সময় থাকতেই ‘হার্টের সুস্থতা’ নিশ্চিতে ভাবা জরুরি

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৪৫ পিএম


সময় থাকতেই ‘হার্টের সুস্থতা’ নিশ্চিতে ভাবা জরুরি

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ মারা যান। আর এই রোগে শুধুমাত্র বাংলাদেশে প্রতিবছর মারা যান প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ। এই অবস্থায় সময় থাকতেই সবাইকে নিজেদের হার্টের সুস্থতা নিশ্চিতে ভাবা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে এভারকেয়ার হাসপাতাল আয়োজিত পেশেন্ট ফোরাম ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব বলেন। এবারের হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হৃদয় দিয়ে প্রতিটি হার্টের যত্ন নিন’।

এসময় এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবউদ্দিন তালুকদার বলেন, দেহে রোগ শনাক্তের পর চিকিৎসার নানা সুযোগ থাকলেও জীবনযাত্রা আগের মতো স্বাভাবিক না থাকার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে হৃদরোগের ক্ষেত্রে। তাই সময় থাকতেই হার্টের সুস্থতা নিশ্চিতে সবার নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠুন। হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

হাসপাতালটির মেডিকেল সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের হার্টবিটই ভিন্ন। তাদের সেবার প্রয়োজনগুলোও ভিন্ন। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা প্রতিটি কার্ডিয়াক রোগীর বিশেষ যত্ন, সুস্থতা ও আস্থা অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের রয়েছে ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারি, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, হার্ট ফেইলিওর অ্যান্ড অ্যারিদমিয়া ইউনিটের মতো বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। তাই সবার প্রতি আমার আহ্বান হার্টের প্রতি যত্নশীল হোন। যেকোনো প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন।

অনুষ্ঠানে হার্ট ফেইলিওর ও অ্যারিদমিয়া ইউনিটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. আতাহার আলী বলেন, সাধারণ জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কোনো উপসর্গকেই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. তাহেরা নাজরীন বলেন, শিশুদের হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শিশু হৃদরোগ চিকিৎসাযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য।

কার্ডিওথোরাসিস ও ভাস্কুলার সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. সোহেল আহমেদ বলেন, আমরা মনের অজান্তেই দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির অবহেলা করি। তাই হার্টের যত্নে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে আস্থা বজায় রাখতে হবে। বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে বলে আমি মনে করি।

টিআই/এমএইচএস

Link copied