চেন্নাইয়ে বাংলাদেশি শিশুর শরীরে ‘স্মার্ট কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’ স্থাপিত

ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো চিলড্রেন’স হাসপাতাল সফলভাবে তামিলনাড়ুর প্রথম ‘Cochlear Nucleus Nexa™️’ ইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ব শ্রবণ দিবস (৩ মার্চ) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অস্ত্রোপচারটি উন্নত শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড. ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি-এর নেতৃত্বে এই যুগান্তকারী পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে অ্যাপোলো হাসপাতাল ভারতে এই পরবর্তী প্রজন্মের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রযুক্তি চালু করা প্রথম সারির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
এই অগ্রগামী অস্ত্রোপচারের সুফলভোগী বাংলাদেশ থেকে আসা ৯ বছর বয়সী এক কন্যা শিশু। উন্নত শ্রবণ সেবার খোঁজে সে বিশেষভাবে চেন্নাই ভ্রমণ করেছে। শিশুটি জন্ম থেকেই দুই কানে তীব্র শ্রবণশক্তিহীনতা এবং কথা বলা ও ভাষা প্রকাশজনিত সমস্যায় ভুগছিল।
চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহগুলোতে পরবর্তী ধাপ শুরু হবে, যেখানে এক্সটার্নাল সাউন্ড প্রসেসরটি সক্রিয় ও প্রোগ্রাম করা হবে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছে এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী প্রোটোকল অনুযায়ী নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
Cochlear Nucleus Nexa হলো ‘NEXOS™️’ চিপসেট দ্বারা চালিত বিশ্বের প্রথম স্মার্ট কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সিস্টেম। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপগ্রেড করা যায়। ফলে নতুন কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীরা আধুনিক সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এই প্রযুক্তি শ্রেণিকক্ষ বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে শব্দ পরিষ্কারভাবে শুনতে এবং কথা বুঝতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
এই মাইলফলক সম্পর্কে ড. ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি বলেন, শিশুদের জন্য এই স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি তাদের কথা বলা, ভাষার বিকাশ, একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আমরা আধুনিক উদ্ভাবনের সাথে সঠিক পুনর্বাসনের সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করি।
অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই অঞ্চলের সিইও ড. ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি বলেন, এই সফল অস্ত্রোপচারটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বিশ্বমানের উন্নত শ্রবণ সমাধান প্রদানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শিশুদের জন্য এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এমএন