করোনা বাড়ায় সীমান্তে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুন ২০২১, ১৩:১৬


করোনা বাড়ায় সীমান্তে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম। এসব এলাকায় সংক্রমণ মোকাবেলায় তাই জরুরি ভিত্তিতে বাজেটে আলাদা থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য হাসপাতালসহ ঢাকার সরকারি বড় হাসপাতালগুলোকেও এগিয়ে আসা জরুরি।

সোমবার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ‘বাজেট ২০২১-২২: স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও উন্নয়ন সমন্বয় সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে।

অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা সীমান্তে করোনা সংক্রমণের অবস্থা দেখতে পাচ্ছি। হাসপাতালগুলোতে রোগীর জায়গা হচ্ছে না। কিন্তু আসন্ন বাজেটে (২০২১-২২) সীমান্তে সংক্রমণ প্রতিরোধে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। বাজেটে অবশ্যই সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ মোকাবিলায় আলাদা বরাদ্দের কথা ভাবা যায়।’

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখছি ওসব এলাকায় সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে রাজশাহী মেডিকেলের ওপর ক্রমান্বয়ে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। শুধু তাদের ওপরই এককভাবে চাপ প্রয়োগ করলে সেখানকার স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়বে। তাই পার্শ্ববর্তী খুলনা মেডিকেলকেও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও চলমান সংকট মোকাবেলায় ঢাকার বড় হাসপাতালগুলো এগিয়ে আসতে পারে।’

dhaka post
বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী

সীমান্তে যুদ্ধকালীন অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা হাসপাতালগুলোকে সর্বক্ষণ ঢাকার বড় পাবলিক হাসপাতালের সঙ্গে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সেখানে এখন প্রায় যুদ্ধকালীন অবস্থা বিরাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোট বরাদ্দে মধ্যম মেয়াদে অর্থাৎ ৮ম পরিকল্পনার সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বাজেটের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ বরাদ্দ করার লক্ষ্য স্থির করা উচিত। উন্নয়ন বরাদ্দে আসন্ন অর্থবছরে স্বাস্থ্য এডিপির ৮০-৮৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে হবে। মধ্যম মেয়াদে এই বাস্তবায়ন হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা চাই।’

সাবেক এই গভর্নর বলেন, প্রাইমারি স্বাস্থ্য সেবা উপখাতে স্বল্প মেয়াদে মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। আর মধ্য মেয়াদে এ অনুপাত ৩৫-৪০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও ওষুধ, চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা বাবদ বরাদ্দ বাড়ালে দরিদ্র জনগণের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমবে। স্বল্প মেয়াদে এ বাবদ বরাদ্দের অনুপাত ২৫ শতাংশ এবং মধ্য মেয়াদে ৩০-৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া চাই।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক ড. মুশতাক রাজা চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ এবং সমাজতাত্ত্বিক ও উন্নয়ন সমন্বয়ের এমেরিটাস ফেলো খন্দকার সাখাওয়াত আলী।

করোনা অতিমারির মধ্যে বসেছে মহান জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। গত ৩ জুন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপিত হয়েছে। বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ সব সময়ই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। অতিমারির কারণে এবার স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

টিআই/এমএইচএস

Link copied