ জনসহ মোট ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে টাকা দেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা পড়ায় অনেকে স্বস্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে অবসরের পর চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে যারা এই সুবিধার ওপর নির্ভর করছিলেন, তাদের জন্য এই অর্থ ছিল বড় ভরসা। তবে, টাকা পাওয়ার পরও অনেকে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না, কারণ প্রথম ধাপে দেওয়া অর্থ তাদের মোট পাওনার তুলনায় বেশ কম।

চাকরিকালীন বেতনের একটি অংশ অবসর ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার পর অবসরের সময় বড় অঙ্কের সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কয়েক লাখ টাকা হাতে এলেও বাকি পাওনা কবে মিলবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইবাস++ (iBAS++) পে-রোলে এনআইডি, ব্যাংক হিসাব বা নমিনি সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল থাকায় অর্থ না পেয়ে বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি ফাইল জমা দিতে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে ৯টি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকে শিক্ষকদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা আটকে থাকায় পাওনা পরিশোধ ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে পদের স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। যাদের মোট পাওনা এর চেয়ে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই অর্থ এসেছে প্রথম কিস্তি হিসেবে। বাকি অংশের জন্য তাদের আবার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মূল বেতনের ৬ শতাংশ অবসর সুবিধার জন্য এবং ৪ শতাংশ কল্যাণ সুবিধার জন্য কেটে রাখা হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তাই অনেকেরই মোট পাওনার পরিমাণ বেশ বড়। গাজীপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, ‘টাকা পেয়েছি, এটা ভালো খবর। কিন্তু পুরো টাকা না পাওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। আবার কবে বাকি টাকা আসবে, সেই নতুন অপেক্ষা শুরু হলো।’

শফিকুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষক বলেন, ‘অবসরের পর এই সুবিধা আমাদের কাছে শুধু আর্থিক পাওনা নয়, এটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঞ্চিত অধিকার। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে, কেউ সন্তানের পড়াশোনা, আবার কেউ সংসারের জরুরি ব্যয় মেটাতে এই টাকার ওপর নির্ভর করেছিলেন। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার পর অর্থ পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে বাকি পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তাও থেকে যাচ্ছে।’

dhakapost

টাকা না পেয়ে ঢাকায়, ম্যানুয়ালি কাগজ জমা শিক্ষকদের

প্রথম ধাপে টাকা না পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এখন নতুন ভোগান্তির নাম ঢাকা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইস্কাটন রোডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসে তাদের ম্যানুয়ালি কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে। কারও ব্যাংক হিসাবের তথ্য ঠিক নেই, কারও জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আবেদনের তথ্যের মিল নেই, আবার কারও ক্ষেত্রে নমিনি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করে পাওনা পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে কেউ ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ কাগজপত্র গোছাচ্ছেন। অনেকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানাতে চাইছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে রয়েছেন তাদের সন্তান বা স্বজন। কেউ কেউ দপ্তরের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে কয়েকজনের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেছেন, অবসরের পর পাওনা সুবিধার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার যখন অর্থ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলো, তখনও তাদের অনেকের হিসাবে টাকা পৌঁছায়নি। ফলে পাওনা পাওয়ার জন্য আবার কাগজপত্র হাতে নিয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছে। এতে একদিকে যাতায়াত ও থাকার খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ব্যাংকে টাকা না পৌঁছানোয় নতুন ভোগান্তি

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম ধাপে ‘iBAS++’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সবার অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছায়নি। ব্যাংক হিসাবের তথ্যের অসঙ্গতি, নিষ্ক্রিয় হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যা, নমিনি-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা মৃত্যুর পর তথ্য হালনাগাদ না থাকায় অনেকের টাকা ফেরত এসেছে।

এ কারণে টাকা না পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাই ও সংশোধনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-কর্মচারীদের ঢাকায় এসে নথি জমা দিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, ডিজিটাল ব্যবস্থায় অর্থ পাঠানো হলেও তথ্যের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তা সমাধানের জন্য সরাসরি তাদের দপ্তরে আসতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের পাওনা পেতে নতুন করে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, প্রথম পর্যায়ে যাদের টাকা ব্যাংক হিসাবে যায়নি, তাদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, প্রথম ধাপে টাকা পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বাকি পাওনা কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকি অর্থ কিস্তিতে দেওয়া হবে, নাকি একসঙ্গে দেওয়া হবে— এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থসংকট ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় আটকে ছিল বড় অংশের পাওনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, অবসর ও কল্যাণ সুবিধার বকেয়া পরিশোধে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অর্থসংকট ছিল। চাকরিজীবনে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে কেটে নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের জমে থাকা বকেয়া মেটাতে এককালীন বিপুল অঙ্কের তহবিলের প্রয়োজন পড়ে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাতে থাকা অর্থ দিয়ে একসঙ্গে সব শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না। সীমিত অর্থ দিয়ে আগের পদ্ধতিতে পরিশোধ করলে কিছু শিক্ষক টাকা পেলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষক আবার অপেক্ষায় থেকে যেতেন। এভাবে চললে বাকি পাওনা পরিশোধে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারত।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে সরকার অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, iBAS++ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য যাচাই ও অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ৬৪ জেলার তথ্য যাচাই, সভা এবং তালিকা চূড়ান্ত করার পর প্রথম ধাপে বড়সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে অর্থ পাঠানো হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু অবসর সুবিধার আওতায় থাকা প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর বাকি পাওনা পরিশোধ করতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সরকার এই অর্থের সংস্থান করে বাকি পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করছে।

এছাড়া, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পেছনে অর্থসংকটের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগে তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় অনেক কাজ ম্যানুয়ালি করতে হতো। এতে আবেদন যাচাই, নথি মিলিয়ে দেখা এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংশোধনে সময় লাগত। শিক্ষক-কর্মচারীদেরও বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আসতে হতো।

dhakapost

৯ ব্যাংকে থাকা টাকা নিয়েও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষকদের কষ্টার্জিত অর্থ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ওই সময় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে রাখা শিক্ষকদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বর্তমানে আদায়-সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছে।

এই টাকার বর্তমান অবস্থা, কতটা ব্যবহারযোগ্য এবং কীভাবে তা সংশ্লিষ্ট তহবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে— এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জটিলতা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে, বর্তমানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে যাদের পাওনা রয়েছে, তাদের অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।

বাকি টাকা কবে, সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও

প্রথম ধাপে আংশিক অর্থছাড়ের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— অবশিষ্ট পাওনা ঠিক কবে মিলবে? যারা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন, তাদের বাকি অংশ পরিশোধের বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঠিক হয়নি। একইভাবে, বিভিন্ন জটিলতায় প্রথম ধাপে যাদের টাকা আটকে গেছে, তাদের অ্যাকাউন্টে কবে অর্থ জমা হবে, তাও নির্ভর করছে তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় ফান্ডের সংস্থানের ওপর।

এ বিষয়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব মোশাররফ হোসেন ঢাকা পোস্ট-কে বলেন, ‘প্রথম দফায় যাদের টাকা আটকে গেছে, তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে, প্রথম ধাপে আংশিক অর্থ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বাকি পাওনা কবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঢাকা পোস্ট-কে বলেন, ‘আমাদের হাতে যে পরিমাণ টাকা এসেছে, তা আমরা দিয়েছি। পরবর্তী ধাপে যখনই নতুন ফান্ড আসবে, তখন বাকি টাকা দেওয়া হবে।’

চলতি অর্থবছরেই বাকি অর্থ মেটানো সম্ভব হবে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যখনই ফান্ড আসবে, তখনই দেওয়া হবে।’

আরএইচটি/এমএআর/