বিএমইউতে ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরু

ক্যান্সার চিকিৎসায় গতানুগতিক সচেতনতা কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে এবার তথ্যনির্ভর ও রোগীকেন্দ্রিক আধুনিক ব্যবস্থাপনার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। চিকিৎসা, তথ্য ও সেবাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু করা হয়েছে ইএমআর ও ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বিএমইউর বি-ব্লকে সচেতনতামূলক র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এসব তথ্য জানান।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল– ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক-স্বকীয়তায় ঐক্যবদ্ধ’।
র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেম ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে– রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস ও রোগের ধরন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে।

চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসায় কেবল দক্ষ চিকিৎসক বা আধুনিক যন্ত্রই যথেষ্ট নয়। নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। ক্যান্সার রেজিস্ট্রি ও ইএমআর চালুর ফলে চিকিৎসা হবে আরও স্বচ্ছ, ধারাবাহিক ও রোগীকেন্দ্রিক।’
এদিন ক্যান্সার রোগী ও তাদের দেখাশোনাকারীদের (কেয়ারগিভার) জন্য একটি সমন্বিত ‘পেশেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও নতুন উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় রোগী ও তার পরিবারকে রোগের প্রকৃতি, চিকিৎসা পদ্ধতি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পুষ্টি এবং মানসিক সহায়তা বিষয়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখায়াত হোসেন সায়ন্থ, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মো. আনোয়ারুল করিম, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মতিউর রহমান ভূঞা, গাইনীকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
টিআই/বিআরইউ